আর্জেন্টিনা ৩–২ মিসর: আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য ফেরা
বাঁশি বাজল যোগ করা সময়ের ১২তম মিনিটে। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে আর্জেন্টিনা উঠে গেল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।
কাঁদছেন মেসি। সতীর্থদের আলিঙ্গনে সেই কান্না যেন আরও বেড়ে চলেছে। মেসি কাঁদছেন দর্শকের দিকে তাকিয়েও।
৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে পিছিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পথ ছিল মাত্র কয়েক মিনিট দূরে। এরপরই আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, আর তা মেসির হাত ধরেই।
৭৯তম মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে একটি গোল শোধ দিলেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। ৮৩ মিনিটে ম্যাচে সমতা নিয়ে এলেন মেসি নিজেই। মূলত, তখনই ‘লাইফলাইন’ পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা, জেগে ওঠে মেসির বিশ্বকাপে টিকে থাকার সম্ভাবনাও।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের ক্রসে এনজো ফার্নান্দেজের হেড করে দেয় বাকি কাজটা। ৩–২ গোলে জিতে আর্জেন্টিনা উঠে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে, মেসিও বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকলেন আরও কিছুটা সময়।
আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য ফেরা
২–০ গোলে ৩–২ করল আর্জেন্টিনা। দুর্দান্ত এক প্রতি আক্রমণে লাওতারোর মার্তিনেজের ক্রসে হেডে গোলটি করেছেন এনজো ফার্নান্দেজ।
ম্যাচে ফিরল আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনা ২ : ২ মিসর
আর্জেন্টিনাকে আবারও বাঁচালেন মেসিi! দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আক্রমণ গড়ে তোলার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লাওতারো মার্তিনেজ। বলটি বদলি খেলোয়াড় গনসালো মন্তিয়েলের গায়ে লেগে চলে আসে মেসির সামনে। সুযোগ পেয়েই শট নেন তিনি। মিসরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবাইর বলে হাত ছোঁয়াতে পারলেও তা পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। বল ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।
এবারের বিশ্বকাপ যেন একের পর এক রোমাঞ্চকর নাটকের জন্ম দিয়েই চলেছে।
আর্জেন্টিনা ১ : ২ মিসর
এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি।
৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস ভাসিয়ে দেন লিওনেল মেসি। সেই বলের দারুণ ব্যবহার করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। কোনো বাধা ছাড়াই জোরালো হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালে।
অবশেষে শোবেরের জাল ভেদ করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে ফেরার আশা জিইয়ে রাখল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অবিশ্বাস্য, ২–০ গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা
এবার আর কোনো সন্দেহ নেই। ২–০ গোলের লিডটা নিয়েই ছাড়ল মিসর। গোল করেছেন মোস্তাফা জিকো। অবিশ্বাস্য এক গল্পের জন্ম দিচ্ছে মিসর।
গোলটিও ছিল দারুণ। ‘ক্লাসিক কাউন্টার অ্যাটাকে’ আক্রমণের সূচনা করেন মোহাম্মদ সালাহ। তিনি ডান প্রান্তে বল বাড়িয়ে দেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা হাইসেম হাসানের কাছে। হাসান নিচু ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন বক্সের মাঝখানে, আর কোনো মার্কিং ছাড়াই থাকা জিকো সহজ এক শটে বল জালে পাঠান।
শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা এখন ভয়ংকর চাপে। তারা ইতোমধ্যেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়েছে।
আর্জেন্টিনা ০ : ১ মিসর
মিসরের গোলের ঠিক আগে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজর এর পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন মারওয়ান আত্তিয়া।
ভিএআরের দ্রুত হস্তক্ষেপের পর ঘটনাটি ফাউল হিসেবে ধরা হয় এবং শেষ পর্যন্ত মিসরের গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।
আর্জেন্টিনা ০ : ১ মিসর (হাফ টাইম)
প্রথমার্ধের বাঁশি বাজল। পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ল আর্জেন্টিনা। ৪৫ মিনিটের খেলায় ৬০ শতাংশ বলই ছিল স্কালোনির দলের দখলে, সবচেয়ে বেশি ৭টি শটও। তবে দুটি শট নিয়েই ম্যাচে এগিয়ে মিসর।
৩১ মিনিট: মেসির বুলেট গতির শট প্রতিহত পোস্টে!
আর্জেন্টিনা ০–১ মিসর
আজ ভাগ্যটাও যেন আর্জেন্টিনার সঙ্গে নেই! পেনাল্টি মিসের পর এবার ব্যবধান কমানোর অবিশ্বাস্য এক সুযোগ হাতছাড়া হলো লিওনেল মেসির। বক্সের বেশ কিছুটা দূর থেকে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মিসরীয় গোলকিপারকে পরাস্ত করলেও তাঁর সেই বজ্রবিদ্যুৎ গতির শটটি এবার সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলপোস্টের বাধায় সমতায় ফেরা হলো না আলবিসেলেস্তেদের।
২৮ মিনিট: ম্যাক আলিস্টারের দারুণ হেড রুখে দিলেন শোবের!
সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছে। এবার মিসরীয় ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে আসা একটি চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়েছিলেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। তাঁর নেওয়া হেডটি পোস্টের মাঝ বরাবর জালের দিকেই যাচ্ছিল। কিন্তু আজ যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন মিসরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের। দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে দারুণ এক সেভ করে এবারও আর্জেন্টিনাকে হতাশ করলেন তিনি।
পেনাল্টিতে মেসির এ কী হতশ্রী রেকর্ড!
বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের নামের পাশে এই পরিসংখ্যান আসলেই বড্ড বেমানান! বিশ্বকাপে এই নিয়ে মোট ৮টি পেনাল্টি নিলেন লিওনেল মেসি। আর তার মধ্যে ৪টিই মিস! বিশ্বমঞ্চে নেওয়া তাঁর স্পট কিকের অর্ধেকই জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন এই মহাতারকা। ১২ গজ দূরত্বের এই স্নায়ুযুদ্ধে মেসির এমন রেকর্ড আসলেই অবিশ্বাস্য।
টেলিভিশন চ্যানেল আইটিভির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে এক অনন্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি। চলতি আসরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের পর আজ মিসরের বিপক্ষেও স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন তিনি। এর মাধ্যমে (টাইব্রেকার বাদে) বিশ্বকাপের একই আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হলেন মেসি।
আর্জেন্টিনা ০–১ মিসর
নাটক, চরম নাটক মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে! এবার পেনাল্টি পেল আর্জেন্টিনা। মিসরের হাইসেম হাসান বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে। রেফারি ফ্রঁসোয়া ল্যতেক্সিয়ে বাঁশি বাজিয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দিতে একদমই দেরি করেননি।
স্পট কিক থেকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। শট নিতে এসেছিলেন খোদ অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কিন্তু ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া মেসির শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিলেন মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের! মেসির মনের কথা যেন আগেই পড়ে ফেলেছিলেন শোবের, নিখুঁত টাইমিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচিয়ে দিলেন নিশ্চিত গোল। হতাশায় পুড়ল আর্জেন্টিনা, উল্লাসে মাতল মিসর!
শর্ট কর্নার থেকে দারুণ এক আক্রমণ সাজাল মিসর। বল পেয়ে চমৎকারভাবে বক্সে ক্রস বাড়ালেন মারওয়ান আত্তিয়া। আর সেখানে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে বাতাসে পরাস্ত করে নিখুঁত টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠলেন ইয়াসের ইব্রাহিম। বুলেট গতির এক হেডে বল পাঠিয়ে দিলেন দূরের পোস্টে! এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কিছুই করার ছিল না।