প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৬:২৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২১, ২০২৬, ৯:৩১ পি.এম
আজকের রাষ্ট্রপতির পিছনে শেখ হাসিনার ইনভেস্ট আছে
অনলাইন শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬

আজকে যাকে রাষ্ট্রপতি বানাইছেন, তার পিছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫০ লক্ষ টাকা আগেই ইনভেস্ট করা আছে—বিস্তারিত নিচে পড়ুন

আজকে যিনি রাষ্ট্রে বা উচ্চ দায়িত্বে আসীন হয়েছেন, তাঁর এই রাজনৈতিক উত্থান ও যাত্রার নেপথ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক অবদান, আন্তরিক দোয়া এবং বিশাল মানবিক বিনিয়োগ রয়েছে। অতীতে যখন উনি চরম ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন মানবতার মূর্ত প্রতীক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরম মমতায় ও অকৃত্রিম হৃদয়ে উনার চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন। শুধু তাই নয়, উনি যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তখন একজন পাঁচবারের সফল প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি এতটুকু অহংকার না দেখিয়ে পরম আদরে ও সম্মানে তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিলেন এবং অত্যন্ত মায়াবী সুরে জিজ্ঞেস করেছিলেন—"লিডার, কেমন আছেন? আপনার শরীরটা কেমন? আপনাকে নিয়ে আমার চিন্তা হয়, দরকার হলে আমি আপনাকে বিদেশ পাঠিয়ে উন্নতমানের চিকিৎসা করিয়ে আনব।" একজন মানুষকে কীভাবে সম্মান দিতে হয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই তাঁকে ছোট করে বা অবহেলা করে কথা বলেননি; বরং পরম শ্রদ্ধায় তাঁকে "লিডার" সম্বোধন করে সবসময় তাঁর খোঁজখবর নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে সরাসরি সংশ্লিষ্ট মেডিকেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কথা বলে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন উনার উন্নত মানের চিকিৎসার বিন্দুমাত্র কোনো ত্রুটি না হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময়ই প্রমাণ করেছেন যে তিনি কতটা দূরদর্শী, উদার ও মানবিক নেত্রী—যিনি রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের বিপদে পরম অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়ান। অথচ আজ সেই মানুষটি উচ্চ পদে আসীন হওয়ার পর অতীতের সেই দিনগুলো ও অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা ভুলে গিয়ে নানা উল্টাপাল্টা কথা বলছেন! সেই দুঃসময়ে যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওই ঐতিহাসিক ও মানবিক সহযোগিতা না থাকত, তবে উনার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হতো এবং হয়তো উনাকে আজ বেঁচে থাকার পরিবর্তে চিরকালের জন্য কবরস্থানে শুয়ে থাকতে হতো। ইতিহাসের এই নির্মম ও বাস্তব সত্যগুলোকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই, কারণ মিথ্যা মানুষকে সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত করতে পারে কিন্তু সত্যের আলো চিরকাল অম্লান থাকে এবং কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষের অন্যতম বড় ভূষণ।

বর্তমান সরকারের চরম উদাসীনতা, অদূরদর্শিতা ও ব্যর্থতার কারণে সারা বাংলাদেশে আজ এক ভয়াবহ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে মিল-কারখানা ও উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে লাখ লাখ খেটে খাওয়া মানুষ আজ বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাসের জন্য মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সিরিয়াল পড়ে থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা লোকগুলোর ন্যূনতম কোনো মাথাব্যথা নেই। এই চরম সংকটের সুযোগ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে একদল কুচক্রীর প্রকাশ্য চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, লুটপাট আর হিংসাত্মক রাহাজানির এক নৈরাজ্যকর মহোৎসব। সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে একশ্রেণির সুবিধাভোগী চক্র আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে, আর গ্যাস ও জ্বালানির তীব্র হাহাকারে দেশের অর্থনীতি আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা আজ পদে পদে লঙ্ঘিত হচ্ছে, অথচ রাষ্ট্রযন্ত্র ও নীতিনির্ধারকেরা সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

অন্যদিকে, দেশজুড়ে চলা অসহনীয় লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় সাধারণ মানুষের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত ও অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অভাবে কৃষকরা তাদের জমিতে সেচ কাজ চালাতে পারছে না, খেটে খাওয়া শ্রমিকেরা কাজ হারিয়ে পথে বসছে এবং দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি গার্মেন্টস ও বড় বড় মিল-কারখানাগুলো আজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের এই সুযোগে সমাজে মহামারী আকারে বেড়ে চলেছে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও নানা ধরনের অনৈতিক ও ঘৃণ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এমনকি এলাকার ভেতরে ময়লা পরিষ্কারকারী বা ময়লা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক ২০০ টাকা করে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির কারণে আজ মা-বোনেরা ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়, আর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য হাহাকার করছে। অথচ এই অযোগ্য সরকার জনকল্যাণমূলক কাজ বাদ দিয়ে ব্যস্ত রয়েছে নানা রকম তামাশা ও সার্কাস নিয়ে—কখনও রোডে পিঙ্ক কালারের গাড়ি নামিয়ে জনসমালোচনার শিকার হয়, কখনো রাস্তায় এআই ক্যামেরা লাগিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর টুলের বোঝা চাপায়, আবার কখনো তাদের দলের লোকেদের চাল চুরি করা বা ময়লার ছাদে ওঠার মতো নানা অনৈতিক ও লজ্জাজনক কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে চলে আসে। যাঁদের দেশ পরিচালনার ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল না, কেবল ভাগ্যের ফেরে তাঁরা আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছেন।

এখনো সময় আছে, শুভবুদ্ধি উদয় করুন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর থেকে সমস্ত জুলুম-অত্যাচার ও গায়েবি মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিন। অতি উৎসাহী হয়ে যারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালাচ্ছেন, তাঁদের স্পষ্টভাবে স্মরণ রাখা উচিত—অতি উৎসাহী কোনো কর্মকাণ্ডের ফল কখনো ভালো হয় না এবং ইতিহাসের কাঠগড়ায় প্রতিটি অন্যায়ের কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব দিতে হবে। আপনাদেরও পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে এই দেশেই বসবাস করতে হবে; সুতরাং অন্ধ আক্রোশ ও ক্ষমতার অহংকার বর্জন করে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিন। নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায়ভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করার এই অপসংস্কৃতি বন্ধ না করলে সামনের দিনে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং এর কোনো ভালো ভবিষ্যৎ কেউ দেখতে পাচ্ছে না।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ছিনতাই, রাহাজানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পথ চিরতরে পরিহার করে জনগণের আসল সমস্যাগুলো সমাধানের চিন্তা করুন। কীভাবে দেশের এই তীব্র গ্যাস সংকট সমাধান করা যাবে, জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন দাম কমিয়ে আনা হবে এবং ভাঙা রাস্তাঘাটগুলো উন্নত মানের করে মেরামত করা হবে—সে বিষয়ে ভাবুন। কিন্তু আপনাদের কাছ থেকে এসব আশা করা বৃথা, কারণ আপনারা একটি অযোগ্য সরকার। আপনারা স্বাধীনতা বিরোধী ও জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসীদের কোলে তুলে নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। আপনাদের নিজেদের অধঃপতন ঘটানোর জন্য আপনাদের ভেতরের কোন্দল এবং এই কুচক্রী মহলই যথেষ্ট; আওয়ামী লীগকে অপ্রাসঙ্গিক করার জন্য আপনাদের আলাদা কোনো মাথাব্যথার প্রয়োজন নেই।

যদি এখনো সময় থাকতে নিজেদের বোধোদয় ঘটাতে চান এবং দেশের ভবিষ্যৎ ভালো দেখতে চান, তবে নেত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিন এবং আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী ও নেতাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁদের সসম্মানে খালাস করে দিন। অন্যথায়, এদেশের সচেতন ও সংগ্রামী জনগণ পই পই করে আপনাদের প্রতিটি অন্যায়ের এবং দুর্নীতির হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে, সেদিন আপনাদের রক্ষার জন্য পাশে কোনো মানুষের ছায়াও খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রিয় দেশবাসী, সবাই ধৈর্য ধরে রাখুন; ডিসেম্বরে নেত্রী বাংলাদেশে আসবে, সবাই দোয়া করবেন। বাংলাদেশের জনগণকে নিয়েই এই অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুম রাজপথে মোকাবেলা করা হবে। ইনশাআল্লাহ, সকল অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের অবসান ঘটিয়ে বিজয় এদেশের মেহনতি মানুষের ও সাধারণ জনগণেরই হবে। রাজপথে এই অবৈধ ও জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে অদম্য সাহসে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সবাই ধৈর্য ধারণ করুন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।Saima Wazed R's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত