অনেকদিন পর "ফিউচার প্রফেসর ভাইব'স" হয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে এলাম আজ। শ্রেণীকক্ষে ঢুকেই জুলাই বিপ্লব/ অভ্যুত্থানের পাতাটি সবার সামনে ছিঁড়ে ফেললাম। এইবার শিক্ষার্থীদের আমি " জুলাই বিপ্লব" পড়াতে শুরু করলাম।
আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিপ্লবী হতে চায় জেনে আমার খুব ভালো লাগলো।ছাত্রদের বললাম, " একটা শর্তে "জুলাই বিপ্লব" পড়াবো ।
ছাত্র ছাত্রীরা একসাথে বলে উঠলো: বলুন স্যার।।
আমি: পৃথিবীর ইতিহাসের কয়েকজন বিখ্যাত বিপ্লবীর নাম বলো।
ছাত্র ছাত্রীরা: চে গুয়েভারা , লেনিন , ফিদেল কাস্ত্রো , হো চি মিন , মাও সে তুং।
আমি: বঙ্গবন্ধু , মাষ্টার দা সূর্য সেন , প্রীতিলতা ক্ষুদিরাম এরা বিপ্লবী নয়?
বঙ্গবন্ধু ( ফাউন্ডার অব দ্য নেশন)
২৩ বছরের বিপ্লব ও একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মদাতা। বিপ্লবী হিসেবে তোমারা তার নামটাই নিতে পারো নি।
ইরাকের সাদ্দাম হোসেন বলে গিয়েছিলেন , " বঙ্গবন্ধু হচ্ছে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রধান শহীদ।"।
এখন আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন। বিপ্লব কি গাছে পাকা আপেল?
আমি: জুলাই আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদ কি বিপ্লবী ছিল?
ছাত্র ছাত্রীরা: সে দু' হাত প্রসারিত করে বিপ্লব করেছে?
আমি: আবু সাঈদ ছিল গুপ্ত শিবির। প্রথমে স্বীকার না করলেও পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্রশিবির তা স্বীকার করেছে।১৯৭১ সালে এই গুপ্ত শিবিরের নাম ছিল ইসলামী ছাত্রসংঘ।এরাই বাঙালির লুঙ্গির তলায় ঢুকে রাজাকার , আলবদর ও শান্তি কমিটি তৈরি করে আমাদের ত্রিশ লক্ষ শহীদ হত্যা করেছে। আচ্ছা , বিপ্লব কি লুঙ্গির তলায় লুকিয়ে হয় ?
ছাত্র ছাত্রীরা: তাহলে সে তার পরিচয় লুকিয়েছে?
আমি: ঐতিহাসিক প্রমাণিত সত্য। জুলাইয়ের গণমাধ্যম দেখলেই সব আয়নার মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। জামায়াত শিবির কোনভাবেই তখন স্বীকার করেনি , সে গুপ্ত শিবিরের কর্মী।কারণ, জামায়াত শিবির পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক স্বশস্ত্র জঙ্গী সংগঠন।একটা সত্য গল্প বলি -
" নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নুর হোসেনের মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা সাহস নিয়ে সত্য উচ্চারণ করে বলেছেন, " নুর হোসেন যুবলীগের কর্মী। " নব্বইয়ের গণ - অভূত্থানে নেতৃত্ব দিতে শেখ হাসিনার সামনের সারিতে ছিলেন।১৯৬৯ এর গণ- অভূত্থানে তথ্য তোফায়েল আহমেদরা সামনের সারিতে ছিল।
গুপ্ত রাজনীতি শিবির করে , কোন ভদ্র ও সভ্য মানুষ গুপ্ত রাজনীতি করে না।সরকার ঘোষিত জুলাই যে ডিক্লারেশন দেওয়া হয়েছে, তাতৈ জুলাইকে বিপ্লব না বলে গণ-অভ্যুত্থান বলার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন তোমরাই বলো , গণ- অভূত্থান করতে সাহসী হয়ে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে লুঙ্গির তলার " গুপ্ত শিবির" হতে হবে কেন ?
ছাত্র ছাত্রীরা: স্যার , আমাদের একই প্রশ্ন। জুলাই -অভূত্থান হলে ছদ্মবেশী গুপ্ত শিবির হতে হবে কেন?
জুলাই আন্দোলনের একটা জনপ্রিয় স্লোগান ছিল " রেজিম চেঞ্জ" ।রেজিম চেঞ্জ অর্থ বুঝার চেষ্টা করেছো কখনো ? জুলাই কোন আন্দোলন ছিলো না। কোটা না মেধার নামে সাধারণ মানুষের মগজ ধোলাই করা হয়েছে। রেজিম চেঞ্জ এর মানেই ( 𝐅𝐨𝐫𝐞𝐢𝐠𝐧 𝐈𝐧𝐭𝐞𝐫𝐯𝐞𝐧𝐭𝐢𝐨𝐧 ) যার মানে হচ্ছে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপ। এই বিদেশী শক্তি ছিল মার্কিন ডিপস্টেট।জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী মার্কিনীদের অবস্থান এসব বিষয় খালি চোখে দেখলেও সব পরিস্কার হয়ে যাবে।
এই শেখ হাসিনার রেজিম চেঞ্জ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ( 𝐂𝐨𝐯𝐞𝐫𝐭- 𝐎𝐩𝐞𝐫𝐚𝐭𝐢𝐨𝐧) অর্থাৎ গুপ্তচর সংস্থা ও প্রচারণার মাধ্যমেকে ২৯ মিলিয়ন ডলার বা বাংলা টাকায় ৩৫৭ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্যোশাল ইনফ্লুয়েন্সারদেরকে শুধু গুজব ছড়ানোর জন্য দিয়েছে।তাই জুলাইকে বিপ্লব/ অভূত্থান বলতে তোমাদের বিবেকের কাছে লজ্জিত হওয়া উচিত।
জুলাই আন্দোলনে গুপ্ত শিবিরের রাজনৈতিক ট্রামকার্ড ছিল আবু সাঈদ। একই পদ্ধতিতে মিশরের জঙ্গি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড " উই আর খালেদ সাঈদ" বল আমেরিকান ডলারে মিশরের সরকার উৎখাত করেছে।
জুলাই আন্দোলন শুরু হয় ১ লা জুলাই ২০২৪ সালে।
১৬ জুলাই পর্যন্ত এই ১৬ দিনের আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার একজন আন্দোলনকারীর উপর গুলি চালিয়েছে এই প্রমাণ পুরো পৃথিবীতে কেউ দেখাতে পারবে না।
১৬ জুলাই এই গুপ্ত শিবিরের বাই প্রোডাক্ট হিসেবে সামনে আসে আবু সাঈদ।এই আবু সাঈদ হচ্ছে জামায়াত শিবিরের সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য। আজ নয়তো কাল আবু সাঈদের মুখোশ জাতির সামনে খুলবেই।জঙ্গীদের আধুনিক যুগের সুইসাইড স্কোয়াডের শুরু করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন হিজবুল্লাহ। এই লেবাননের হিজবুল্লাহ হচ্ছে জামায়াত শিবিরের জঙ্গি চাচাতো ভাই।এদরকে ব্লাক টাইগার্স বলা হয়ে। ১৯৭১ এর কুকর্মের জন্য জামায়াত শিবিরের উপাধি হচ্ছে " সাদা শয়তান" । এই সাদা শয়তানদের নিয়ন্ত্রণ করে আমেরিকা। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত শিবির নামক সাদা শয়তানদের পক্ষে ছিল আমেরিকা। আমেরিকাকে সবাই ইসলামের দুশমন বলে।
তাহলে এই আমেরিকা কেন পাকিস্তানের মাটিতে ১৯৮৮ সালে আল কায়েদা জঙ্গি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে? ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল কায়েদার সুইসাইড স্কোয়াড জঙ্গি দিয়ে টুইন টাওয়ারে হামলা করিয়ে সেই ২০০১ সালে আফগানিস্তান দখল করে ২০ বছরের অধিক সময় শাসন করে তা তোমাদের বুঝতে হবে। আমেরিকার আফগানিস্তান ঢুকার ট্রাম্প কার্ড ছিল জঙ্গি সংগঠন " আল কায়েদা"
১৯৪৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন সিআইএ গঠিত হওয়ার মাত্র ২ মাসের মাথায় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পৃথিবীতে পাকিস্তান নামক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।সেই থেকে আজ ৭৯ বছর ধরে সারাবিশ্বে জামায়াত শিবিরের ফোস্টার ফাদার , এডাপ্টিভ ফাদার , স্টেপফাদার, সোকলড ফাদার ( 𝐒𝐨- 𝐜𝐚𝐥𝐥𝐞𝐝 𝐅𝐚𝐭𝐡𝐞𝐫) হচ্ছে - আমেরিকা (𝐀𝐦𝐞𝐫𝐢𝐜𝐚) .
আজ এই পর্যন্তই থাক - আগামী পর্বের ক্লাস বিজ্ঞানের ভিত্তিতে ( 𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐝𝐞𝐬𝐡 𝐔𝐧𝐢𝐯𝐞𝐫𝐬𝐢𝐭𝐲 𝐨𝐟 𝐞𝐧𝐠𝐢𝐧𝐞𝐞𝐫𝐢𝐧𝐠 𝐚𝐧𝐝 𝐭𝐞𝐜𝐡𝐧𝐨𝐥𝐨𝐠𝐲 ( 𝐁𝐔𝐄𝐓) বুয়েট থেকে সংগ্রহ করবে।
জুলাই ষড়যন্ত্র এখানেই শেষ নয়। চলবে