আমাদের সংস্কৃতি আমাদের আতুরঘর
হামিদুল আলম সখা
আমাদের সংস্কৃতি বাংলা ভাষা ,আমাদের সংস্কৃতি মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের সংস্কৃতি পল্লীগীতি ,ভাওয়াইয়া ,লোকসংগীত ,পুঁথি পাঠ এবং পালা গান ,বাউল গান , নাট্য ও যাত্রা। আবহমান বাংলা আমরা ধারণ করি তাই বাংলাদেশের কৃষ্টি ঐতিহ্য আমরা বুকে লালন করি ।সেই শরৎচন্দ্র ,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর , বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের চেতনাকে তাদের লেখায় উদ্ভাসিত করেছে। বাঙালি নবান্ন উৎসব, বাংলা বর্ষবরণ ,শীতকালে যাত্রা অনুষ্ঠান, কবিগান পালা গান, বাউল গান আমাদের অন্তরের কথাগুলো বিকশিত করে। ভারতবর্ষ ব্রিটিশরা যখন রাজত্বে আসলো প্রায় ২০০ বছর এই ভারতবর্ষের মানুষদের শোষণ নিপীড়ন নির্যাতন করেছিল।ব্রিটিশের আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেতে বাঙ্গালীরা লড়াই করেছিল।নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস, চিত্তরঞ্জন,বাঘা মতিন,ক্ষুদিরাম,সূর্য সেন,প্রীতিলতার নাম উল্লেখযোগ্য।
পরিশেষে ১৯৪৭ সালের লর্ড মাউন্টব্যাটেন আমাদের স্বাধীনতার পথ উন্মোচন করে দিল। সেটি হয়েছিল দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দুটি রাজ্যের সৃষ্টি একটি ভারত অন্যটি পাকিস্তান পাকিস্তানের আবার দুটি খন্ড একটি পূর্ব পাকিস্তান অন্যটি পশ্চিম পাকিস্তান । মূলত এই দুটি দেশ ভাগ হলো ধর্মকে কেন্দ্র করে হিন্দু বা সনাতন ধর্ম তারা পেল ভারত ,,মুসলমানরা পেল পাকিস্তান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেন পন্ডিত জহরলাল নেহেরু অন্যদিকে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হলেন কাই দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, প্রধানমন্ত্রী হলেন লিয়াকত আলী খান।
সেই সময় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন এর সাথে বৈঠক এ অংশগ্রহন করেন মোহন চাঁদ করম চাঁদ গান্ধী, পন্ডিত জহর লাল নেহেরু, কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক।
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা মনে করে, ভালোই হলো আমরা স্বাধীন দেশ পেলাম। কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২১ মাচ ঢাকায় রেসকোর্সে ময়দানে এবং ২৪ মাচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কায়দে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করলেন, উর্দু অ্যান্ড উর্দু সেল বি ষ্ট্যাট ল্যাঙ্গুয়েজ অফ পাকিস্তান। তাৎক্ষণিকভাবে বাঙালি তরুণ সমাজ চিৎকার করে স্লোগান দিল না না , উর্দু পাকিস্তানের রাষ্ট্র হতে পারে না । পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। শুরু হল আন্দোলন সেই আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদ সহ নেতৃবৃন্দ আন্দোলনের কৌশল ঘোষণা করলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন শুরু হল- রাষ্ট্রভাষা রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই বাংলা চাই। এরপর ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা ভংগ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিল করলে সরকারের পেটুয়া বাহিনীর গুলিতে সালাম,রফিক ,জব্বার ,শফিক ,বরকত সহ অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা পায়। সেই সময় সরকারের পেটোয়াবাহিনী ছাত্র সমাজের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন করছিল ।অতঃপর ঢাকা মেডিকেলের পাশে শহীদ মিনার বানানো হলো আমরা শ্রদ্ধায় অবনত হলাম ।আমরা শ্রদ্ধাঞ্জলি দিলাম শহীদ মিনারে ।সালাম শফিক বরকত জব্বার রফিক তাদেরকে শ্রদ্ধা জানালাম । আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ও আলতাফ মাহমুদ এর সুরে ভাষা শহীদদের স্মরণে গান" আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ---। বাঙালিরা বুঝতে পেরেছিল ১৯৪৭ সালে যে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান হয়েছিল সেটির পিছনে ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শোষন ও নির্যাতন । দীর্ঘ ২৪ বছর নির্যাতনের বেরিকেট পার হয়ে বাঙ্গালীরা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনলো। বাঙালিরা কখনো হেরে যাইনি, তারা লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে।
অনেক আন্দোলনের সূতিকাগার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাসস্থান ।সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালীদের উদ্বুদ্ধ করতেন ।১৯৬৬ সালে স্বাধীকার আন্দোলনের জন্য ছয় দফা প্রণয়ন করে শেখ মুজিবুর রহমান। সেই সময় শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী এর সভাপতি । পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান সহ ৩৫ জনকে কারারুদ্ধ করে। ১৯৬৯ এ এক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু সহ ৩৫ জনকে সরকার মুক্তি দিতে বাধ্য হয় । সেই সময় যে স্লোগান বাঙ্গালীদের অনুপ্রাণিত করেছিল সেগুলো হল - জেলের তালা ভাঙবো , শেখ মুজিব আনবো । জেগেছে জেগেছে বীর বাঙালি জেগেছে , ঢাকা না পিন্ডি ঢাকা ঢাকা, তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পাবার পর তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ এক সভায় বাঙালি জাতির নেতা শেখ মুজিবুর রহমান কে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেন।সামরিক জ্যান্তা আইয়ুব খান চলে গিয়ে বসিয়ে রেখে গেলেন ইয়াহিয়া খানকে । জেনারেল ইয়াহিয়া খান সাধারন নির্বাচন দিলেন । ১৯৭০ সালে সাধরণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো । পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করল । কিন্তু শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে ক্ষমতা না দিয়ে তাল বাহানা শুরু করে । ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্সে ময়দানে বঙ্গবন্ধু এক জনাকীর্ণ জনসভায় ঘোষণা করলেন " এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম , এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ।" সেই থেকে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি । বাংলাদেশ পৃথিবীর ভূখণ্ডে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালো । সেই সময় পশ্চিম পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছিল জামাতে ইসলামী নিজামী , জামায়াত ইসলামী । ওরা পশ্চিমা সেনাবাহিনীকে সহায়তা করানোর জন্য আল বদর , রাজাকার , আলম শামস বাহিনী গঠন করে। পশ্চিমা পাকিস্তান এর সেনাবাহিনী তাদের দোসর বাঙ্গালীদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল, শিশু হত্যা করেছিল ,লক্ষ লক্ষ নারীকে নির্যাতন করেছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় , পৃথিবীর ইতিহাসে এমন জঘন্যতম ঘটনা আর ঘটেনি । নিজের দেশের মানুষেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছিল ।
আমাদের ইতিহাসের আঁতুড়ঘড় ৩২ নম্বর বললে অতু্যুক্তি হবে না । কেননা সেই ৩২ নাম্বার থেকেই বাঙ্গালীদের জাগরনের সূত্রপাত হয়েছিল । বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা পেতাম কিনা জানিনা । সেই বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালে সপরিবারে হত্যা করা হলো। সেনাবাহিনীর ভিতর ঘাপটি মারা থাকা স্বাধীনতা বিরোধীচক্র খন্দকার মুস্তাক এর নেতৃত্বে ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট রাতের অন্ধকারে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার আক্রমণ করে এবং বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এরপর সে রাতে ১৭ টি লাশ নিয়ে যাওয়া হয় বনানী গোরস্থানে সেখানে দাফন হয়। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় টঙ্গীপাড়ায়। পিতা মাতার কবরের পাশে দাফন করা হয়।
যে নেতার জন্ম না হলে আমরা বাংলাদেশ পেতাম কিনা জানিনা , সেই নেতাকে আমরা নিজেরাই হত্যা করলাম । আমরা কি বেইমান জাতি, আমরা বঙ্গবন্ধুর শিশু পুত্র রাসেলকেও ছাড় দিলাম না ।এর পরের ঘটনা আমরা সবাই জানি খন্দকার মোস্তাক সরকার গঠিত হলো তিন মাস না যেতে যেতেই জিয়াউর রহমান ক্ষমতা অনুষ্ঠিত হন । নবাব সিরাজদৌলা হত্যার পর মীরজাফর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল । কিন্তু খুব বেশিদিন টিকতে পারেনি । ইতিহাসের পরিহাস যেমন আস্থা কুরে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল মীর জাফর তেমনি খন্দকার মুস্তাক ও আস্থা করে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল । এরপর জেনারেল জিয়াউর রহমান সাড়ে ছয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন । চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রে জেনারেল জিয়াউর রহমান মৃত্যু বরণ করেন । এরপর বিচারপতি সাত্তার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন কিন্তু কি আশ্চর্যের বিষয় ১৯৭৫ সালের পর বিচারপতি সায়েম যখন রাষ্ট্রের দায়িত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান যে কায়দায় বিচারপতিকে সরিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন , ঠিক একই কায়দায় হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বিচারপতি সাত্তার কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিজেই সিংহাসনে বসেন।
১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের পর ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে নিয়োগ করে ১৯৯১ সালের ২৭ শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করার পর সরকার গঠন করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার পরিচালনা শুরু করে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে এক ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন করে বিএনপি আবারো ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হয় কিন্তু জনতা রোদ্র রুষে ১৯৯৬ সালে আবারো তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় সেই তত্ত্বাবধায় সরকার নতুন নির্বাচন দিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে। জননেত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে অত্যন্ত সুশৃংখলভাবে পাঁচটি বছর অতিক্রান্ত করে সঠিক সময়ে আবার নির্বাচন দেওয়া হয় সেই নির্বাচনে বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জয়লাভ করে । ২০০১ সালে জয়লাভ করার পর তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলেন । ২০০৬ -২০০৭ সালে সামরিক শাসন বাংলাদেশ আবার প্রতিষ্ঠা লাভ করে সেই সময় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহম্মদকে প্রধান উপদেষ্টা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয় সেনাবাহিনীর প্রধান মইনুদ্দিন আহম্মদ দেশ কি গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের দৃষ্টিতে দোষি ব্যক্তিদের গ্রেফতার শুরু করে। এক পর্যায়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদেরকে সংসদ ভবনের দুটি বাড়িতে সাব জেল হিসেবে রাখা হয়। অনেক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারো গণতন্ত্রের আলো দেখা দেয় । ফখরুদ্দীন - মইনুদ্দিন নির্বাচন ঘোষণা করেন । ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়লভ করে। শেখ হাসিনা নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয় ।
এরপর ২০১৪ সাল ২০১৮ সাল ২০২৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা নৌকা মার্কা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার পরিচালিত করে।
কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় ২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্রদের সরকারি চাকরিতে কোঠা ও মেধা নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনকে পুঁজি করে স্বাধীনতা বিরোধীচক্র জামাত শিবির বাংলাদেশের ৪৬০ টি থানা অগ্নিসংযোগ করে এবং পুলিশদের হত্যা করে একটি তথ্যসূত্রে জানা যায় সেই সময় ৩০২৪ জন পুলিশকে তারা হত্যা করে শত শত নিরীহ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণভবন থেকে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা কে সেনাবাহিনী নেতৃত্বে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা গণভবন লুটতরাজ করে ,সংসদ ভবন ভাঙচুর করে ,প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং বাঙালি ও মুক্তিযুদ্ধের আতুরঘর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর লুট করা হয় ,আগুন দেওয়া হয় এবং সর্বোপরি ভেকু দিয়ে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আঘাত করতে পারেনি। লুটতরাজ করতে পারেনি, ভেঙ্গে দিতে পারেনি ।এরপর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর যে সরকার ক্ষমতায় এসেছিল তারাও ৩২ নাম্বার ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারিনি এরপর অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে তারপরও ৩২ নম্বরে কেউ হাত দিতে পারেনি। এদিকে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবার পর ৩২ নম্বর কে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং সেটি বঙ্গবন্ধু নামে একটি জাদুঘরের রূপান্তরিত করেন ।এখানে বলে রাখা ভালো ২০২৪ সালে যে আন্দোলন হয়েছিল সে আন্দোলনটি মূলত ছাত্র সমাজের কাছ থেকে হাইজ্যাক করে জামাত শিবির সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত অবকাঠামো ভেঙে দেয় । বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে দেয়, ৩২ নম্বর ভেঙে দেয়, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভেঙে্গে দেয়।তারা প্রতিশোধ নেয় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানকে তাড়িয়ে বাঙালিরা এখানে বাংলাদেশ তৈরি করেছিল।সেই কারণেই ৩২ নাম্বারের উপর এত অত্যাচার, এতো আক্রোশ এবং এত ভয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ভয় পাই বলেই বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল এরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞ জারি করে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা মোতাবেক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তারপরেও বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ বঙ্গবন্ধু প্রেমিক ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় মিছিল মিটিং করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরতের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করছে । শেখ হাসিনা দেশে ফিরবে বাংলাদেশেই অরাজকতার বিরুদ্ধে অবশ্যই একটি বিচার হবে ।বাংলাদেশে ২০২৪ সালের পর যে লুটতারা হয়েছে ডক্টর ইউনুস এর নেতৃত্বে ১৮ মস বাংলাদেশের আর্থিক সেক্টর ১৮ বছরে যা হয়নি আঠারো মাসে লন্ডভন্ড করে দেওয়া হয়েছে। এসবেরই বিচার একদিন হবেই ।বাংলাদেশের মানুষ এখন প্রতিক্ষা করেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কবে আসবেন ।এরপর শুরু হবে নতুন করে পথ চলা ৩২নম্বর ৩২ তলায় উন্নীত করা এবং দুঃখী মানুষের মাঝে আবারও হাসি ফুটিয়ে দেওয়া এটাই লক্ষ্য হবে ।আর এই লক্ষ্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসবে ।সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটবে । মানুষের মৌলিক অধিকার অন্ন,বস্ত্র, শিক্ষা,চিকিৎসা ও বাসস্থান এর ব্যবস্থা করা হবে । বঙ্গবন্ধু সেই সোনার বাংলা যাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা পায় তার ব্যবস্থা করা হবে।
লেখক: সম্পাদক ত্রৈমাসিক মহুয়া, দি ব্যাংকার্স মিরর ও আহবায়ক অগ্নিবীণা।
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।