তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে লেখার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করছে মুখ খুলতে! কিছু অতি বুদ্ধিজীবী, কিছু রেডিক্যাল বাম, কিছু রেডিক্যাল সেকুলার, কিছু সুপ্ত শয়তানদের ভ্যাভ্যাবানিতে কান যায় যে! তসলিমা তার জায়গায় দাঁড়িয়ে যে সাহসী অসাধারণ বক্তব্য দিয়েছে তার জায়গায় এইসব মহাপণ্ডিত, মহাজ্ঞানী, মহাবিপ্লবীদের কেউ হলে এর ধারেকাছের কোনো বক্তব্য দিতে পারতো না! তার কথা অতি ঋজু এবং পরিষ্কার স্বচ্ছ!
নির্বাসন কী জিনিস জানেন, বোঝেন, তসলিমার তো আবার দুইবার নির্বাসন! তার জায়গায় দাঁড়িয়ে এটা বুঝতে হবে, নীরবে অধ্যয়ন করতে হবে কিংবা দাউদ হায়দারের প্রয়াত আত্মার কাছে জিজ্ঞাসা করতে হবে! নির্বাসনে দেহ মনের ভিতরে যে দহন যন্ত্রণা, ক্ষয় আর শ্বাসরুদ্ধকর জ্বলন্ত লাভার টগবগানি নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় সেটা আগে অনুভব করেন! সে এক মর্মান্তিক মহাকাব্য যার ট্রাজিক মহানায়ক এই দাউদ হায়দার, তসলিমা! সে এক পোড়া আগুনের আগ্নেয় শিলা, আপনি এই কোমল জীবনের হাওয়া মে ওড়তার দোলায় চড়ে সেটা বুঝবেন না! দেশ থেকে বিতাড়নের আগে এদেশে তার পালিয়ে থাকা দিনগুলোর দিনপঞ্জি জেনে নিবেন, কী এক লোমহর্ষক সময় গেছে তার উপর দিয়ে! মৌলবাদের বিষয়ে তার বক্তব্য অতি পরিষ্কার হিংটিংছট, কোনো জটিলতা নেই!
পকেটে দশ আনা পয়সা, দুইটা শার্ট-প্যান্ট নিয়ে চাটার্ড বিমানে করে দাউদ হায়দারকে অনন্তের যে নির্বাসন দিয়েছিল সেখানে নিজেকে বসিয়ে ভাবেন! সেটা আবার করেছিল সেকুলার সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধু, সেও এক সুপ্ত মৌলবাদী আর তার রেখে যাওয়া সন্তানও তার রক্তের ধারাকে উজ্জ্বল ভাবে প্রমাণ করেছে!
এ বিষয়ে লক্ষ্য করছি মৌলবাদীদের চেয়ে রেডিক্যাল শয়তানগুলো দশ ধাপ এগিয়ে! একটি দেশের জন্য রেডিক্যালরাই সবচেয়ে বিপজ্জনক যেটা আমরা জুলাই '২৪ এ দেখেছি যার ধারাবাহিকতা চলছে! বদনা উমর, বঙ্গা গফুর, ভানু মহাম্মদ, ফাড়া ওয়াসিফ... এমনি সব মালকে অধ্যয়ন করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে!
তসলিমা, দাউদ হায়দারের এক গোছা লোমের সমান আপনারা কেউ না! এত সব বুদ্ধিদীপ্ত বয়ান রেখে নিজেরা কী লুম্বা ছিঁড়ে বোঝা বেঁধেছেন সেই হিসাব করেন, কাজে লাগবে!
ডারউইনের Straggle for existence নিয়ে একটু পড়ালেখা করেন, দিমাগ পরিষ্কার হবে!
প্রকৃতির এই মহাযজ্ঞে লাখো বছরের ইতিহাস বলে, প্রাণী জগতের যত বিবর্তন হয়েছে তা মূলত টিকে থাকার জন্যে!
সবাই ভালো থাকুন, মানুষকে পাঠ করুন তার গভীরে যেয়ে...
12:06) আমি সব ধর্মীয় মৌলবাদের বিরোধী। ইসলামী মৌলবাদের বিরুদ্ধে আমি বেশি সরব। কারণ শৈশব থেকেই একে খুব কাছ থেকে দেখেছি। ইসলামী আইনে নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দেখেছি। অমুসলিম, নাস্তিক ও মুক্তচিন্তকদের উপর নিপীড়ন দেখেছি। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, চিন্তা ও স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করতে দেখেছি। সারা বিশ্বজুড়ে জিহাদী উগ্রপন্থীদের সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড দেখেছি। তাই এর নাম স্পষ্ট করে বলি।
(12:41) আমি সব ধর্মের মৌলবাদকে এক কাতারে রাখি না। অন্যান্য ধর্মের মৌলবাদের কথা বলে ইসলামী মৌলবাদকে আড়াল করি না। যে অন্যায় যেখানে ঘটবে, যে মতাদর্শ তার জন্য দায়ী তাকে তার নাম ধরেই সমালোচনা করি। সত্যকে ভারসাম্যের নামে অস্পষ্ট করা নিরপেক্ষতা নয়, বরং তা সত্যের সঙ্গে আপোষ।
(15:49) আরো বেদনাদায়ক হলো মুসলিম সমাজকে অন্ধকারে রাখতে শুধু ইসলামী উগ্রপন্থীরাই সক্রিয় নন। তথাকথিত প্রগতিশীল ও বামপন্থীদের একটি অংশ এই অচলাবস্থাকে রক্ষা করে। নিজেরা বাক স্বাধীনতা ও নারী-পুরুষের সমানাধিকার ভোগ করেও ইসলামের সমালোচক ও সংস্কারকদের তারা 'মুসলমান বিদ্বেষী' আখ্যা দেন। আমি অহরহ তাদের আক্রমণের শিকার হই। তাদের অভিযোগ, আমি কেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে একই রকমভাবে যুদ্ধ করছি না? তারা কি একই যুক্তিতে রাজা রামমোহন রায়কেও এই বলে বাতিল করেন যে তিনি সতীদাহের বিরুদ্ধে লড়েছেন কিন্তু পৃথিবীর সব ধর্মের সব কুসংস্কারের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে লড়েননি? ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কি কেউ দোষ দিয়েছিলেন যে তিনি হিন্দু বিধবার অধিকারের জন্য লড়লেন, অন্য সব ধর্মের সংস্কার করতে গেলেন না কেন? সমাজ সংস্কারক তার সবচেয়ে পরিচিত সমাজের অন্যায় থেকেই লড়াই শুরু করেন। আমার ক্ষেত্রে সেই নিয়মের ব্যতিক্রম হবে কেন?
আব্দুল ওদুদ's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।