সম্প্রতি মাছরাঙা টিভির একটি সাক্ষাৎকার দেখছিলাম।
উপস্থাপক যখন ত্রপা মজুমদারের সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব আর গুণের প্রশংসায় একেবারে মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ত্রপা কিন্তু স্রোতে গা ভাসাননি।
বরং খুব স্বাভাবিক, বিনীত আর সুন্দরভাবে উপস্থাপকের কিছু কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেন এবং নিজের জায়গাটা পরিষ্কার করলেন।
এই জায়গাটাই আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে।
কারণ প্রশংসা শুনে মুগ্ধ হয়ে যাওয়া সহজ,
কিন্তু প্রশংসার মাঝেও নিজের বিচারবোধটা ধরে রাখা…
সেটাই আসল ব্যক্তিত্ব।

আমাদের মিডিয়ায় অনেক সময় সাক্ষাৎকার মানেই হয়ে যায় অতিরিক্ত প্রশংসা, তোষামোদি আর অতিথিকে খুশি রাখার প্রতিযোগিতা।
অথচ একজন ভালো উপস্থাপক শুধু প্রশংসা করবেন না,
প্রয়োজনে প্রশ্ন করবেন, দ্বিমত করবেন,
আবার ভালো কিছু হলে সেটার যথাযথ প্রশংসাও করবেন।
তোষামোদি আর প্রশংসা কিন্তু এক জিনিস নয়।
সম্প্রতি দুটো সাক্ষাৎকার দেখলাম।
একদিকে বিপাশা হায়াত, অন্যদিকে ত্রপা মজুমদার।
দুজনই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও গুণী শিল্পী।
কিন্তু সাক্ষাৎকার দেখার সময় তাদের কথাবলার ধরন, নিজেকে উপস্থাপন করার ভঙ্গি আর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার স্টাইলে যে আলাদা দুই ধরনের ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে, সেটাই ভাবিয়েছে।
কেউ হয়তো নিজের ভাবনা অনেক ঘুরিয়ে, অনেক স্তর দিয়ে প্রকাশ করেন।
আবার কেউ একই গভীরতা খুব সহজ ভাষায়, একদম স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন।
আর ত্রপা মজুমদারের মধ্যে যে বিষয়টা চোখে পড়ে, সেটা হলো সহজ থাকা।
এত বছরের অভিজ্ঞতা, এত কাজ, এত অর্জন থাকার পরও কথাবার্তায় একটা স্বাভাবিক সরলতা আছে।
কোনো অতিরিক্ত ফুটানি নেই, নিজেকে জাহির করার তাড়াও নেই।
একদম এমন একজন মানুষ,
যাকে দেখে মনে হয়…
“আরে, উনি তো পাশের বাসার সেই সহজ-সরল মানুষটাই!”

আমার কাছে আসল elegance হয়তো এটাই।
সৌন্দর্য শুধু চেহারায় থাকে না।
কখন কোথায় কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে হয়,
কখন প্রশংসা গ্রহণ করতে হয় আর কখন বিনয়ের সঙ্গে বলতে হয় “না, আমি এভাবে দেখি না”
সেখানেও সৌন্দর্য থাকে।
আর সেই সৌন্দর্যটাই ত্রপা মজুমদারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ল।
সংগৃহীত পরিমার্জিত
বন্ধু's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।