প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ৪:৩০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১১:২৭ পি.এম
ইতিহাস কেবল তারিখ বা ঘটনার শুষ্ক পরিসংখ্যান নয়;
অনলাইন বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইতিহাস কেবল তারিখ বা ঘটনার শুষ্ক পরিসংখ্যান নয়; ইতিহাস হলো মানুষের সংগ্রাম, রক্ত আর স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক বর্ণিল দলিল। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে যে মহাকাব্যিক পটপরিবর্তন ঘটেছিল, তার প্রধান রূপকার ও মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনকে বুঝতে হলে তাঁর ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’-র কোনো বিকল্প নেই। এটি কেবল একজন মানুষের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ নয়, বরং একটি পরাধীন জাতির স্বাধীনতা অর্জনের রোমাঞ্চকর ও সংগ্রামমুখর ইতিহাসের জীবন্ত মহাকাব্য।
১৯৫৫ থেকে ১৯৫৭ সালের কারাবন্দী অবস্থায় লেখা এই আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধুর বাল্যকাল, ছাত্রজীবন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং পাকিস্তান সৃষ্টির প্রাক্কালীন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিক্রমা অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় উঠে এসেছে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সাধারণ এক খোকা থেকে কীভাবে তিনি বাংলার কোটি মানুষের ‘মুজিব ভাই’ এবং পরবর্তীতে ‘বঙ্গবন্ধু’ হয়ে উঠলেন, তার এক অপূর্ব বিবরণ রয়েছে এই বইটিতে। তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশের মূলমন্ত্র ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শোষিতের পক্ষে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত।
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়ার সময় আমরা দেখতে পাই কীভাবে ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের মহান ভাষা শহীদদের রক্তিম পথ ধরে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ রোপিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন কীভাবে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল। আর সেই শোষণের বিরুদ্ধে কীভাবে বাংলার ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তির রূপ ধারণ করেছিল, তার নিখুঁত দর্পণ হলো এই গ্রন্থ।
একটি মহাকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একটি জাতির জন্ম বা তার চরম সংকট ও বীরত্বগাথার নিখুঁত উপস্থাপন। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটিকে ঠিক এই কারণেই একটি জীবন্ত মহাকাব্য বলা চলে। বইটি পাঠ করলে বোঝা যায়, ১৯৭১ সালের হঠাৎ করে অর্জিত কোনো বিজয় ছিল না; এর পেছনে ছিল সুদীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের রক্তক্ষয়ী প্রস্তুতি, জেল-জুলুম, অত্যাচার আর অবিরাম সংগ্রাম। বইটি পড়লে পাঠকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই সময়ের উত্তাল রাজনৈতিক দিনগুলো—মিছিল, মিটিং, কারাবাস আর নেতার সাথে কর্মীর নাড়ির টান। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, লাল-সবুজের পতাকাটি অর্জনের পেছনে কত ত্যাগ ও তিতিক্ষা লুকিয়ে আছে।
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসের দলিল নয়, এটি এক অনন্য মানবিক দলিলও বটে। এতে নেতার পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষ, একজন স্বামী, পিতা এবং পরম দেশপ্রেমিকের রূপ ফুটে উঠেছে। গ্রন্থটি আমাদের প্রেরণা জোগায় অন্যায়ের কাছে মাথা না নোয়াতে এবং একটি শোষণহীন সমাজ বিনির্মাণ করতে। তাই বলা যায়, এই বইটির প্রতিটি পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে একটি স্বাধীন দেশের জন্মের অমর মহাকাব্য, যা চিরকাল বাঙালি জাতিকে পথ দেখাবে।
Sarder Mahamud Hasan Rubel's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত