প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ৬:০৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ৮:৪৩ পি.এম
একটা টিক চিহ্ন। দুইবার কাটা। তারপর যা হলো, ভাবেনি কেউ…
অনলাইন ক্রবার,০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একটা টিক চিহ্ন। দুইবার কাটা। তারপর যা হলো, ভাবেনি কেউ...
২৭ অক্টোবর ২০২১। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই ইউনিয়নের ভোটে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড বেছে নিল শাহনেওয়াজ চৌধুরীকে।
কাগজ পৌঁছাল দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়ার ‘দপ্তরে’। সেখানে শাহনেওয়াজের টিক চিহ্নে পড়ল কাটা দাগ। বাঘের ওপর টাগ। বসল টাকাওয়ালা নতুন নাম: মো. আলমগীর।
আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে সেদিনই ঘোষণা এসে গেল। লড়াই শেষ, ভাবলেন শাহনেওয়াজ।
কেউ একজন বললেন, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। সাহস হলো না প্রথমে। দুপুর আড়াইটায় হোয়াটসঅ্যাপে শেখ হাসিনাকে অনলাইনে দেখে কাঁপা হাতে মেসেজ পাঠালেন।
৩টা ১৮ মিনিটে সেই মেসেজ ‘সিন’ হলো।
ঘণ্টাদুয়েক পর শাহনেওয়াজ চৌধুরীর মোবাইলে ফোন। অপরপ্রান্তে খোদ বিপ্লব বড়ুয়া। বললেন, মনোনয়নে ‘ভুল হয়েছিল আগে’। মনোনয়ন এখন তারই।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন মানে তখন নিশ্চিত জয়। কিন্তু যিনি নাম উল্টে দিয়েছিলেন, তিনি এই বদল মানলেন না। চট্টগ্রাম উত্তরের বড় নেতারা প্রায় প্রকাশ্যেই নামলেন স্বতন্ত্র আলমগীরের পক্ষে। শোচনীয়ভাবে হারলেন শাহনেওয়াজ চৌধুরী, দলীয় প্রার্থী হয়েও।
চট্টগ্রাম প্রতিদিনে আমরা রিপোর্ট ছাপলাম। একদিন পরই বিপ্লব বড়ুয়ার ফোন এল রিপোর্টার তানিনের কাছে, নাজেহালও করতে চাইলেন, ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে ঝাল মেটানোর চেষ্টাও বাদ গেল না।
শেখ হাসিনার নামে ক্ষমতা, কিন্তু ক্ষমতার আসল ঠিকানা ছিল ছোট ছোট পকেটে। পঞ্চম গ্রেডের চেয়ারে বসেই বিপ্লব বড়ুয়া বানিয়ে ফেলেছিলেন এমন একটা পকেট, যেখানে মনোনয়ন হয়ে উঠেছিল নিঃশব্দ পণ্য।
একদিন যারা মিছিলে দৌড়েছিল নেতার নামে, আজ তারাই বসে আছে জেলে, পিসি কার্ডে ৫০০ টাকার আশায়। আর নেতা তখন ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসী কন্ডোমিনিয়ামে ‘চিল’ মুডে, নিশ্চিন্তে।
Hossain Thoufique Ifthekher's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত