প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৬, ৫:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩০, ২০২৬, ১০:৩৫ পি.এম
কাপড়ের দৈর্ঘ্য দিয়ে চরিত্র মাপা
কাপড়ের দৈর্ঘ্য দিয়ে চরিত্র মাপা কিংবা ওড়নার অবস্থান দিয়ে পারিবারিক শিক্ষা নির্ধারণের মানসিকতা সামাজিকভাবে পশ্চাৎপদ এবং সভ্যতার মৌলিক দর্শনের পরিপন্থী। ফরাসি দার্শনিক সিমোন দ্য বোভোয়ারের তত্ত্ব অনুযায়ী, সমাজ যখন তার নিজস্ব কলোনিয়াল ও পৈতিৃক ছাঁচে নারীকে বন্দি করতে ব্যর্থ হয়, তখনই সে পোশাকের মতো বাহ্যিক উপাদানকে ‘নৈতিকতার মাপকাঠি’ বানিয়ে অবদমন ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
একটি সভ্য সমাজ নির্মিত হয় মানুষের ব্যক্তিগত সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে। পক্ষান্তরে, যে সমাজ কাঠামোগতভাবে সভ্য নয়, তার প্রধান লক্ষ্য থাকে মানুষের শরীরকে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত বস্তু’ বা অবজেক্টে পরিণত করা।
আমাদের সামাজিক ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো কি অপরাধীর মনস্তত্ত্ব ও অপরাধপ্রবণ আচরণ সংস্কার করতে চায় নাকি নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতাকে নিজেদের তৈরি প্রাতিষ্ঠানিক খাঁচায় বন্দি করতে চায়?
সভ্যতার প্রকৃত পরীক্ষা মানুষের পোশাকে নয়, তার দৃষ্টিভঙ্গিতে। যে সমাজ চরিত্রের চেয়ে কাপড়কে বেশি বিচার করে, সে আসলে নিজের নৈতিক দুর্বলতাই প্রকাশ করে। স্বাধীনতা মানে দায়িত্বহীনতা নয়, আর শালীনতা মানে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণও নয়। দর্শন শেখায়—মানুষকে বিচার করতে হলে তার বিবেক, আচরণ ও কর্মকে বিচার করুন; বাহ্যিক রূপকে নয়। কারণ নৈতিকতা পোশাকে বাস করে না, মানুষের চেতনা ও চরিত্রে বাস করে।
সভ্যতার প্রকৃত পরীক্ষা মানুষের পোশাকে নয়, তার দৃষ্টিভঙ্গিতে। যে সমাজ চরিত্রের চেয়ে কাপড়কে বেশি বিচার করে, সে আসলে নিজের নৈতিক দুর্বলতাই প্রকাশ করে। স্বাধীনতা মানে দায়িত্বহীনতা নয়, আর শালীনতা মানে জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণও নয়। দর্শন শেখায়—মানুষকে বিচার করতে হলে তার বিবেক, আচরণ ও কর্মকে বিচার করুন; বাহ্যিক রূপকে নয়। কারণ নৈতিকতা পোশাকে বাস করে না, মানুষের চেতনা ও চরিত্রে বাস করে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত