প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৯:২৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ১৫, ২০২৬, ৬:৪৯ পি.এম
ক্ষমতার দাপট :আজাদ মজুমদার
··অনলাইন শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
আজাদ মজুমদার—সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি। ক্ষমতা কী জিনিস, হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার বিট কাভার করা সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর আচরণ অনেক সময়ই ছিল অত্যন্ত রুক্ষ ও অসম্মানজনক।
একদিন একটি বিষয়ে জানতে তাঁকে দু’বার ফোন করেছিলাম। এই অপরাধেই তিনি আমার সঙ্গে এমন আচরণ করেছিলেন, যে ধরনের আচরণ আমার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এর আগে কখনো কারও কাছ থেকে পাইনি। আমি শুধু তাঁকে বলেছিলাম—
“ভাই, আপনার কাছ থেকে এমন ব্যবহার আশা করি না।”
এই সামান্য কথাটিই যেন তাঁর কাছে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর আমা
চাকরি খাওয়ার জন্য তিনি গাজী গ্রুপের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত চাপ প্রয়োগ করেছিলেন—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আমাকে হতে হয়েছিল, যা আজও আমাকে কষ্ট দেয়।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি এই কারণে যে, আমরা একই পেশার মানুষ। মতের অমিল হতে পারে, ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, কিন্তু একজন সাংবাদিকের পেশাগত অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলার চেষ্টা—এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আমি বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার জন্য বহুবার উদ্যোগ নিয়েছি। ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা রাখতে চাইনি। ভেবেছি, সময়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, তিনি কখনোই সেই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেননি।
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। পদও চিরস্থায়ী নয়। আজ যে মানুষটি ক্ষমতার কেন্দ্রে, কাল তিনি হয়তো সেই জায়গায় থাকবেন না। কিন্তু মানুষের সঙ্গে করা আচরণ, বিশেষ করে অসহায় অবস্থায় কারও সঙ্গে করা আচরণ—সেটিই শেষ পর্যন্ত মানুষের পরিচয় হয়ে থাকে।
আমি কাউকে ছোট করতে চাই না। শুধু নিজের জীবনের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা লিখে রাখলাম। কারণ কিছু ঘটনা সময় পেরিয়ে গেলেও মানুষের মনে দাগ রেখে যায়।
ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না; ক্ষমতার ব্যবহারই বলে দেয় মানুষটি আসলে কতটা বড়।
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত