চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ৮৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে মনে করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটি মনে করছে, চলতি অর্থবছরের জুন মাস শেষে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এ বছর এনবিআরের শুল্ক কর আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্য ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।
গতকাল রোববার রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ পরিস্থিতি জানিয়েছে এনবিআর। সেখানে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
এনবিআর আরও বলছে, রাজস্ব আদায়ের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য ইতিমধ্যে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ওই টাস্কফোর্সগুলো ইতিমধ্যে আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাসহ কর আদায় বৃদ্ধির নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
রাজস্বঘাটতি হলে কী হয়
রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হলে প্রথমেই সরকারের খরচে টান পড়ে। প্রতিবছর বাজেটের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি জোগান দেয় এনবিআর।
কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতা, দেশি–বিদেশি ঋণের সুদ খরচসহ পরিচালক খরচ হিসেবে বাজেটে বরাদ্দ থাকে। এসব খরচ করতেই হবে। সেখানের কমানোর সুযোগ নেই বললেই চলে।
কিন্তু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় সরকারে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। যেমন চলতি অর্থবছরের ২ লাখ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করছে।
যখনই অর্থের জোগানে টান পড়ে, তখন পরিচালন খরচ কমানোর সুযোগ থাকে না। এ সময় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ কমায়। এ ছাড়া প্রকল্পের টাকা খরচ করার সক্ষমতাও কম। এডিপির টাকা কমানোই সরকারের হাতে বিকল্প থাকে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর–জিডিপি অনুপাত বেশ কম। বর্তমানে তা ৬–৭ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে।