ছবির এই তিন নারী পরস্পর জা। অর্থাৎ তাঁদের স্বামীরা ছিলেন তিন ভাই। আর তিন ভাইয়ের সবাই ছিলেন সম্মুখসারির মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের নাম এহছাক মিয়া, আবুল কাশেম ও মোকসেদুর রহমান।
তিন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী ছোট সাতবাড়িয়া গ্রামে।
১৯৭১ সালের এপ্রিল-মে মাসে তিন ভাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্র/শিক্ষণের জন্য ভারতে যান। প্র/শিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। যু//দ্ধের একপর্যায়ে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে রা/জা/কারদের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমলে তিন ভাই কয়েক দিনের জন্য বাড়িতে এসে রাতে থাকতে শুরু করেন।
সে সময় পা/কিস্তানি সে/নারা রা/জা/কারদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিত লু/ট/পাট চালাত। ২৩ আগস্ট চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথ দিঘি পা/কিস্তানি ক্যা/ম্প থেকে আসা পা/কিস্তানি সে/নাদের একটি দল রা/জা/কারদের সঙ্গে নিয়ে লু/টপাটের জন্য ছোট সাতবাড়িয়ায় আসে।
পা/কিস্তানি সে/নাদের আগমনের খবর কিছুই জানতে পারেননি তিন মুক্তিযোদ্ধা। বিভিন্ন বাড়ি থেকে ছাগল, হাঁস-মুরগি ও কবুতর লু//ট করার পর পা/কিস্তানি সে/নাদের একটি দল তাঁদের বাড়িতেও যায়। তবে পা/কিস্তানি সে/নারা বুঝতে পারেনি, এই তিন ভাইই মুক্তিযোদ্ধা।
সেনারা বাড়িতে আসতেই তিন ভাই বুঝতে পারেন, তাঁরা মহাবিপদের মধ্যে পড়েছেন। যেভাবেই হোক প্রা/ণে বাঁচ/তে হবে। তবে পা/কিস্তানি সে/নাদের মূল লক্ষ্য ছিল লু/ট/পাট। তিন ভাই কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ায় সে/নারা তাঁদের বাড়ি থেকে হাঁস-মুরগি ও ছাগল লু//ট করে ক্যা/ম্পের দিকে ফিরে যায়। প্রা/ণে বেঁ/চে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তিন মুক্তিযোদ্ধা সহোদর।
কিন্তু তাঁদের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
পা/কিস্তানি সে/নারা চিওড়া বাজারে পৌঁছালে রা/জা/কাররা জানতে চায়, তারা কোথা থেকে এসব জিনিসপত্র নিয়ে এসেছে। সে/নাদের কাছ থেকে শুনে রা/জা/কাররা বুঝতে পারে, লু//ট করা বাড়িগুলোর একটি ছিল তিন মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি। তারা সে/নাদের জানায়, তিন ভাই কয়েক দিন ধরে গোপনে ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন। আজই তাঁদের ধরিয়ে দিতে না পারলে তাঁরা প্রা/ণে বেঁ/চে যাবেন।
রা/জা/কাররা তিন মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে পা/কিস্তানি সে/নাদের বিস্তারিত জানালে সে/নারাও আর দেরি করেনি। তারা এহছাক মিয়ার বাড়ির দিকে রওনা হয়।
এদিকে পা/কিস্তানি সে/নারা চলে যাওয়ায় তিন ভাইও কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা ভাবছিলেন, সে/নারা তাঁদের সন্দেহ করেনি। কিন্তু চুপিসারে বাড়িতে ফিরে এসে পা/কিস্তানি সে/নারা মুহূর্তের মধ্যে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পালানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ধ/রা পড়েন তিন সহোদর মুক্তিযোদ্ধা।
তাঁদের মা/রতে মা/রতে নিয়ে যাওয়া হয় পা/কিস্তানি সে/নাদের জগন্নাথ দিঘি ক্যাম্পে। সেখানে সারা রাত তাঁদের ওপর চালানো হয় অবর্ণনীয় পা/শ/বিক নি/র্যা/তন।
টানা দেড় দিন ধরে প্রচণ্ড নি/র্যা/তনের পর ২৪ আগস্ট তিন ভাইকে দিয়ে একটি গ/র্ত খোঁড়ানো হয়। পরে সেদিন সন্ধ্যার দিকে সেই গর্তের সামনে তাঁদের গু//লি করে হ//ত্যা করে পা/কিস্তানি সে/নারা। এরপর তাঁদের সেই গ/র্তেই মাটিচাপা দেওয়া হয়।
স্বামীদের এমন নি/র্ম/ম প/রিণতির খবর ও শোক সহ্য করতে পারেননি তাঁদের তিন স্ত্রী। স্বামী হা/রানোর চরম শো/ক ও আঘা/তে তিন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীই মা/নসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। আজও তাঁরা কিছু বলতে পারেন না। তাঁদের কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধু ফ্যালফ্যাল করে প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন।
ঘটনার পর মুক্তিযোদ্ধারা তিন ভাইয়ের খোঁজ দেওয়ায় রা/জা/কার টুকু মিয়াকে খুঁজে বের করে হ//ত্যা করেছিলেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জগন্নাথ দিঘির পাড়ের সেই গ/র্ত থেকে তিন সহোদর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার দেহাব/শেষ উদ্ধার করেন মুক্তিযোদ্ধারা। পরে তাঁদের তিন ভাইকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী কব/রস্থানে সমাহিত করা হয়।
তিন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কোনো ছবি পাওয়া যায়নি। ছবিতে থাকা তাঁদের তিন শহীদ জা-এর ছবিটি প্রথম আলো থেকে নেওয়া, আলোকচিত্রী বাশার খানের তোলা।
ডান থেকে, এছাক মিয়ার স্ত্রী আছকিরন্নেসা, আবুল কাশেমের স্ত্রী খায়েরা বেগম ও শহীদ মোকসেদুর রহমানের স্ত্রী ফিরোজা বেগম।
মুক্তিযুদ্ধের জন্য অসীম ত্যাগ স্বীকারকারী এই নারীদের এবং শহীদ তিন সহোদর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।
বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।