গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক নিয়োগপ্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা চায়
গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক বলছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দপ্তরে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে তারা কোনো ‘পারস্পরিক সুবিধা বিনিময়’-এর প্রমাণ পায়নি; তবে নিয়োগটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
লেখক: আকিহিতো মুরানাকা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাঠের সময়: ২ মিনিট
নিউইয়র্ক — গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনছে না। তারা জাতিসংঘের কাছে জানতে চাইছে—নিয়োগের প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তার নথি ও ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হোক।
নজরদারি সংস্থাটি চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের কাছে একটি প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান কীভাবে খলিলুর রহমানের দপ্তরে আইন কর্মকর্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেন, সে বিষয়ে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন পর্যালোচনা হওয়া উচিত। খলিলুর রহমান বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক এবং বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সংগঠনটির পরিচালক কাজী মামুন এক বিবৃতিতে বলেন, “এই নিয়োগকে ঘিরে নথিভুক্ত সম্পর্কগুলো এমন কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়, যার স্বাধীন ও তথ্যভিত্তিক উত্তর পাওয়া উচিত। তবে এসব তথ্য একাই দুর্নীতির প্রমাণ নয়।”
গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক যে ঘটনাক্রম তুলে ধরেছে, তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে খলিলুর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। তারেক রহমান নিজেও ১৭ বছরের নির্বাসনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসেন। এরপর তারেক রহমানের সরকার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে খলিলুর রহমানকে মনোনীত করে। ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খলিলুর রহমান সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতির নির্বাচনে জয়ী হন। পরে বিজয়ী বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় “দৃঢ়ভাবে ও ধারাবাহিকভাবে” সমর্থন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে জাতিসংঘের নিজস্ব ওয়েবসাইটে খলিলুর রহমানের সভাপতির দপ্তরের অধীনে “লিগ্যাল অফিসার—বাংলাদেশ” হিসেবে জাইমা রহমানের নাম দেখা যাচ্ছে। দ্য ডেইলি স্টারও স্বাধীনভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক ওই তথ্যগুলো থেকে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করেনি। সংগঠনটি স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা এখন পর্যন্ত “এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ শনাক্ত করতে পারেনি” যে তারেক রহমান তাঁর কন্যার জন্য কোনো পদ চেয়েছিলেন, কিংবা রাজনৈতিক সমর্থনের বিনিময়ে খলিলুর রহমান তাঁকে কোনো পদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।
বরং তাদের উত্থাপিত ১০টি প্রশ্ন মূলত নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে। যেমন—জাইমা রহমানকে ওই পদের জন্য কে মনোনীত করেছিলেন, পদটি প্রতিযোগিতামূলকভাবে বিজ্ঞাপিত হয়েছিল কি না, অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তাঁর যোগ্যতা কে মূল্যায়ন করেছিলেন এবং তাঁর বেতন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় কে বহন করছে।
নর্থইস্ট নিউজ ইতোমধ্যে এই প্রশ্নগুলোর একটি দিক সামনে এনেছে। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দপ্তরে “লিগ্যাল অফিসার” পদে জাতিসংঘের প্রকাশ্য চাকরির তালিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি বলে তারা উল্লেখ করেছে। অবশ্য, শুধু এই তথ্যই কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়; তবে এতে আরও নির্দিষ্ট একটি প্রশ্ন সামনে আসে—বাস্তবে কোন নিয়োগ পদ্ধতির মাধ্যমে এই পদটি পূরণ করা হয়েছিল?
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে এর আংশিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বলেছেন, জাইমা রহমানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিদ্যমান নিয়ম ও নিয়োগপ্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিতভাবে জানাননি, কোন ধরনের নিয়োগ পদ্ধতি এখানে প্রযোজ্য হয়েছে—প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ, সরকারের মাধ্যমে প্রেষণ, নাকি অন্য কোনো ব্যবস্থা।
গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে জাতিসংঘের একটি নির্দিষ্ট বিধানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির নৈতিক আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো সরকার থেকে কর্মীকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে কোনো পদের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ না হওয়াই এককভাবে অনিয়মের প্রমাণ নয়।
সংগঠনটির মূল প্রশ্নটি তাই স্বজনপ্রীতির সরাসরি অভিযোগের চেয়ে অনেক বেশি নির্দিষ্ট ও প্রক্রিয়াগত: এই নিয়োগ কোন শ্রেণির বা কোন ব্যবস্থার আওতায় হয়েছে এবং নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেউ—খলিলুর রহমানসহ—কোনো ভূমিকা পালন করেছিলেন কি না।
এই প্রক্রিয়াগত প্রশ্নের কারণেই বিষয়টি বাস্তব কোনো তদন্তে যাওয়ার আগেই প্রশাসনিক বা এখতিয়ারসংক্রান্ত জটিলতায় আটকে যেতে পারে। জাতিসংঘের নিজস্ব নৈতিক আচরণবিধি সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং তাঁর দপ্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্কের বিবৃতিতেই উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি একজন নির্বাচিত কর্মকর্তা, সাধারণ সচিবালয়ের কর্মচারী নন। ফলে দায়িত্ব পালনরত কোনো সাধারণ পরিষদ সভাপতির নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত করার এখতিয়ার আদৌ কোন তদারকি সংস্থার রয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক বলেছে, কোনো অভিযোগের অংশ যদি একটি নির্দিষ্ট সংস্থার এখতিয়ারের বাইরে পড়ে, তাহলে সেটি বাতিল না করে সংশ্লিষ্ট অন্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো উচিত।
জাতিসংঘ এই অনুরোধ গ্রহণ করবে কি না, অথবা জাইমা রহমানের নিয়োগসংক্রান্ত নথি এমন কোনো এখতিয়ারগত শূন্যতায় আটকে থাকবে কি না—যার আশঙ্কা গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্কের বিবৃতিতেই করা হয়েছে—এখন পর্যন্ত তার উত্তর জাতিসংঘ বা বাংলাদেশ সরকার, কোনো পক্ষই দেয়নি।
Ehsanul Aziz Babu's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।