প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ২:১৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ৭:০৪ পি.এম
জাতিসংঘ, ডিপ স্টেট, মার্কিন গোয়েন্দা সিআইএ সায়মা ওয়াজেদকে টার্গেট করে
অনলাইন মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোকে আমার অনেক সময় ভালো লাগে। তার অন্যতম কারণ গণমাধ্যমগুলো রাষ্ট্রের অনেক স্পর্শকাতর সিক্রেট খবর প্রশাসনের উর্ধ্বে গিয়ে প্রকাশ করে দেয়, যার ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রায়ই দেখা যায় মিডিয়া লাইসেন্স বাতিল করার হুমকি দিতে ৷ যেমনঃ ইরান সংঘাতে বোমা বারুদ, মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুদ কমে যাওয়া, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও মনমালিন্যতাসহ অনেক স্পর্শকাতর খবর মার্কিন গণমাধ্যমগুলোই প্রকাশ করেছিল।
গত পরশু শেখ হাসিনা কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগে ডব্লিউএইচও-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে বলে গণমাধ্যম রয়টার্স এক্সক্লুসিভ ব্রেকিং নিউজ এর মাধ্যমে প্রকাশ করেছিল। আবার রয়টার্সই জানিয়েছে জাতিসংঘের ডব্লিউএইচও সংস্থাটি পরিকল্পনা করছিল সায়মা ওয়াজেদকে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করতে। অর্থাৎ এটি প্রমাণিত হয় জাতিসংঘ তথা ডিপ স্টেটের নির্দেশে ডব্লিউএইচও এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এক্স ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে সিআইএ এজেন্ট খলিলুর রহমান, যাকে ডিপ স্টেট পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বসিয়েছে।
জাতিসংঘ, ডিপ স্টেট, মার্কিন গোয়েন্দা সিআইএ শেখ হাসিনার পতনের পেছনে জড়িত ছিল। সুতরাং তার মেয়েকে টার্গেট করা করা হবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে সায়মা ওয়াজেদকে টার্গেট করে আওয়ামী লীগের জন্য ভালো হয়েছে, দেশের মানুষ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছে শেখ হাসিনা পতনের পেছনে কারা ছিল।
এখন অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করবেন টিউলিপ সিদ্দিক ট্রেজারি মন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করার পেছনেও কি ডিপ স্টেটের হাত ছিল? এটির সরল উত্তর হল, ইরান সংঘাতের সময় মার্কিন পলিসির বিরোধীতা করায় টিউলিপ সিদ্দিকের লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীত্ব চলে যায়। যদি বুঝেন এটুকুতেই বুঝবেন, আর লজিকের প্রয়োজন হবে না।
সায়মা ওয়াজেদের নামে যে তিনটি অভিযোগ গণমাধ্যমগুলো প্রচার করছে, তার জবাবে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সোশ্যাল নেটওয়ার্কের একাউন্ট থেকে নিজের অবস্থান জোরালোভাবে ক্লিয়ার করেছে, তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে জানিয়েছেন তার যোগ্যতার কোনো জালিয়াতির প্রমাণ নেই, প্রয়োজনের তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্রমণ করে সনদ যাচাই করার কথা বলেছেন। দ্বিতীয়ত চীন সফরে ৯০১ ডলার দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি ডব্লিউএইচও-এর কাজে চীন সফরই করেননি বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশে দুদকের করা প্লট দুর্নীতির মামলা যে ড. ইউনূসের সাজানো নাটক তা বুঝার কারো বাকি নেই।
তবে একটি বিষয় জেনে রাখা ভালো, ২০২৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সমাবর্তনে অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারে বিশেষ অবদান রাখার জন্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সম্মান সূচক ডিগ্রি প্রধান করেছিল। কিন্তু ড. ইউনূস সরকার তার এই ডিগ্রি বাতিল করে।
Monirul Insider 's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত