জানা গেছে চলতি অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ৩০ লাখ, কাবিটার (কাজের বিনিময়ে টাকা) ২৫ লাখ টাকা ও কাবিখার (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ৪০ টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। তাঁর সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় টিআরের ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ভাগ করে করে প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে।
এমপি সম্পর্কে আমার মামা হয়। সেটা অস্বীকার করার কিছু নেই। আমরা শতভাগ কাজ করব। প্রকল্পের একটি টাকাও মেরে খাব না। কাজ যাতে স্বচ্ছ হয়, এ জন্য আমাদের দিছে। কাজে অনিয়ম হলে তো জামায়াত থেকে আগে ধরবে। আমার বাবা জামায়াতের ওয়ার্ড সেক্রেটারি।
সালমান শরিফ, প্রকল্পের সভাপতি
উপজেলার সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণের কাবিখা প্রকল্পে ১০ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে সভাপতি ইয়াকুব আলী সংসদ সদস্যের চাচাতো বোনের স্বামী। অপর প্রকল্পটি একই গ্রামের সংসদ সদস্যের ভগ্নিপতি ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়িগামী রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফকে। এই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা-পুত্র। তাঁরা দুজনই সম্পর্কে সংসদ সদস্যের ভাগনে ও ভগ্নিপতি।
বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তুলারামপুর গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরাতন জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে সংসদ সদস্য তাঁর আত্মীয়স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পীরগঞ্জ পৌর জামায়াতের এক নেতা বলেন, ভাগনে ও ভগ্নিপতির নামে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি সত্য। এটা লুকিয়ে রাখার কিছু নেই। দুই–চার দিন পর হলেও সেটা উন্মোচন হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে পীরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সংসদে আছি, এখানে কথা বলা কঠিন’ বলে সংযোগ কেটে দেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, দুই প্রকল্পের একটিতে ১০ টন, একটিতে ৮ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের অর্ধেক ছাড় করানো হয়েছে। এমপির ভাগনে হোক আর ভগ্নিপতি হোক, যে–ই হোক না কেন কাজ দেখে বাকি বরাদ্দ ছাড় করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, কাজ না করে খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই। কাজ বুঝে নিয়ে বরাদ্দ ছাড় করা হবে।