জায়হানকে যখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন স্বজনদের সঙ্গে খুঁজতে বের হন প্রতিবেশী মো. সাইফুদ্দিন। বাড়ির পাশের পুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিতে অংশও নেন তিনি। একপর্যায়ে জায়হানের বাবা মো. শাহজাহানের সঙ্গে বসে চা-ও পান করেন। পরিবারের কেউই তখন সন্দেহ করেনি, সাইফুদ্দিন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
গতকাল বুধবার গভীর রাতে বাড়ির পেছনের ময়লার স্তূপ থেকে জায়হানের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার হয়। গত মঙ্গলবার দুপুরে থেকে নিখোঁজ ছিল সে। স্বজনেরা থানায় ডায়েরি করার পর গতকাল দুপুরে পুলিশ জায়হানদের প্রতিবেশী সাইফুদ্দিন, তাঁর স্ত্রী শানু আক্তার ও মেয়ে সাদিয়া সুলতাোকে (১৯) আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে জায়হানের হত্যার কথা স্বীকার করেন তাঁরা। এরপর তাদের দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় জায়হানের লাশ।
আজ সকালে দক্ষিণ গোবিন্দারখীল পূর্ব পাড়ায় জায়হানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। জায়হানের মা জোবাইদা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আঁর ফোয়ারে ঘরত মারি রাহি আই, এডে আঁরার লগে দুরের। (আমার ছেলেকে ঘরে হত্যার পর খুনি এসে আমাদের সঙ্গে খোঁজ করেছে।)’
জোবাইদা বলেন, ১৫ বছর ধরে সাইফুদ্দিনরা তাঁদের প্রতিবেশী। তিনি কল্পনাও করেননি, প্রতিবেশীরা এমন কাজ করতে পারে। তাঁর একটাই দাবি, ছেলে হত্যার বিচার।
এদিকে, চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, সাইফুদ্দিনের মেয়ে সাদিয়া সুলতানার হাতের লেখার সঙ্গে চিরকুটের লেখার মিল ছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।
অপহরণের পরও একবার ছেলের কণ্ঠস্বর শুনেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। জোবাইদা বেগম বলেন, ‘আমি চারদিকে ছুটে ছুটে আমার ছেলেকে খুঁজেছি। ওরা আমার ছেলেকে কোনো আওয়াজ করতে দেয়নি। কিন্তু একবার আমার ছেলে “ও মা” বলে ডেকেছিল। সেই ডাক আমার কানে এসেছিল। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এটা কি আমার ছেলের আওয়াজ? তখন তারা বলেছিল, না, এটা আমার ছেলে নয়, অন্য কারও আওয়াজ।’