মেহেরপুর শহরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় স্মৃতি খাতুন (২৬) নামের এক নারীকে কুপিয়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন স্মৃতির বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুন। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া সায়ন মিয়াকে (২৮) আজ বুধবার সকালে আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ডমার্কেট এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত তিনজনকে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে চলতি মাসের ১৫ তারিখ পরিবারের অমতে সায়নকে বিয়ে করেছিলেন স্মৃতি। এরপর পরিবারের চাপে ২৩ আগস্ট সায়নকে তালাক দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল গভীর রাতে জানালার গ্রিল বেয়ে সেলিম হোসেনের বাড়িতে ঢোকেন সায়ন। এরপর ঘরে ঘুমিয়ে থাকা স্মৃতির ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।
প্রতিবেশীরা এসে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা এম এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। স্মৃতির ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাঁর বাবা-মায়ের শরীরেও গভীর ক্ষত আছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। স্মৃতির ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাঁর বাবা-মায়ের শরীরেও গভীর ক্ষত আছে।
এম এম জাহিদুল ইসলাম, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল
ঘটনার পর সায়ন পালিয়ে যান। আজ সকাল সাতটার দিকে শহরের মল্লিকপাড়ার একটি আমবাগান থেকে তাঁকে আটক করে মেহেরপুর সদর থানা-পুলিশ।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে সম্প্রতি সায়নকে তালাক দেন স্মৃতি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তালাকের ক্ষোভ থেকেই সায়ন এ হামলা চালিয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।