
এই 'কুলাঙ্গার' আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাসান মাহমুদ, মাহবুবুল আলম হানিফ, মির্জা আজম ও এডভোকেট আফজাল হোসেনদের মতো
আত্মঅহংকারী, প্রতিহিংসা পরায়ণ, নির্দয়, নির্মম, অমানবিক, লুটেরা ও জনবান্ধবহীনদের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আনা এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগে তথা সরকারে অসম প্রভাব বিস্তার করার কারনেই আজ আওয়ামী লীগের এই করুন দশা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তারা ভুল পথে পরিচালিত করেছেন বা করতে প্ররোচিত করেছেন বলে আমি এবং রাজনৈতিক সচেতন অনেকেই মনে করেন।
যাক এটা দির্ঘ রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা বা বিতর্কের বিষয়। আমি ওই দিকে যাব না। আমি যেটি বলছি বা যে দিকে ইঙ্গিত করছি, বিশেষ করে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের ছবি সহ কেন এই মন্তব্য গুলো লিখছি, তার একটি কারণ রয়েছে, সেটি এখন ব্যাখ্যা করছি :-
বাহাউদ্দিন নাছিম তখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। যতদূর মনে পড়ে, ঘটনাটি সম্ভবত ২০১২, ১৩ বা ১৪ সালের হতে পারে। নিউজ খুঁজলে সঠিক দিন তারিখও বের করা সম্ভব। তখন আমি দেশের সর্বাধিক প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বরিশাল বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত একটি সংবাদের জন্য একদিন বাহাউদ্দন নাছিমকে ফোন দিলাম। তারপর তিনি কি বললেন শুনেন:-
যথারীতি সালাম এবং কুশল বিনিময় করেই আমার প্রশ্ন ছুড়ে দিলাম। তখন তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, ও আপনি বাংলাদেশ প্রতিদিনে কাজ করেন। তো কি নাম বললেন যেন। আমি আবার আমার নামটি পুন উচ্চারণ করলাম।
তখন তিনি বললেন, শোনেন আজ আমার মনটা ভালো তাই আপনার সাথে কথা বলছি। আমি সাধারণত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলি না। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার সম্পাদক যেন কে। আমি বললাম জনাব নঈম নিজাম। তিনি বললেন, ও আচ্ছা নঈম নিজাম। তিন তো আমাদেরই লোক। এক সময় তিনি যুবলীগ করতেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি শুধু 'জি জি' সায় দিয়ে আমার প্রশ্নের দিকে যেতে চাইছিলাম।
তারপর তিনি বললেন, আপনি যেন কি জানতে চাইছিলেন। আমি কাঙ্খিত উত্তরটুকু পেয়ে কথা না বাড়িয়ে যথারীতি সালাম দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলাম। এবং আমি ভাবলাম যে, লোকটি কি বললেন! আমি দেশের সর্বাধিক প্রকাশিত ও শীর্ষ প্রচারিত জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রের বিভাগীয় পর্যায়ের একজন সাংবাদিক হিসেবে তো একটি রাজনৈতিক দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে ফোন দিতেই পারি এবং সেটি সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে। সুতরাং সেখানে কি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এই ধরনের মন্তব্য করতে পারেন। আমার মন্তব্য হলো, 'না'।
একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (তার উপরে আবার ক্ষমতাসীন দল) পদে থেকে যিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবেন না বা
অনীহা প্রকাশ করবেন কিংবা জনগণের দাবি, মতামত ও জনআকাঙ্ক্ষার কথা শুনবেন না, যে দায়িত্ব তার পালন করার কথা, তিনি তা করছেন না বা করেন নি। তখন তার মতো একজন অযোগ্য অপরিণামদর্শীকে কেন বিভাগীয় দায়িত্ব দেওয়া হলো। তোষামোদি, চাটুকারিতা আর গলাবাজির পদোন্নতি পেয়ে তিনি আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রাচীন বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন। তার মতো অনেকে এইভাবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পেয়ে দলকে ভুল পথে পরিচালিত করে জনবান্ধহীন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাচ্ছিলেন গভীর অন্ধকারের দিকে। জনগনের ভোটাধিকারবিহীন রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তাদেরকেই গুরুত্ব দিলেন এবং তাদের দেখানো গভীর অন্ধকার পথেই হাঁটলেন। যার ফলশ্রুতিতে সুবিধাবাদী, গলাবাজ হাইব্রিড পরিবেষ্টিত আওয়ামী লীগ জনবান্ধবহীন হয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এক দিনে না হলেও ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা তলানি ঠেকিয়ে জনরোষের মুখে তারা পালিয়েছে। সাথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই দেশান্তর হয়ে দেশের মানুষকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শূন্যতার এই সুযোগে উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা বা আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির একার পক্ষে উগ্রবাদীদের মোকাবেলা করা সম্ভব নয় এবং পাড়বেও না। উগ্রবাদী জঙ্গিবাদ ঠেকাতে জাতীয় রাজনীতির মাঠে বিএনপি'র পাশাপাশি আওয়ামী লীগকেও প্রয়োজন। এটি সাধারণ জনগণ মনে করেন বলে আমার ভাবনা।
সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সহ সাধারণ মানুষ মনে করেন যে পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠে আসুক, সেই ভোটবিহীন জবরদস্তি মুলক আওয়ামী লীগ মানুষ প্রত্যাশা করেন না। তারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক আদর্শিক আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে চায়। একথাও সত্য যে, বর্তমান সভানেত্রী শেখ হাসিনা যতদিন জীবিত বা সুস্থ আছেন তিনিই আওয়ামী লীগের আস্থার প্রতীক। দলের হাইব্রিডদের একটি অংশ ছাড়া তৃণমূলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী সহ জাতীয় পর্যায়ের নেতাদেরও শেখ হাসিনাতে-ই আস্থা।
তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবশ্যই আত্মঅহংকারী, তোষামোদকারি, চাটুকার, লুটেরা, খুনি, সিরিয়াল কিলার এবং তারিক সিদ্দিকর মতো লোকদের দূরে সরিয়ে দিয়ে জনবান্ধব নেতাদের দায়িত্ব দিতে হবে। তাহলেই আওয়ামী লীগ আবারও জনবান্ধব হয়ে ক্ষমতায় গিয়ে দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পাবে বলে আমি মনে করি। এটি আওয়ামী লীগ প্রধান তথা নীতি নির্ধারকদের বিবেচনায় রাখা উচিত বলে জণআকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিকরা ভবিষ্যতে জনকল্যানে কি সিদ্ধান্ত নেবেন সে দিকে তাকিয়ে আছে দেশের জনগণ। এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে।
আমি মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই। একজন সাংবাদিকের সাথে বাহাউদ্দিন নাছিমের কথোপকথনের বিষয়টি নিয়ে আমার ভাবনা এলো, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি'র তখনকার বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং এখনও তিনি দায়িত্বে বহাল জনাব অ্যাডভোকেট বিলকস জাহান শিরিন আপার কথা। যিনি এখন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন। ইদানিং যোগাযোগ না থাকলেও তখনকার দিনে রাজনৈতিক সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে যখনই আপাকে ফোন দিতাম কিংবা টেলিভিশনের জন্য সরাসরি সাক্ষাৎকার নিতাম তাকে সালাম দিলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন হ্যাঁ রাহাত কেমন আছো ভাই। এই যে একটা ব্যবহার সেটি না হলেও কাছাকাছি কেন বাহাউদ্দিন নাছিমের এর কাছ থেকে পেলাম না এই ভাবনাটি আমার বিভিন্ন সময় মাথায় ঘুড়পাক খায়।
আওয়ামী লীগ বিহীন রাজনৈতিক মাঠে বিএনপি'র পক্ষে উগ্র ডানপন্থী তথা আলবদর-রাজাকার জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই আওয়ামী লীগকে অবশ্যই রাজনৈতিক মাঠে প্রয়োজন উগ্রবাদকে প্রতিরোধ এবং গনতন্ত্রেরর ধারা বজায় রাখতে। তবে অবশ্যই আওয়ামী লীগে এই বাহাউদ্দিন নাছিমের মতো 'কুলাঙ্গাররা' আর কখনো রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসুক বা তাদেরকে দেয়া হোক এটা বোধহয় দেশের মানুষ তথা আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা-কর্মীরাও চাইবেন না। এই উপলব্ধি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের হবে বলে আমি এবং আমার মতো অনেকেই বিশ্বাস করেন।
লেখক :
রাহাত খান।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক।
সেল ফোন নম্বর: +61 410 110 719
Email id : Khanbsl1971@gmail.com
Rahat Khan's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।