বিওয়াইডির অন্যতম আলোচিত প্রযুক্তি ‘ব্লেড ব্যাটারি’। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রচলিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির তুলনায় এ প্রযুক্তি বেশি নিরাপদ ও অগ্নিনিরোধী। ব্যাটারির নিরাপত্তা যাচাইয়ে নেইল পেনিট্রেশন পরীক্ষার কথাও তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে তীক্ষ্ণ পেরেক দিয়ে ব্যাটারি ছিদ্র করার পরও আগুন বা ধোঁয়া সৃষ্টি না হওয়ার বিষয়টি প্রদর্শন করা হয়েছে।
ইভির পরিচালন ব্যয় কম হওয়াকেও বড় সুবিধা হিসেবে দেখছে বিওয়াইডি। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, প্রচলিত জ্বালানি গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ১৪ টাকা বা তার বেশি খরচ হলেও তাদের কিছু ইভি মডেলে এ ব্যয় প্রায় ২ টাকা ৫০ পয়সা। মডেলভেদে একবার পূর্ণ চার্জে ৩৪৫-৪২০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলার সক্ষমতা রয়েছে।
বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন দামের মডেলও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বিওয়াইডি সিল ৫-এর দাম ৩৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সিলায়ন ৫-এর দাম ৪৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সিলায়ন ৬-এর ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ সংস্করণের দাম ৬১ লাখ ৯০ হাজার এবং অল-হুইল ড্রাইভ সংস্করণের দাম ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক অ্যাটো ৩-এর দাম সংস্করণভেদে ৪৬ লাখ ৯০ হাজার থেকে ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
প্রিমিয়াম ইভি সেডান সিলের দাম শুরু হয়েছে ৪৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা থেকে। এর বর্ধিত প্রিমিয়াম সংস্করণের দাম ৮৭ লাখ ৯০ হাজার এবং অল-হুইল ড্রাইভ পারফরম্যান্স সংস্করণের দাম ৯৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ সংস্করণটি একবার পূর্ণ চার্জে ৫৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।
গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টিও দিচ্ছে বিওয়াইডি। ট্র্যাকশন ব্যাটারিতে আট বছর বা ১ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার এবং মোটর ও মোটর কন্ট্রোলারে আট বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি রয়েছে। পুরো গাড়ির প্রস্তুতকারক ওয়ারেন্টি হিসেবে ছয় বছর বা ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটারের সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে।
দেশে চার্জিং অবকাঠামো বাড়াতেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। গাড়ির সঙ্গে হোম ও পোর্টেবল চার্জার দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে দ্রুত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে মাদানী এভিনিউ, পল্টন, উত্তরা ও তেজগাঁও লিংক রোডে বিওয়াইডির ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। চট্টগ্রাম ও বগুড়াতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের বাজারে সিলায়ন ৬ মডেলটি উল্লেখযোগ্য বিক্রয় সাফল্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিওয়াইডি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গাড়ি অ্যাসেম্বল করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বলি শুরু হলে গাড়ির দাম আরো প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার পাশাপাশি দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আয়োজকরা জানান, বিওয়াইডি মিডিয়া ড্রাইভ ছিল নতুন গাড়ি প্রদর্শনের পাশাপাশি সেগুলো সরাসরি চালিয়ে দেখার একটি অভিজ্ঞতাভিত্তিক আয়োজন। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ির পারফরম্যান্স, আরাম, নিরাপত্তা, চার্জিং সুবিধা ও পরিচালন ব্যয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে জ্বালানি-নির্ভর গাড়ির বিকল্প হিসেবে নিউ এনার্জি ভেহিকেলের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এমন আয়োজন ভবিষ্যতে গ্রাহকদের ইভি সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।