নবী সুলায়মানের এক রাতে ১০০ স্ত্রীকে লাগানের ঘটনা।
.আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাউদ (আঃ)-এর পুত্র সুলায়মান (আঃ) একদা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আজ রাতে আমি আমার একশ’ স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হব এবং তাদের প্রত্যেকেই একটি করে পুত্র সন্তান প্রসব করবে, যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে।
.এ কথা শুনে একজন ফিরিশিতা বলেছিলেন, আপনি ’ইনশাআল্লাহ’ বলুন; কিন্তু তিনি এ কথা ভুলক্রমে বলেননি। এরপর তিনি তার স্ত্রীগণের সঙ্গে মিলিত হলেন; কিন্তু তাদের কেউ কোন সন্তান প্রসব করল না। কেবল এক স্ত্রী একটি অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করল।
.নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি সুলায়মান আঃ) ’ইনশাআল্লাহ্’ বলতেন, তাহলে তাঁর শপথ ভঙ্গ হত না। আর তাতেই ভালভাবে তার আশা মিটত। (বুখারী ৫২৪২, সহিহ হাদীস)
.এটা কি সম্ভব?
.একটি সাধারণ মানুষের পক্ষে এক রাতে ১০০ জন স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া জৈবিকভাবে কেন সম্পূর্ণ অসম্ভব। ধরুন রাতটি মাঝামাঝি প্রকৃতির বা ১২ ঘন্টা।
.1. রিফ্র্যাক্টরি পিরিয়ড (Refractory Period): পুরুষদের প্রতিবার বীর্যপাতের পর শরীরকে পুনরায় প্রস্তুত করতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়, যাকে রিফ্র্যাক্টরি পিরিয়ড বলে। সাধারণ পুরুষের ক্ষেত্রে এটি ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে, যা এক রাতে ১০০ বার হওয়া অসম্ভব করে তোলে।
.2. হরমোনের ঘাটতি: প্রতিবার মিলনের পর শরীরে প্রোল্যাক্টিন ও অক্সিটোসিন হরমোন বাড়ে এবং ডোপামিন কমে যায়। এর ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং টানা এতবার যৌন উত্তেজনা ধরে রাখা সম্ভব হয় না।
.3. বীর্য উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা: মানবদেহে অণ্ডকোষের বীর্য ও শুক্রাণু তৈরির একটি নির্দিষ্ট দৈনিক সীমা রয়েছে। মাত্র কয়েকবার বীর্যপাতের পরেই তরল উৎপাদন শেষ হয়ে যায়, ফলে ১০০ বার বীর্যপাত হওয়া জৈবিকভাবে অসম্ভব।
.4. অত্যধিক শারীরিক ক্লান্তি: যৌনমিলনে প্রচুর ক্যালোরি ও শক্তির ক্ষয় হয়। টানা ১০০ বার মিলনে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন, তা একজন মানুষের হৃদপিণ্ড ও পেশির পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব এবং এর ফলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
.5. ঘর্ষণের ফলে শারীরিক ক্ষত: কোনো লুব্রিকেন্ট বা প্রাকৃতিক তরলও টানা এতবার ঘর্ষণের ফলে ত্বক ও যৌনাঙ্গের ক্ষত, চামড়া ছিলে যাওয়া এবং তীব্র ব্যথা প্রতিরোধ করতে পারে না।
.6. মানসিক অবসাদ: যৌন উত্তেজনা একটি মানসিক বিষয়। মাত্র ৭.২ মিনিট পর পর নতুন সঙ্গীর সাথে মানসিক মনোযোগ ও কামোত্তেজনা ধরে রাখা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের ধারণক্ষমতার বাইরে।
.7. যৌন অঙ্গের শিথিলতা (Erectile Dysfunction): রক্ত সঞ্চালনের সীমাবদ্ধতার কারণে একটানা কয়েকবার মিলনের পর পুরুষাঙ্গের উত্থান ধরে রাখা বা কঠোরতা বজায় রাখা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়মে অসম্ভব।
.8. সময়ের তীব্র সংকট: ফোরপ্লে (মিলনের আগের প্রস্তুতি) ছাড়া সরাসরি মিলন নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মাত্র ৭.২ মিনিটে ফোরপ্লে এবং মিলন সম্পন্ন করা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।
.
9. প্রস্রাবের চাপ ও ডিহাইড্রেশন: বীর্যপাতের পর মূত্রথলি ও প্রোস্টেটের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার কারণে প্রস্রাবের বেগ বা শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায় (ডিহাইড্রেশন), যা শরীরকে নিস্তেজ করে দেয়।
.10. ঘুম ও বিশ্রামের প্রাকৃতিক চাহিদা: রাতের বেলা মানবদেহে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরকে ঘুমের সংকেত দেয়। এই প্রাকৃতিক ঘুম ও ক্লান্তির চাহিদাকে উপেক্ষা করে একটানা ১২ ঘণ্টা এমন কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করা অসম্ভব।
.11. সাধারণত প্রতিবারে ৩.৪ মিলিলিটার বীর্য বের হলে ৩৪০ মিলিলিটার বীর্যের প্রয়োজন হয়। এটা কি সম্ভব?
.12. এটা কি একটা হলরুমে ১০০ নারীর সাথে সঙ্গম ছিলো নাকি আলাদাভাবে প্রতি ঘরে আলাদা নারী? নারীরা কি ঐ রাতে কাপড় ছাড়াই প্রস্তুতি নিয়ে বসে ছিলো যে সুলায়মান আরবে আর প্রবেশ করাবে? এমন? নাকি হলরুমে নারীদের সিরিয়াল করে কার্যক্রম করা হয়েছে? সিরিয়াল করে করা হলে তা ইসলামের নবীর জন্য শোভনীয় নয়, একেবারেই স্পেশাল পর্ণস্টার টাইপ বিষয় তবুও বিরাট পরিসরে। আর যদি আলাদা ঘর থাকে তাহলে নবীর ১-২ মিনিটে আউট হওয়ার রোগ ছিলো। কারণ রুমে যেতে, কাপড় খোলতে, এসব নানান কাজে বাকি ৪-৫ মিনিট গেছে যতদ্রুতই করুক।