প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৫:১২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২২, ২০২৬, ৫:৫৬ পি.এম
নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং কয়েকটি ডিস্টার্বিং হেডলাইন
অঅলাইন শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং কয়েকটি ডিস্টার্বিং হেডলাইন
গতকাল টিভিতে এবং আজ সব সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে বিএনপি'র মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের খবর। একই সঙ্গে আজ প্রথম আলো এবং ইত্তেফাকে কয়েকটি ভয়াবহ খবর দেখলাম। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিশাল বিশাল হেডলাইনের কারণে এ খবরগুলো খুব একটা হয়তো মানুষের চোখে পড়েনি। এটা দেখার পর বারবার মনে হচ্ছিল এদেশে সাংবাদিকতার অবস্থা এমন কেন হল? ব্যাপারটা বুঝায় বলি।
সত্যি কথা বলতে কি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল প্রেডিক্টেবল এবং এ কারণেই এটা নিয়ে আমার তেমন কোন আগ্রহ ছিল না। তার চেয়েও বড় কথা বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির তেমন কোন কাজকর্ম নেই। স্বভাবতই এই পদের গুরুত্ব খুবই কম। তারপরও যেভাবে ফলাও করে এটা প্রচার হয়েছে তাতে সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক।
গতকাল একই দিনে ঘটে যাওয়া কয়েকটা সংবাদের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
১। সন্ত্রাসী রায়হানের ফেসবুকে হুমকি, লিখলেন 'ওয়েট এন্ড সি'; ২। চেয়েছিল ১৫০০০ ডলার চাদা, না দেওয়ায় ঢামেক চিকিৎসকের উপর হামলা; ৩। নাটোরে ইউএনও কার্যালয়ে হামলা--বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগের পর ডিসি ও দুই ইউএনও প্রত্যাহার, নানা প্রশ্ন; ৪। কনসার্ট-গানের অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ।
এ খবরগুলো আজকের প্রথম আলো এবং ইত্তেফাকে অনলাইনে ছাপা হয়েছে। এই খবরগুলো যে কত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভয়াবহ তা হেডলাইন গুলো দেখেই আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। আমি কোন পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলের সম্পাদক হলে এগুলোকে খুব প্রমিনেন্টলি প্রকাশ করতাম। কারণ এগুলোই আসল খবর যেটাতে দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলার কি অবনতি হয়েছে তার একটা snapshot পাওয়া যায়। কিন্তু এই আসল খবরগুলো চাপা পড়ে গেছে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের খবর এর ডামাডোলে।
প্রশ্ন হল সাংবাদিকরা কি এর গুরুত্ব বোঝেনি? আমার ধারণা তারা বোঝে। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে ক্ষমতাশীন সরকারের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে এই সংবাদগুলোকে প্রমিনেন্স দেয়নি। আর এটাতে প্রমাণ হয় সাংবাদিকরা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন না।
এ প্রসঙ্গে আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, তারেক রহমান বা তার সরকারের কেউ কি এই সংবাদ মাধ্যম গুলোকে কোন হুমকি-ধামকি দিয়েছে এ ধরনের খবর কে প্রমিনেন্স না দিতে? আমি খোঁজখবর নিয়ে জানলাম সরকার থেকে এরকম কোন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ এডভাইসরই ছিল না। তারপরও প্রথম আলো বা ইত্তেফাক এগুলো যথাযথভাবে প্রকাশ করেনি। বেশ কিছুদিন থেকে শুনতে পাচ্ছি এটা আমাদের সাংবাদিকদের সেলফ সেন্সরশীপের ফল।
ব্যাপারটা আমি সম্প্রতি নিজে এক্সপেরিয়েন্স করেছি। দিন দশেক আগে একটি টিভি চ্যানেল আমাকে তাদের টকশোতে আমন্ত্রণ জানায়। হাতে কিছুটা সময় থাকায় ওই চ্যানেলের ঊর্ধ্বতন সংবাদ কর্মীরা আমার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাপারে আলাপ করে। আমি তাদের বললাম, কতগুলো উল্লেখযোগ্য বহুল আলোচিত আপনারা রিপোর্ট করছেন না কেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সাবেক পুলিশ প্রধান কুখ্যাত বেনজিরের দেশে ফেরা বা কলঙ্কিত বোটক্লাব কিভাবে এখনো চলছে। উত্তরে চ্যানেলটির চিফ নিউজ এডিটর বললো, আরশাদ ভাই, আপনার ঠিক ধারণা নেই আমরা কি অবস্থার মধ্যে কাজ করছি। বললাম, আমাকে বুঝায় বলেন। তিনি বললেন, গতকাল আমাদের কাছে একটা খবর আসে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে দোকান ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তারপর বলল, এটা তো খুব বড় নিউজ যেহেতু বসুন্ধরা গ্রুপের অবৈধ কার্যকলাপ সম্পর্কে আমরা প্রতিদিনই খবর পাই। এরপর একজন রিপোর্টার এবং ক্যামেরাম্যানকে সেখানে পাঠিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করি। এরমধ্যে মালিকপক্ষ আমাকে ডেকে নেয় এবং বলে অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমগুলো এটা নিয়ে রিপোর্ট না করলে আমাদেরও করার দরকার নেই। তিনি বললেন, খোঁজ নিয়ে জানলাম অন্য কোন টিভি চ্যানেলই এটা প্রচার করেনি।
এই যদি আমাদের তথাকথিত স্বাধীন সাংবাদিকতার নমুনা হয় তবে এ দেশ কিভাবে সামনে এগোবে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
গতকালের আরেকটি খবর নাটোরে ইউএনও কার্যালয়ে হামলা। অভিযোগ ছিল স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এর পরপরই জেলা প্রশাসক এবং দুই ইউএনকে প্রত্যাহার করা হয়।
আমি শুধু চিন্তা করছি এই ধরনের ঘটনাতে যদি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া যায় তবে সেই দেশে আইনের শাসন কিভাবে প্রতিষ্ঠা হবে? না, আইনের শাসন আগেও যেমন ছিল না, এই নতুন সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো নেই। আর এ কারণেই দেশে সংঘাত, সহিংসতা কখনো কমবে বলে মনে হয় না। তার চেয়েও বড় কথা ক্ষমতাসীন দল যদি খুনের আসামিদের মন্ত্রী বানায় তবে সে দেশে সাধারণ জনগণ কি আশা করবে।
আরেকটি বিষয় উল্লেখ করে এই পোস্ট শেষ করছি। জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কারের অঙ্গীকার করেছিল বিভিন্ন দল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ভাগাভাগি করা। একইসঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা যাতে করে সংসদ সদস্যরা গৃহভৃত্য না হয়ে, স্বাধীনভাবে দেশের স্বার্থে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। মোটাদাগে, ক্ষমতাসীন দল যদি কোন অন্যায় কাজ করে সেটার বিপক্ষে যাওয়ার অধিকার থাকবে তখন এই সংসদ সদস্যদের। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও ক্ষমতাসীন দল এই ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন করেনি। অদূর ভবিষ্যতেও করবে বলে মনে হয় না। ফলে দেশ যে স্বৈরশাসনের দিকে আবারো যাবে এটা আমি প্রায় নিশ্চিত।
Arshad Mahmud's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত