জনাব নসরুল হামিদ বিপু ফেসবুকে আবার সক্রিয় হয়েছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নেতা-কর্মীদের অনেকেই তাঁর ফিরে আসাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিচ্ছেন না।
কমেন্টে যখন একের পর এক প্রশ্ন ও ক্ষোভ আসতে শুরু করল, শেষ পর্যন্ত কমেন্ট বক্সই বন্ধ করে দিতে হলো!

প্রশ্ন হলো—নেতা-কর্মীদের কথা যদি শুনতেই না পারেন, তাহলে রাজনীতি করবেন কীভাবে?
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, নসরুল হামিদ বিপুকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগই আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত নয়। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো—আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামোর কোন কোন প্রতিষ্ঠান কীভাবে দুর্বল হয়েছে, এবং এর জন্য কার কী দায় ছিল?

CRI প্রসঙ্গে আমার অবস্থান স্পষ্ট
আমার দৃষ্টিতে, CRI-কে দুর্বল বা ধ্বংস করার দায়ের প্রশ্নে নসরুল হামিদ বিপুর ভূমিকা নিয়ে কঠিন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ হওয়া প্রয়োজন।
যেভাবে অনেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্য ওবায়দুল কাদেরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, একইভাবে CRI-এর দুর্বলতার জন্য মি. বিপুর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা জরুরি।
কারণ দুটো বিষয়ই আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল—
একটি ছিল সংগঠন, আর অন্যটি ছিল গবেষণা, তথ্য, নীতি ও রাজনৈতিক কৌশল।

CRI কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
২০০১ থেকে ২০০৬ সালের রাজনৈতিক সময়টা একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, আওয়ামী লীগের জন্য গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
CRI পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের গবেষণা ও যোগাযোগভিত্তিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ‘A Charter for Change’ ইশতেহারে Vision 2021 ও Digital Bangladesh-এর মতো নীতিগত ধারণা সামনে আসে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ৩০০টির মধ্যে ২৩০টি আসন পায়।
এমনকি সমসাময়িক বিশ্লেষণেও CRI-কে আওয়ামী লীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ research wing/think-tank হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই প্রশ্নটা খুবই স্বাভাবিক—
যে প্রতিষ্ঠান একসময় রাজনৈতিক গবেষণা, তথ্য, তরুণ প্রজন্ম, জনমত ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেই প্রতিষ্ঠান কীভাবে দুর্বল হলো?
আর সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হতেই পারে।

দুর্নীতির অভিযোগ আর প্রতিষ্ঠান ধ্বংস—এক জিনিস নয়
কেউ যদি দুর্নীতি করে থাকে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা হতে পারে।
প্রমাণ থাকলে বিচারও হতে পারে।
একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক সক্ষমতা নষ্ট করার অভিযোগ আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।
কারণ ব্যক্তি হারালে একজন ব্যক্তি হারায়,
কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান হারালে বহু বছরের রাজনৈতিক সক্ষমতা হারিয়ে যায়।
এই জায়গাটিতেই নসরুল হামিদ বিপুর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আমার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

রাজনীতিতে ফিরে আসা শুধু ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার নাম নয়
ফেসবুকে ফিরে আসা সহজ।
কমেন্ট বক্স বন্ধ করে দেওয়া আরও সহজ।
নেতা-কর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন।
পুরোনো সিদ্ধান্তের হিসাব দেওয়া কঠিন।
ভুলের রাজনৈতিক দায় নেওয়া আরও কঠিন।
তাই শুধু ফেসবুকে সক্রিয় হলেই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন হয়ে যায় না।
রাজনীতিতে ফিরে আসতে হলে আস্থা ফিরে পেতে হয়।
আর আস্থা ফিরে পেতে হলে নেতা-কর্মীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
আমার ধারণা, নসরুল হামিদের সামনে সেই পথটি খুব সহজ হবে না।
তাঁকে সামনে একটি কঠিন রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিতে হতে পারে।

শেষ কথা
আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করতে চাই না।
কিন্তু আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে হলে ব্যর্থতা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির দায় নিয়েও কথা বলতে হবে।
যারা সংগঠনকে দুর্বল করেছেন—তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
যারা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছেন—তাদের ভূমিকাও আলোচনায় আসবে।
রাজনীতিতে পদ বড় নয়—রাজনৈতিক দায়টাই বড়।

আজ যে প্রশ্ন নসরুল হামিদ বিপুকে ঘিরে উঠছে, আগামী দিনে রামগতি উপজেলার অনেক নেতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠতে পারে।
সময় অনেক কিছু মনে রাখে।
মানুষও ভুলে যায় না।
আর রাজনীতির হিসাব—কখনো না কখনো ঠিকই সামনে আসে।

কমেন্ট বক্স বন্ধ করা যায়,
কিন্তু নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন বন্ধ করা যায় না।
#রাজনীতিরহিসাব
এস এম নাহিদ's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।