
ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে টেলিফোনে কড়া কথা শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে সম্মোধন করেছেন। নেতানিয়াহু যে এখন সবার কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠেছেন, সে কথাও শোনাতে ছাড়েননি ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের ইতি টানতে যুক্তরাষ্ট্র যখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে তা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তাদের সামরিক বাহিনী লেবাননে অভিযান আরও জোরদার করবে। এমনকি রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বোমা হামলা চালাবে।
ওই মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, কথোপকথনে বেশ নরম সুরে নেতানিয়াহুকে কড়া কথা শুনিয়ে দেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে। এ কারণে (যুদ্ধ) সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।’
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কথোপকথনের এক পর্যায়ে বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। তিনি নেতানিয়াহুর ওপর রীতিমতো চিৎকার করে ওঠেন।
সিএনএন জানিয়েছে, ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প তাঁর ইসরায়েলি মিত্রকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তিনি অতীতে নেতানিয়াহুকে বিভিন্ন বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন, লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখলে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে এ ফোনালাপকে তিনি ‘ফলপ্রসূ’ বলেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অন্যের ওপর হামলা চালানো বন্ধ করবে। ইসরায়েলি বাহিনীও বৈরুতের দিকে অগ্রসর হবে না।
নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লেবানন থেকে যদি ইরান সমর্থক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে ইসরায়েলও বৈরুতে হামলা চালাবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইসরায়েল অবস্থান পরিবর্তন করেনি। আর লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে।