এবার জাতিসংঘের ৮১ তম অধিবেশনে দুইজনেই বক্তব্য দিয়েছেন।
অথচ তাদের দুইজনের বক্তব্যের ভিতর তাদের চিন্তা চেতনার ভিতর আকাশ পাতাল তফাৎ।
দুইজনার বক্তব্য শোনার পরে - বালেন শাহর কথাবার্তা বেশ ম্যাচিওর মনে হলো ।
"যুদ্ধের জন্য পৃথিবীর সাপ্লাই লাইন একদম নিখুঁত। কিন্তু একজন কৃষকের জন্য সার-জ্বালানি জোগাড় করতে পৃথিবী ব্যর্থ।"
জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ কথাটা এমনভাবে বললেন কিছুক্ষণ চুপ করে ভাবতেই হয়।
“আমরা এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলেছি, যেখানে যুদ্ধের জন্য নিখুঁত সরবরাহব্যবস্থা রয়েছে, অথচ খাদ্যের জন্য সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।”
ওটা যেমন সুন্দর তেমনি কথাটা ভয়ংকর সত্যের দিকে আঙুল তোলে।
আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র সময় মতো পৌঁছে যায়।
রাইফেল, গোলাবারুদ সীমান্ত পেরিয়ে যায়।
যুদ্ধের জন্য কোনো বন্দর আটকে থাকে না, কোনো সরবরাহ লাইন ভেঙে পড়ে না।
অথচ একজন কৃষকের প্রয়োজনীয় সার পৌঁছাতে পারে না।
একটা পরিবারের রান্নার জ্বালানি জোগাড় করতেও সংকট।
তাহলে পৃথিবীর সমস্যা আসলে কোথায়?
বালেন শাহ শুধু নেপালের কথা বলেননি।
তিনি বলেন শুধু নেপাল নয়, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান কিংবা শ্রীলঙ্কাকসহ এই অঞ্চলের সবার বাস্তবতা যেন একই।
যে জলবায়ুকে আমরা ধ্বংস করিনি, তার আঘাত আমাদেরই নিতে হচ্ছে। যে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি, তার মূল্যও আমাদেরকেই দিতে হচ্ছে।
আর সবচেয়ে শক্ত কথাটা বললেন শেষে—
একটা পৃথিবী যদি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে অস্ত্র পৌঁছে দিতে পারে, তাহলে সেই পৃথিবীর একজন কৃষক কেন তার জীবিকা চালানোর প্রয়োজনীয় জিনিস পাবে না?
এই প্রশ্নটা শুধু নেপালের না।
জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলায় বললেন নাকি ইংলিশে বললেন সেটা বিষয় না। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি কি বললেন।
দেশের জন্য ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য সেটা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ এবং কল্যাণকর সেটাই মূল বিষয়।
একজন তরুণ নেতা যখন এই প্রশ্নটা সরাসরি পৃথিবীর সামনে ছুড়ে দেন তখন বয়সটা আর বড় বিষয় থাকে না। কথার ওজনটাই বড় হয়ে যায়।
গণঅভ্যুত্থানের থেকে উঠে আসা দুইটি দেশের প্রধানমন্ত্রী অথচ একজন কত ম্যাচুরিটির পরিচয় দিলেন। অন্যজন জাতিসংঘে গিয়েও আছেন কার্ড নিয়ে,
এবার দিবেন ইউনিভার্সেল কার্ড।

Md. Mosharof Hossain's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।