নতুন সরকারের আমলে ২০ জুন দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এদিনের মঞ্চ থেকে সেই ইতিহাসের কথাই বারবার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশ হয়েছিল, যার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। নিজের ভাষণের শুরুতেই 'জয় বাবা তারকনাথ' এবং 'হর হর মহাদেব' ধ্বনি তুলে মোদি বলেন, রাজ্যে ভোট ও শপথগ্রহণের পর এই প্রথম তিনি এলেন এবং বাংলার বাতাসে এখন তিনি এক নতুন সুগন্ধ পাচ্ছেন, যেন বাংলা আজ বেড়ি ভেঙে স্বাধীন হয়েছে। ঐতিহাসিক এই দিনটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মেঘনাথ সাহা, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং মতুয়া ঠাকুরদের অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। পাশাপাশি, রাজ্যের নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার যে দ্বিগুণ গতিতে উন্নয়নের কাজ করছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে এদিনই রেল, কৃষি এবং মৎস্যপালন দপ্তরের প্রায় ৮২০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের পাশাপাশি, পূর্বতন সরকারদের দিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বিগত তৃণমূল এবং তার আগের সিপিএম সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের সরকারগুলি ইতিহাসকে বিকৃত করার এবং তোষণনীতির রাজনীতি করে বাংলার শুধু ক্ষতিই করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের এই পুণ্যভূমিতে বিদেশি চিন্তাধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে বর্তমানে মানুষ বিজেপিকে আশীর্বাদ করায় এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর অপচেষ্টা রুখে দেওয়ায় সেই অন্ধকার দূর হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিয়ে 'স্বচ্ছতা সে স্বাগত' কর্মসূচির জন্য রাজ্যবাসীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তিনি।