প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ৪:০৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১১:৩৭ পি.এম
পাকিস্তানিদের যারা বাপ মনে করে সেই সবদের জন্য আজকের লেখা
অনলাইন শুক্রবার, ২৫সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানিদের যারা বাপ মনে করে সেই সব বাই*নচো*দ দের জন্য আজকের লেখা, মুক্তিযুদ্ধে যারা পাকিস্থানীদের সহযোগিতা করেছে সেই সব জিন্নার অ*বৈধ সন্তানদের জন্য আজকের এই বক্তব্য।
জেলখানায় ফাঁ*স দিয়া যেন মরতে না পারি, সেজন্য আমগো শরীরেও কোনো কাপড় রাখে নাই। তহন কোলের ছেলেডার বয়স ৬ মাস, গুটি গুটি পায়ে হাঁটে। স্বামীর বাড়িতেই ছিলাম, পাকিস্তানি আর্মি আইয়া সবার বাড়িঘরে আগুন দিতেছে, যে যেমনে পারে পালায় যায় আমগো বাড়িতেও আগুন দিছে ওরা।
একদিন মিলিটারির খবরে পলাইতে মেলা করছিলাম মামাবাড়ির দিকে পালাইয়া যামু তহনই যম*দূতের মতো হাজির হয় পাকিস্তানি আর্মি, পোলাডা আমার কোলেই ছিল। ওরা আইসা প্রথম কোল থিকা ওরে ছাড়াইয়া নেয়। ভয়ে ও চিৎকার দিয়ে কাঁদতে থাকে, দুইজন হাত দিয়া টাইনাই ছিড়রা হালাইছে আমার পোলাডারে, এরপর তারে মেলা মাইরা ফেলাইয়া দিসে।
ওর দম তহন নাই কান্নার শব্দও নাই শরীরডা পইরা ছিল মাটিতে আর সয্য করতে পারলাম না, একটা চিল্লানি দিয়া উঠলাম আমি চোখের সামনে কোলের পোলাডারে পাক বাহিনী মাইরা ফালায়, ওই শিশুডার কি দোষ ছিল বলেন। পাকিস্তানিরা না মুসলমান, কোলের পোলাডারে যে ওরা মারলো এইডা কি ধর্মে আছে, এই বিচার আল্লাহর কাছে দিয়া রাখছি ভাই।
৭১ এর কথা এভাবেই তুলে ধরেন মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজা বেগম তিনি আরও বলেন, একজন আমার বুকের ওপর পাড়া দিছে, আরেকজন মুখে গামছা ভরে দিছে। আমি চিইক্করও দিতে পারি নাই, বাবারে বইলাই পাগলের মতো হয়ে যাই। এরপরই জ্ঞান হারাইছি, যহন জ্ঞান হইল দেখলাম চোখ বান্ধা, কই লইয়া আইছে টের পাই নাই, চোখ খোলার পর দেখলাম অনেকগুলা মেয়ে মানুষ, কয়েকজন বয়স্কও আছে তারপর আটকা রইলাম অনেক দিন, অনেক হেস্ত নেস্ত করল কানতে কানতে বুক ভাসাইলাম তবুও নির্যাতন চলল।
পাকিস্তানি আর্মি ফিরোজাকে তুলে নিয়ে যায় যশোরের শার্শায় ওই ক্যাম্পে রেখেই তার ওপর নির্যাতন চালাতো ওরা। সেই ইতিহাসের কথা তিনি বললেন যেভাবে, একটা ঘরের মধ্যে নিয়া রাখল এরপর সৈনিকগো দিয়া নির্যাতন করাইছে, একজন যায় আরেকজন আসে, আমগো মাথার চুল কাইট্টা ফেলছিল। ফাঁ*স দিয়া যেন মরতে না পারি সেইজন্য আমগো শরীরেও কোনো কাপড় রাখে নাই।
নির্যাতন সহ্য করতে না পাইরা বেহুস হইয়া যাইতাম তবুও আর্মিরা নির্যাতন করত। খাবার একদিন দিলে তিনদিন দেয় নাই। পাকবাহিনী তো বাঙালিগো মানুষ মনে করত না। একশোর ওপর নারী ছিল ওই ক্যাম্পে পানি চাইলে প্রসাব করে খেতে দিতো। পাকিস্তানি আর্মি তো মানুষ ছিল না ভাই ওদের কথা মনে হলেই ঘেন্না আসে।
স্বাধীন দেশে কেমন কাটছে মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজা বেগমের জীবন এমন প্রশ্নে আনমনা হয়ে যান তিনি অতঃপর বলেন বীরাঙ্গণা পরিচয় জানলে কেউ সম্মান করে কেউ আবার আগে পিছে খারাপ কথা বলে ছি ছিও করে।
মাইয়াডারে বিয়া দিলাম, অনেক পরে জামাই জানতে পারছে আমি বীরাঙ্গণা। মাইয়াডারে ৩ সন্তানের লগে দিয়া ছাইড়া দিছে, স্বাধীনতার জন্য নির্যাতিত হওয়াও কি অপরাধ, আমরা তাহলে কী করমু আমগো নির্যাতন করছে পাক বাহিনী, ওগো কেউ ঘৃণা করে না আজ ওরা ভালা। আর দেশের জন্য নির্যাতিত হইয়া যেই দেশ আনলাম সেই দেশের মানুষ এহনও আমগো ছি ছি করছে এইডা কেমন বিচার, কেমন কৃতজ্ঞতা।
আর লিখতে পারলাম না কষ্ট হচ্ছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ রইলো এই বীরাঙ্গনার পাশে যেন আমরা আপনাকে দেখতে পাই এবং তার মেয়ের জামাইয়ের উপযুক্ত বিচার যেন বাংলার মাটিতে হয়। এর পরও যারা পাকিস্তানের গুনগান গায় তাদের জন্ম নিয়ে আমি সন্দীহীন।
® তুহিন আহম্মেদ জুয়েল
Tuhin Ahmmed Jowel's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত