‘যখন সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ফেলে, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। তখন সেখানে জড়ো হওয়া ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো সমর্থক ভাইয়ারা (লোকজন) না থাকলে ঘটনাটি অন্য রকম হতো। বিশেষ করে তাঁদের ধন্যবাদ দিতে চাই। পুলিশ যখন আমাকে খুলশী থানায় নিয়ে যায়, তখন তাদের অনুরোধ করি। ভাইয়ারা রাতে লালখান বাজার থেকে খুলশী থানায়ও আসেন আমার সঙ্গে। অন্য কিছু ট্রাই করতে পারেনি।’
চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় আজ শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত শুক্রবার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।
নাঈম বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভাই ফোন দেওয়ায় কাজ হয়েছে। তিনি যখন ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আমি কথা বলতে চাইলে ওসি আমাকে আঙুল দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন।’
নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত উল্লেখ করে সাংবাদিকদের নাঈম বলেন, ‘আমি একটু একা থাকতে চাইছি।’
ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাঈম হাসান শুক্রবার রাতে থানায় সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।
মারধরের অভিযোগে এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। আজ শনিবার দুপুরে নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।