প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৬, ৬:৫৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৬, ২০২৬, ১২:৩৬ এ.এম
বাজেট ১০ লক্ষ কোটি টাকা হয় কেমনে?
বেম্পির অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর বাজেট বক্তৃতার ওই অংশটা শুনলে তো হাসি থামানো মুশকিল! লোকটা সংসদে বইসা নির্লজ্জের মতো গড়গড় করে মিথ্যাটা কইল যে, "ফ্যাসিস্ট সরকার অর্থনীতি শেষ কইরা মাইনাসে নিয়া গেছে!
" আরে মিয়া, যে অর্থনীতি ‘মাইনাসে’ চইলা যায়, সেই দেশের বাজেট ১০ লক্ষ কোটি টাকা হয় কেমনে? "
বিএনপি যখন ২০০৬ সালে গদিতে আছিল, তখন বাজেট আছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। আর এহন সেই বাজেট ১৬ গুণ বড়! এই বিপুল পরিমাণ টাকা কি আকাশ থেইকা নাজিল হইছে? নাকি লন্ডনে থেইকা ওই ৩০ হাজার পলাতক নেতার আউটসোর্সিংয়ের আয় দিয়া বাজেট চলে? এদের মিথ্যার কোনো সীমানা নাই! তবে অর্থনীতি নিয়ে মিথ্যা কথা বলে বেশিদূর এগানো যায় না। জনগণ জানে আপনারা এসে একটা টাকাও ইনকাম করেন নাই কিন্তু আপনাদের নেতাকর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণের মাধ্যমে অলরেডি ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলেছেন।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে বাংলাদেশের জিডিপি যেখানে ৮ শতাংশের কাছাকাছি বাড়ছে, সেখানে তাদের ভাষ্যমতে অর্থনীতি নাকি ‘মাইনাসে’ গেছে ২০০৬ এর পর থেকে।
এই দুই বক্তব্য তো একে অপরের পুরো বিপরীত। কিন্তু সংসদে এই পাল্টা প্রশ্ন করার মতো সাহস বা মেরুদণ্ড কোনো বিরোধী দলেরই নাই। কারণ তারা তো নিজেরাই এক লাইনের, একই পরিবারের লোক!
তাদের কাছে তো বাজেট আলোচনার চেয়ে ওয়াশিং মেশিন, রুমের পর্দা ফ্ল্যাট গাড়ি চাকর বাকর দাও। বাকি বাজেট আমার বাল তোমরা এসব নিয়ে মুড়ি খাও আমরা জোহরের নামাজ পইড়া জয়েন করব। বাজেট নিয়ে তোদের মাথা ব্যাথা নাই কারণ তারা এগুলো বুঝেও না। আর কয়েকজন যারা বোঝে তারা চুপ থাকবে কারণ এগুলা নিয়ে প্রশ্ন তুললে অটোমেটিক সবকিছু ফাঁস হয়ে যাবে। তখন ক্রেডিট চলে যাবে শেখ হাসিনার দিকে এজন্য তারা চুপ থাকে।
আর মাইক হাতে পাইলে প্রত্যেকটা কথার ভিতরে জুলাই ঢুকিয়ে দেয়।
সবচেয়ে মজার তথ্যটা দেখেন—বিএনপির শেষ বাজেটের সময় রাজস্ব আয় আছিল মাত্র ২৯ হাজার কোটি টাকা, আর বাজেটের ৫২ শতাংশই ছিল ঘাটতি! অর্থাৎ ৩২ হাজার কোটি টাকা তারা ধার কইরা চালাইছে।
আর এহনকার মানে দেশের অর্থনীতি যেখানে তাদের মতে মাইনাসে সে অর্থনীতির বাজেটে রাজস্ব আয় প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা! যে ২৯ হাজার কোটির আয় ৮ লাখ কোটিতে আইসা পৌঁছাইছে, সেইটা কি হঠাৎ কোনো জাদুর কাঠি দিয়া হইছে যে এটা মাইনাস কইলো?
নাকি তাদের ভাষায় বললে, এই টাকা কি তাদের পুক্কি দিয়ে বাইর হইছে?
সংসদে তো এই প্রশ্নগুলো ওঠার কথা ছিল, কিন্তু উঠবে না। কারণ প্রশ্ন তুললেই তো ক্রেডিটটা সরাসরি আগের সরকারের (হাসিনার) দিকে চইলা যাইব। তারা কি আর নিজের পায়ে কুড়াল মারবো?
এদের সাজানো বিরোধী দল..
আর এদের নৈতিকতার কথা কী বলবো! এদের তো প্রশ্ন তোলার অধিকারই নাই। যারা সকাল-সন্ধ্যা ডায়লগ মারে যে “৫৫ বছর পরেও স্বাধীনতা মেলে নাই”, অর্থাৎ তাদের কাছে পাকিস্তানি আমলরেই স্বর্গ। তখন ছিল তাদের স্বাধীনতা সেই সময় তারা সুখে ছিল—তাদের কাছে আর কী আশা করা যায়?
পাকিস্তান আমলের সেই ২৯৪ কোটি টাকার বাজেট, যার আবার ৮৫ শতাংশ খরচ হইতো পশ্চিম পাকিস্তানে—সেটাই যাদের কাছে আদর্শ, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন বোঝা তো বিলাসিতা!
সংসদে সত্যটা চাপা দিলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তা কিন্তু চাপা পড়ে নাই। কারণ যতই তারা মূর্খ বানানোর চেষ্টা করুক না কেন মানুষ তো আর তাদের মত মূর্খ না তারা এখনো এনালগ যুগের পড়ে আছে ২০০৬ সালের মনে করে মানুষ মূর্খ মানুষ এগুলো বুঝবে না। মানুষের কাছে ডাটা আছে তারা জানে।
সাজানো বিরোধী দল কথা না বলুক বা তাদের সমর্থকের যত অর্থনৈতিক বব্যক্তি কথা না বলুক ।
আমরা তো আছি! জনগণের পক্ষ থেইকা এই হিসাবগুলো আমরাই তুলব। তাদের মিথ্যার ফানুস যে খুব দ্রুতই ফুটো হইয়া যাইবো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!


_____বার্খার ডাইরি (পৃষ্ঠা ৩৫১২)
back's Post
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত