প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৩:১৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৩, ২০২৬, ৬:৪৯ পি.এম
বিতর্কের মুখে রাবির সেইযুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের বিলবোর্ড মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত
অনলাইন সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬
তর্ক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে টাঙানো ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের বিলবোর্ড মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রবিবার (২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে তিনি এতে সম্মতি না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজ উদ্যোগে বিলবোর্ডের ছবি মুছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দুই দিন আগে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের পরিচালিত সংগঠন ‘নোভোকালচার’ ক্যাম্পাসে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের বিলবোর্ডটি টাঙায়। এতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়।
রাবিতে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের ছবিসংবলিত বিলবোর্ড, সমালোচনা
বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবিতে রবিবার বিকেলে কয়েকটি ছাত্রসংগঠন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে প্রশাসন বিলবোর্ডটি মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত জানালে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, রাবিতে চিহ্নিত রাজাকারদের স্বাভাবিক করার একটি চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমরা এই স্বাভাবিকীকরণের সুযোগ দেব না।
প্রশাসন আজ রাতের মধ্যেই বিলবোর্ডটি সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তাই আপাতত কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।
শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাবি কিংবা বাংলাদেশের কোথাও রাজাকারদের কোনো ধরনের স্বাভাবিকীকরণ আমরা মেনে নেব না। যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নটি বাংলাদেশের মৌলিক জাতীয় ইস্যু।
২০২৪ সালের আন্দোলন কিংবা ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধী মতাদর্শ বা তাদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।
বিলবোর্ডটি টাঙানোর পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সর্বশেষ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর আপাতত আন্দোলন স্থগিত হলেও বিলবোর্ড ইস্যুতে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত