(০১ ডিসেম্বর – ১৬ জুলাই ২০২৪)
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের অত্যন্ত পরিচিত মুখ আবৃত্তি, নাটক, উপস্থাপনা ও মডেলিং জগতের হারিয়ে যাওয়া নাম ছিলেন ক্যামেলিয়া মুস্তাফা। সুললিত কণ্ঠ, প্রমিত উচ্চারণ, মার্জিত ব্যক্তিত্ব এবং অনন্য উপস্থাপনা তাঁকে সমকালীন শিল্পীদের মধ্যে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছিল। টিভিতে প্রায় ১৮টি নাটকে ও ৮০টি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পুষ্পরাজ' তেলের বিজ্ঞাপনটি টানা প্রায় ২৪ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছিল বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনের ইতিহাসে যা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ ১৬ জুলাই, ২০২৬খ্রি. তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এ দিনটির সাথে নিরবে নিভৃত্বে চলে যাবে আবৃত্তি, অভিনয়, উপস্থাপনা ও মডেলিং জগতের আইকন বাংলাদেশ টেলিভিশনের 'এ' গ্রেডভুক্ত শিল্পী ক্যামেলিয়া মোস্তফা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ক্যামেলিয়া মুস্তাফার বাবা ছিলেন ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম এবং মাতা খ্যাতিমান বেতার নাট্যশিল্পী হোসনে আরা বিজু। শামসুদ্দীন আবুল কালামের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অভিনেতা গোলাম মুস্তাফাকে বিয়ে করেন বিজু। গোলাম মুস্তাফার পরিবারে মায়ের কাছে বেড়ে উঠেছেন ক্যামেলিয়া। ক্যামেলিয়ার ছোট বোন সুবর্ণা মোস্তফা, ভাই সুমিত মোস্তফা বাবা ভিন্ন হলেও ওদের মা একজনই। হুমায়ুন ফরিদির সাথে সুবর্ণার বিয়ে স্থায়ী হয়নি। পরে বিয়ে করেন নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদকে। ক্যামেলিয়া মোস্তফা চাকুরি করতেন রাশিয়া দূতাবাস পরে জার্মানির দূতাবাসে ভিসা সেকশনে। অনাথ আশ্রমের চাকরি দিয়ে শুরু করেন ।
ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী। অত্যন্ত আধুনিক, স্মার্ট, রুচিশীল, প্রতিভাবান এবং মেধাবী ছিলেন ক্যামেলিয়া। অদ্ভূত অভিজাত্য ছিল তাঁর চেহারায়! কিন্তু শৈশব থেকে শেষ জীবন পর্যন্ত ‘দু’দন্ড’ শান্তি পান নি। শেষের দিকে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর বাবা শামসুদ্দীন আবুল কালামের সাথে ছিলো প্রচন্ড অভিমান! অপর দিকে গোলাম মোস্তফার সাথেও দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিলো। ক্যামেলিয়ার দুটো দাম্পত্য জীবনের কাহিনীও করুণ। শেষ জীবনটা শুধুই একা। খ্যাতি, সম্মান ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করলেও জীবনের শেষভাগ ছিল অনেকটাই নিভৃত ও নিঃসঙ্গ। অনেকটা সময় প্রবাসে কাটিয়ে দেশে ফিরে এলেও তিনি রেডিও ও টেলিভিশনের মূলধারা থেকে দূরে সরে থাকেন। নিজেকে অনেকটাই আড়ালে রেখেছিলেন।
ক্যামেলিয়া ছিলেন ক্যামেলিয়া ফুলের মতোই স্নিগ্ধ, সুন্দর। কিন্তু জীবনটা ভরে ছিলো অনেক বাজে কথা ও অভিজ্ঞতায়। শেয়ার করেছিলেন তাঁর বাবার এক ছাত্র কানাডীয় প্রবাসী বন্ধুর কাছে। সেই প্রবাসী বন্ধুটি লিখেছেন, “ক্যামেলিয়ার জীবন ছিলো মহাদেব সাহার কবিতার মতো বেদনায় আচ্ছ্বন্ন এবং হেলাল হাফিজের কবিতার মতো ব্যর্থতায় ভরা। এই বেদনা-ব্যর্থতা থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।
হ্যা আমরাও তেমনটি দেখেছি। ঝড়ের মধ্যে বসবাস করেছেন ক্যামেলিয়া। সে ঝড় থেমেছিলো ১৬ জুলাই, ২০২৪খ্রি, আজকের এই প্রয়ান দিনে। বিনম্র শ্রদ্ধা ক্যামেলিয়া মুস্তাফা ।
রেজাউল করিম মুকুল, ১৬ জুলাই, ২০২৬খ্রি.
Rezaul Karim Mukul's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।