প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৬, ৫:৪১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৯, ২০২৬, ২:২৪ পি.এম
ব্রিটেনে আড়াই লাখ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার, বেশির ভাগ অপরাধীই পাকিস্তানি পুরুষ
যুক্তরাজ্যে শিশু ও কিশোরীদের ওপর সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২১৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো দাবি করেন, গত কয়েক দশকে অন্তত আড়াই লাখ মেয়ে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর সহিংসতার শিকার হয়েছে।
এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষ।এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাজ্যের সরকার বা পার্লামেন্টের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের অংশ নয়, বরং এটি এমপি লো-এর নিজস্বভাবে প্রকাশ করা একটি রিপোর্ট। যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলতে এমন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে বোঝানো হয়, যারা মূলত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের টার্গেট করে। তাদের অনেকেই সুবিধাবঞ্চিত,পারিবারিক সমস্যা, দারিদ্র্য বা সামাজিক ঝুঁকিতে থাকা মেয়ে।
প্রথম ধাপে অপরাধীরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে। তারা ভালোবাসা, যত্ন বা সম্পর্কের ভান করে মেয়েদের প্রভাবিত করে। এরপর ধীরে ধীরে এসব মেয়েদের যৌন নির্যাতনের চক্রে জড়িয়ে ফেলা হয়। একপর্যায়ে তারা ভয়, চাপ এবং মানসিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আটকে পড়ে।
কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনার শিকারদের বড় একটি অংশ শ্বেতাঙ্গ মেয়ে। এ ছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে যে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যের সরকার এই সমস্যাকে সঠিকভাবে গুরুত্ব দেয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, তারা সাহায্যের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি।
কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। ইয়াহু নিউজের একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর যে সংখ্যা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। তবে সংখ্যাগত বিতর্কের বাইরে গিয়ে লোর প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন, ভয়ভীতি, হুমকি এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
রুপার্ট লো জানান, এই প্রতিবেদন তৈরিতে এক বছরের বেশি সময় লেগেছে এবং এতে প্রায় ৬ লাখ পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের পরিবর্তে জনসাধারণের অনুদানের মাধ্যমে এই প্রকল্প পরিচালিত হয়। এর আগে যুক্তরাজ্যে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে একাধিক তদন্ত হয়েছে। এর মধ্যে ‘জে ইনকোয়ারি’ এবং ‘টেলফোর্ড ইনকোয়ারি’ উল্লেখযোগ্য। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মোট ১৪৯টি স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকায় এ ধরনের অপরাধচক্রের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে শত শত ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য, আদালতের নথি এবং বিভিন্ন সংস্থা থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অনেক সময় সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধায় ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, অভিযুক্তদের অনেকেই পাকিস্তানি মুসলিম হওয়ায় বিষয়টি বর্ণবাদী ইস্যু হিসেবে দেখা হতে পারে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যে শিশু সুরক্ষা, যৌন অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে অভিযোগ পাওয়ার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও আবার সামনে এসেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১