কথিত চৌকস বাহিনীর জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয়, যেই হাসিনুর এই দেশের সাথে বেইমানি করে- ইন্ডিয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ উলফা (ULFA), নাগা সন্ত্রাসী আর হরকাত-উল-জিহাদের মতো কুখ্যাত জ*ঙ্গি সংগঠনের অফিশিয়াল ট্রেইনার হিসেবে কাজ করেছে তাকেই কিনা দেওয়া হয়েছে- ‘ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি’ আর কোটি কোটি টাকার ‘আর্থিক সুবিধা’। হাসিনুরের সাথে যোগ হয়েছে আরেক পিশাচ যুদ্ধাপরাধী গু* আযমের ছেলে, বরখাস্ত ব্রিগেডিয়ার আজমি! তাকেও দেওয়া হয়েছে একই রকম প্রমোশন আর কোটি টাকার মালদার প্যাকেজ! এই দুই প্রমাণিত কুলা'ঙ্গার, ডিপ স্টেটের দালাল ও ক*সাইদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা বিলিয়ে পুরস্কৃত করাই প্রমাণ করে যে— ২০২৪ সালের জুলাই জ*ঙ্গি হা'মলায় নৃশংস যে হ*ত্যা আর না'শকতা চালানো হয়েছিল, সেটার এই দুই অন্যতম মাস্টারমাইন্ডকে দেওয়া প্রমোশন ও আর্থিক সহায়তায় আসলে আমার দেশের সাথে গা'দ্দারি করার অফিশিয়াল ‘পুরস্কার’!
স্বঘোষিত ‘মানবাধিকারের প্রবাদ পুরুষ’ সাজা হাসিনুর এর আসল ইতিহাস কতটা র'ক্তক্ষয়ী আর ভয়ঙ্কর, তা হয়তো অনেকেই জানেন। ২০০৪-০৬ সালে, চট্টগ্রামের র্যাব-৭ এর ডন থাকা অবস্থায় এই কসাইয়ের ডাইরেক্ট নির্দেশে ৫৭ জন (অফিসিয়াল ডাটা)— মানুষকে ঠান্ডা মাথায় ক্রসফা'য়ার দিয়ে হ*ত্যা করা হয়েছিল— প্রধান টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগ—ছাত্রলীগের উদীয়মান ও সাহসী নেতারা। এর সবচেয়ে জঘন্য উদাহরণ ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও ভিপি মহিম উদ্দিন মহিম!!
২০০৪ সালের ২৮ নভেম্বর, দুবাই থেকে ফিরে- দেশের মাটিতে নামার পর বিমানবন্দর থেকেই মহিমকে কু*কুর বিড়ালের মতো তুলে নিয়ে যায় এই হাসিনুরের ফোর্স! সেটার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন সাজ্জাদ হোসেন। তার বয়ান শুনলে যেকোনো মানুষের গা শিউরে উঠবে। চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নিয়ে গিয়ে মহিম ও সাজ্জাদকে এক লিটারের "মিনারেল ওয়াটার" দিয়ে ওজু এবং কলেমা পড়তে বলা হয়। এরপর কসাই হাসিনুর নিজেই ঠান্ডা মাথায় মহিমকে বুকে গু*লি করে হ*ত্যা করে! পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা তার কুখ্যাত সিনিয়র কর্নেল এমদাদকে গিয়ে, স্যালুট ঠুকে হাসিনুর বলে— "কাজ শেষ স্যার!" অতঃপর লা*শের পাশে নিজেদের নিয়ে আসা— কিছু অবৈধ অ'স্ত্র ফেলে দিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধ’র নাটক সাজানো হয়েছিল। আর এসত্য ধামাচাপা দিতে একমাত্র সাক্ষী সাজ্জাদকে— টানা ১২ দিন হাত-পা বেঁধে প*শুর মতো পিটিয়ে ২৪টি মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্তত ৩ বছর জেলে পচানো হয়েছিল। তৎকালীন বিএনপির কুখ্যাত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সরাসরি ইশারায় এবং চট্টগ্রামের পরিবহন খাত দখলের পথ পরিষ্কার করতে, মহিমসহ প্রায় ৩৫ জন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকে নৃ'শংসভাবে করেছিল এই হাসিনুর।
হাসিনুর শুধু দেশের ও জাতির শত্রুই ছিল না, সে ছিল আন্তর্জাতিক টে'ররি'স্টদের আড়তদার। তার অনুরোধে সহযোগী- লেঃ কর্নেল আফজালুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিদেশি জ*ঙ্গিদের জন্য সেফ হাউস তৈরি করে দিয়েছিল। অন্যদিকে, তাদের আরেক সহযোগী মেজর মহসিনুল করিমের সাথে ছিল পাকিস্তানের কুখ্যাত I*SI -এর সরাসরি যোগাযোগ। হাসিনুর, আফজাল, মহসিন মিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী UPDF ও JSS -এর সাথে ভারতীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সংযোগ তৈরি করে দিয়েছিল আর ময়মনসিংহে একাধিক গোপন বৈঠক করেছিল!!
২০১২ সালের ১৫ মার্চ, ব্রিগেডিয়ার কামরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সামরিক আদালতে (কোর্ট মার্শাল) রাষ্ট্রদ্রোহ থেকে শুরু করে জ*ঙ্গি লালন, হ*ত্যা এবং দেশের অতি গোপনীয় সব তথ্য- শত্রুপক্ষের কাছে পাচারের অপরাধ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায়— হাসিনুরকে বরখাস্ত এবং সাড়ে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে কথিত চৌকস বাহিনী প্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এই কসাই হাসিনুরের সাজা শেষ হওয়ার আগেই— অবৈধভাবে জেল থেকে বের করে নিয়ে আসে!
হাসিনুর সিন্ডিকেটের অপর পার্টনার আজমির ভণ্ডামি তো আরও এক কাঠি ওপরে। এই আজমি দীর্ঘসময় ধরে তুরস্কে আত্মগোপনে থেকে আয়েশি জীবন পার করেছে। আর সেখানে বসেই হাসিনুর, উলফা ও অন্যান্য কুখ্যাত জ*ঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে এই স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থান ও জ*ঙ্গি হামলার গভীর ষড়যন্ত্রের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল। ৫ই আগস্টে ওই জ*ঙ্গি হামলা এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে এই আজমি- অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে দেশে ফিরে এসে নিজেকে এতদিন ধরে গোপন ‘আয়নাঘরে’ বন্দী ছিল বলে জাহির করতে শুরু করে।
সহানুভূতি পাওয়ার জন্য সে গণমাধ্যমের সামনে এসে তার সেই বিখ্যাত আজগুবি গামছা কাহিনীর অবতারণা করে— যেখানে সে দাবি করে— একটা গামছা দিয়ে নাকি সে বছরের পর বছর আয়নাঘরের বন্দিদশা পার করেছে! এই হাস্যকর ও গাজাখুরি গল্প— মানুষের মুখে মুখে এক চরম তামাশা।
৫ই আগস্ট সফল জ*ঙ্গি হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে— সেটার পুরস্কারস্বরুপ আজ হাসিনুরের সাথে আজমিকেও কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ফান্ড উপহার দেওয়া হয়েছে সাথে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি!!
এই রাষ্ট্রবিরোধী সিন্ডিকেটের হাত কতটা লম্বা, তা বোঝা যায়— ২৪ এর জুলাই জ*ঙ্গি হা'মলার ট্র্যাজেডি দেখলে। ইকবাল করিম ভূঁইয়া ও লে. জে. হাসান সোহরাওয়ার্দীর মতো গডফাদারদের ব্যাকআপে ক'সাই হাসিনুর ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিরুদ্ধে ষড়য'ন্ত্র করে আসছিল। নিরপেক্ষ গোয়েন্দা সূত্রে, ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে ঢাকায় নিহ*তদের বেশিরভাগই মা*রা গেছে "স্নাইপার রাইফেলে" ব্যবহৃত— নিষিদ্ধ 7.62 মিমি ক্যালিবারের গু*লিতে, যা ওই কথিত চৌকস বাহিনীর আর্টিলারি বিভাগের কিছু কর্মকর্তা (যেমন আর্টিলারি ব্রিগেডিয়ার রফিক ও এজেন্সি র ব্রি. তানভীর মাজহার সিদ্দিকী) সম্পূর্ণ নিয়ম নীতি ভেঙে হাসিনুরদের এনে দেওয়া ওই বিদেশি ভাড়াটে খু*নিদের মাধ্যমে সরবরাহ করেছিল! ডিপ স্টেটের প্রেসক্রিপশনে উলফা, নাগা ও আরাকান রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর মতো— পেশাদার ভাড়াটে খু*নিদের এনে দেশের মাটিতে পুলিশ, সাধারণ মানুষ হ*ত্যা করানো হয়েছিল।
সেই একই হাসিনুর এখন নিয়মিত টেলিভিশন টকশো কিংবা মিডিয়াতে এসে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে দাবি করে— এই সশস্ত্র অস্থিরতায় সে এবং তার ক্যাডাররা সরাসরি জড়িত ছিল! এই পুরো মাস্টারপ্ল্যানের পেছনে— পর্দার আড়ালে ডিপ স্টেট ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট- ম্যাথিউ ভ্যানডাইক, টেরেন্স আরভিল জ্যাকসন এবং রিচার্ড ড্যানিয়েল রোমানরা ঢাকায় বসে— মাঝখানের সুতো নাড়ছিল। (উল্লেখ্য, মাস কতক আগেই টেরেন্স আরভিল জ্যাকসন এর লা*শ পাওয়া গিয়েছি ঢাকার একটি স্বনামধন্য হোটেলে)
ডিপ স্টেটের এই ভাড়াটে দালালি ও অ*স্ত্র চোরাচালান থেকে কামানো কোটি কোটি টাকা হাসিনুর, আজমি ও তাদের সহযোগীরা— দেশের শেয়ার বাজার থেকে শুরু করে বিটকয়েন ট্রেডিংয়ে ইনভেস্ট করে আয়েশ করছে।
হাসিনুর নামক পিশাচটার আসল রূপ আবারও দেখা গেছে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদালতকক্ষে! যেখানে চিফ প্রসিকিউটর রাজাকারের উকিল তাজু রাজাকার প্রকাশ্য আদালতে জিয়াউল আহসানের বোন, তার আইনজীবী নাজনীন নাহারকে অত্যন্ত নোং*রা ও অকথ্য আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ ও হু*মকি দেয়, আর আদালতকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় তাজু রাজাকারের নির্দেশে— হাসিনুর রহমান আইনজীবী নাজনীনকে সরাসরি হিং*স্র বাঘের মতো ধে*য়ে এসে হুমকি দিয়ে বলে— “আমি তোমাকে ছিঁ*ড়ে টু'করো টু'করো করে ফেলব!” ! আর একইসাথে ব্যারিস্টার নাজিয়া কবিরকেও অকথ্য ও জঘন্য ভাষায় মৌখিকভাবে লা*ঞ্ছিত করে।
(উল্লেখ্য, সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান তাদের উদ্ধার না করলে— এই কসাই হাসিনুর সেদিন আদালতকক্ষেই র*ক্তগঙ্গা বইয়ে দিতো, অথচ দেশের দালাল মিডিয়া- গুরুতর আদালত অবমাননার খবর চেপে গিয়েছে।)
সর্বোপরি, সেই সিরিয়াল কি*লার, আন্তর্জাতিক জ*ঙ্গি গোষ্ঠীর ট্রেইনার, নারী লাা*ঞ্ছনাকারী, চিহ্নিত ডিপ স্টেট এর দালাল থেকে শুরু করো কাল্পনিক 'আয়নাঘর' এর গামছা নাটকের কারিগর— দেশের সার্বভৌমত্ব বিদেশি এজেন্সির কাছে বিক্রি করে দিয়ে টকশোতে, মিডিয়াতে মানবাধিকারের লম্বা চওড়া বুলি ছাড়ে! আর ৫ আগস্ট দেশের সাথে বেইমানি করা- এই কথিত চৌকস বাহিনী তাদের পদোন্নতি ও টাকার শ্রাদ্ধ করে ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করছে।
ঘটনা কি এখানেই শেষ? না, কথিত চৌকস বাহিনীর— ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও আর্থিক সহায়তার তালিকায় রয়েছে বঙ্গবন্ধুর খু*নী বজলুর রশীদের ভাগ্নে ফেরদৌস আজিজ থেকে শুরু করে মোট ১৫০ জন বরখাস্ত ও বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কথিত চৌকস বাহিনীতে থেকে নানা অপরাধের সাথে সংযুক্ত কর্মকর্তা।
কোটি টাকা আর কৃত্রিম প্রমোশন দিয়ে হাসিনুর কিংবা আজমিদের হাত থেকে র*ক্তের দাগ আর দেশের সাথে বেইমানির ইতিহাস— কোনোদিন মুছে ফেলা যাবে না। যারা আমার দেশের সাথে গাদ্দারি করেছে, তাদের স্থান পুরষ্কারের মঞ্চে নয়, ফাঁ*সির কাষ্ঠেই হবে।