নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা শুল্ক পরিশোধ ও বন্ডভিত্তিক হিসাব ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পদ্ধতি চালু করা হবে। সরকারের দাবি, এর ফলে রাজস্ব সংগ্রহ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে এবং শুল্ক বকেয়া থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে মদ সরবরাহ চক্রের উপর প্রশাসনিক নজরদারিও আরও শক্তিশালী হবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থার অধীনে আগামী ২১ জুন সোমবার পর্যন্ত নতুন রিকুইজিশন বা সেলস অর্ডার জমা দেওয়া যাবে। এর পরে পুরনো নিয়মে আর কোনও নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
-
এ ছাড়া ২২ জুনের পর কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোনও নতুন ‘অর্ডার অফ সাপ্লাই’ ইস্যু করা হবে না। ফলে ডিস্ট্রিবিউটরদের হাতে থাকা বিদ্যমান অর্ডারগুলিই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। ইতিমধ্যে ইস্যু হওয়া সমস্ত অর্ডার আগামী ২৪ জুন দুপুর ২টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ম্যানুফ্যাক্টরি, ব্রুয়ারি বা বটলিং প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘অর্ডার অফ সাপ্লাই’ কার্যকর না হলে সংশ্লিষ্ট ‘অর্ডার অফ সাপ্লাই’ স্বয়ংক্রিয় ভাবে বাতিল হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বন্ড ভ্যালু রেজিস্টার পদ্ধতির অবসান। দীর্ঘ দিন ধরে চালু থাকা এই ব্যবস্থাটি ২৫ জুন থেকে সম্পূর্ণ ভাবে ‘ডিকমিশন’ করা হবে। তার পরিবর্তে ডিস্ট্রিবিউটরদের ‘পার্সোনাল লেজার’ অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়া হবে। ফলে শুল্ক প্রদানের ক্ষেত্রে আলাদা কোনও বন্ড বা রেজিস্টার ব্যবস্থার প্রয়োজন থাকবে না। এ ছাড়া ডিস্ট্রিবিউটরদের ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ‘পার্সোনাল লেজার’ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথিপত্রও নতুন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবগারি দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে রাজস্ব আদায়ের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা আরও নিশ্চিত হবে।