প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৬, ৪:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩, ২০২৬, ৯:৪২ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধ একটি বিরাট ক্যানভাস
আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ একটি বিরাট ক্যানভাস। ক্যানভাসের,কত চিত্র, এখন ধুসর হয়ে আছে, মেজর জেনারেল ' মুহম্মদ ইশফাকুল মজিদ 'তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র। পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের উপর বৈষম্যর ইতিহাসে একলাইনে জেনেছিলাম মেজর জেনারেল 'মুহম্মদ ইশফাকুল মজিদ 'বাঙালি হবার কারণে, ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ডিঙিয়ে, তার দুই বছর জুনিয়র আইয়ুব খান কে সেনাপ্রধান করা হয়েছিল।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রথম বাঙালি মেজর জেনারেল 'মুহম্মদ ইশফাকুল মজিদ'
পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রথম বাঙালি মেজর জেনারেল 'মুহম্মদ ঈশফাকুল মজিদ 'উপমহাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট সামরিক কর্মকর্তা । ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্টে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাঙালির মুসলিম ক্যাডেট হিসেবে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে তিনি তাঁর কর্মময় জীবন শুরু করেন। দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী তে যোগদেন এবং জ্যেষ্ঠতম দেশীয় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে বাঙালি পরিচয় এর কারণে বারবার তাকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। তৎকালীন সামরিক সচিব ইস্কান্দার মির্জা ও প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের কারসাজিতে তাঁর দুই বছরের জুনিয়র আইয়ুব খান কে সেনাপ্রধান করা হয়।
১৯৫১ সালে ঐতিহাসিক' রাউয়াল পিন্ডি ষড়যন্ত্র ' সমপূর্ণ নিষ্পাপ হওয়া সত্বেও আইয়ুব খানের চক্রান্তে তাকে মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়। তদন্তে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হলেও, এই গভীর অন্যায় বঞ্চনায় ক্ষোভ ও দুঃখে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে করাচি থেকে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন। বুড়িগঙ্গা তীরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বসবাস শুরু করেন।
১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবসর প্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠিত করেন। ২২ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কর্নেল ওসমানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুগত্যর প্রতীক হিসেবে একটি তরবারি উপহার দেন। ২৫ শে মার্চের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে গ্রেফতার করে বঙ্গবন্ধু ও ওসমানীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও নির্যাতন চালায়। কিন্তু তিনি সকল নির্যাতন উপেক্ষা করে পাকিস্তানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু তাকে উচ্চ পদে দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দিলে শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে তিনি তা গ্রহণ করেননি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের প্রভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে ১৯৭৬ সালের ৩১ শে মার্চ ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মেজর জেনারেল মুহম্মদ ইশফাকুল মজিদের পুত্র মো: ফয়সাল ও পৌত্র শাফকাত লতিফ ফিয়াজ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রদর্শন করতে আসলে, অসহযোগ আন্দোলনে বাবা এবং দাদুর ছবি দেখে আবেগ আপ্লূত হয়ে পরে।
মুহম্মদ ইশফাকুল মজিদ ইতিহাসের একটি বড় জায়গা জুড়ে আছেন কিন্তু ইতিহাসে তিনি সে ভাবে উঠে আসেননি। তাই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তাঁকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য তাঁর স্মারক গুলো পরিবারের কাছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দেয়ার জন্য আবেদন জানান।
ফয়সাল জানান- ১৯৮৮ সালের বন্যায় তার বাবার বহু স্মারক নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। বাবার ইউনিফর্ম, কলম,প্লেট,আলোক চিত্র,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চিঠি। এসব স্মারক জাদুঘর কে হস্তান্তরের ব্যাপারে পরিবারের সাথে কথা বলে জাদুঘর কে জানাবেন বলে জানান।
কৃতজ্ঞতা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মেজর জেনারেল
মুহম্মদ ইশফাকুল মজিদ কে সকলের সঙ্গে পরিচিতি করার জন্য।
তথ্য সুত্র - মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বার্তা
লিনু হক is with
শায়লা শবনম and
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত