কথা বলে যা বুঝলাম তাদের উপর খুব শীঘ্রই আবারো রাজাপাকসের আজাব আসতে যাচ্ছে!
যারা আমাদেরকে জুলাই শিখাইছিলো,
২০২২ এর জুলাইতে যেই শ্রীলংকানদের হাত ধরে আমাদের দক্ষিন এশিয়ায় বসন্ত আসছিলো,
সেই শ্রীলঙ্কার জুলাইটাই সবার আগে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে!
এদের সুশীলতার সুযোগ নিয়ে পরিবারতন্ত্রের রাজত্ব কায়েম করা রাজাপাকসেরা আবারো ক্ষমতার মসনদ দখল করে নিচ্ছে!
সেই পলাতক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলে নমল রাজাপাকসে খুব সম্ভবত পরের ইলেকশানেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন।
এই বিষয়ে মোটামুটি সবাই নিশ্চিত।
এর মধ্যেই তাদের জুলাই নরমালাইজ হয়ে গেছে!
তা বন্ধুদের জিগাইলাম আপনাদের অনুভূতি কেমন? কিছুই কি করার নাই আর?
দেখলাম এদের উদাস চোখে আর কোন আশা নাই, শুধু আছে বুকভরা দীর্ঘশ্বাস!
বললো মা*রা তো আর কম খাই নাই, জিনিসপত্রের দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে!
এই অবস্থায় কে আসলো আর কে গেলো কিছুই ম্যাটার করে না।
সবাই কোনমতে খেয়ে পরে বাঁচতেছে।
যারা আমাদের পথ দেখাইছিলো তাদের জুলাইটা কেম্নে বিক্রি হইছে জানেন?
ওদের জুলাইটাকে আগে নরমালাইজ করা হইছিলো।
বলা হইছিলো রাজাপাকশে পরিবার দেশের জনগনকে ভালোবাসে বলেই তো বেশি মানুষ মারে নাই।
অল্পের উপর দিয়েই পালায়ে গেছে! আর এখন তো আর সে আসছে না, আসতেছে তার ছেলে! সো চিল ম্যান...
হাসিনা পরিবারের জন্য আমাদের জুলাইটাকেও নরমালাইজ করা হইতেছে এখন।
জুলাই কে বারবার একাত্তরের পাল্লায় মাপা হইতেছে।
বলা হইতেছে একাত্তরের তুলনায় জুলাইতো কিছুই না!
যেই একাত্তরের বিজনেস ছিলো হাসিনার পারিবারিক সম্পত্তি, বাজারে এখন সেই বিজনেসের বহু স্টেক হোল্ডার বাইর হইছে।
অথচ আমাদের জুলাই ছিলো একাত্তর থেকে কয়েকগুন বেশি ভয়াবহ!
মনে করেন একজনকে তার ঘরের মানুষ কো*পায়ে মে*রে ফেলছে,
আর আরেকজনরে তার প্রতিবেশি কো*পায়ে মা*রছে।
কোনটা বেশি ভয়াবহ আর নির্মম?
একাত্তরে আমাদেরকে মারছে, 'ইয়ে মা*দারচোদ হিন্দু দালাল কা বাচ্চা হ্যায়' বইলা,
আর চব্বিশে মা*রছে, 'স্যার একটারে গু*লি করি একটাই সরে বাকিডি যায় না' বইলা।
কোনটা বেশি ভয়াবহ? পরভাষী লোকের গু*লি নাকি স্বভাষী লোকের গু*লি?
যেই ঘরের মানুষ এত নির্মম আর ভয়াবহ হইতে পারে সেই পরিবারের লোক আবার এন্ট্রি নিলে টিকতে পারবেন?
আমরা শেখ মুজিবের ডলা খাইছি তিন বছর,
আর তার মেয়ে হাসিনার ডলা খাইছি সতেরো বছর!
এরপর যদি কোন একদিন রাজাপাকসেদের মত হাসিনার ছেলে মেয়েরাও ক্লিন ইমেজ বানায়ে এন্ট্রি নিয়ে ফেলে তাইলে ডলা খাবো চৌত্রিশ বছর!
রাজাপাকসেদের অতীত বর্তমানের খোঁজ আমরা না রাখলেও দিল্লীতে বইসা ঐ ডাইনী আর দেশে বইসা শাওন, আনিস আলমগীর, সোমা, নীলুফার মনিরা নিয়মিতই রাখতেছে।
যে কারনে এরা এখন একটু একটু করে জুলাইকে নরমালাইজ করতেছে ঠাট্টা তামাশা করে, ওদের ভুল বুঝায়ে রাস্তায় নামানো হইছে বলে!
নীলুফার মনিদের এই ভুল বুঝায়ে রাস্তায় নামানোর তত্ত্ব সবার প্রথমে দিছিলো হাসিনা চব্বিশের জুলাইতে!
সাংবাদিক সোমারা এখন সেই তত্ত্বই নীলুফার মনিদের দিয়ে পুনরায় ইস্টাব্লিশ করাইতে চায়।
ভেবে দেখেন আপনি এখনো দেশে জুলাই Cdi লিখে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াইতে পারবেন কিন্তু হাসিনার আমলে ৭১ Cdi লেখার সাহস কি কারোর হইছিলো?
এসবই হইলো জুলাইকে নরমালাইজ করার একেকটা স্টেপ!
কিন্তু এইখানেই এরা থামবে না।
এই সুশীল সুডির ভাইরা বংগবন্ধু প্রেম, ধানমন্ডি ৩২ প্রেম, প্রথমালু, দিল্লীস্টারপ্রেম, বসুন্ধরা প্রেম, এস আলম প্রেম সব স্টেপেই যাবে ধীরে ধীরে।
এরপরই আসবে জয়প্রেম আর পুতুলপ্রেমের তত্ত্ব!
২০২২ এ মজা করে বলতাম,
যেই পথে রাজাপাকসে, সেই পথে রানীওপাকবে।
আর এখন বলতে হবে,
যেই পথে রাজাফিরছে, সেই পথে রানীওফিরবে!