মানুষের জীবনপদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। আবহাওয়া ও খাবারে বদল এসেছে। সুস্থ থাকার উপাদানগুলো প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে রোগ বালাই বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোক হলে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকে, আর যারা বেঁচে ফেরেন, তাদের অনেকেই আজীবনের জন্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
একই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ‘বি’ গ্রুপের রক্তের মানুষের ক্ষেত্রেও স্ট্রোকের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি—প্রায় ১১ শতাংশ বেশি ঝুঁকি থাকে। অপরদিকে, যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও১’, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ১২ শতাংশ কম।
গবেষণাটি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত ৪৮টি জেনেটিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, যেখানে প্রায় ১৭ হাজার স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ৬ লাখ সুস্থ মানুষের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছিলেন। তবে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি—প্রায় ৬৫ শতাংশ। তাই গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর ওপর গবেষণা করলে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই রক্তের গ্রুপ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ত্যাগ, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে—
মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া
এক হাত বা এক পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা
হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
তীব্র মাথাব্যথা
ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত