তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়মের অভিযোগে টাঙ্গাইল, ঝালকাঠি ও ঢাকার দোহারে মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা। লোডশেডিংয়ে বিশ্বকাপ খেলা দেখতে না পেরে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎ কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে শেরপুরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলাকালে লোডশেডিং হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ জন্য নিরাপত্তা চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ঢুকে সংযোগ বন্ধ করে দেন একদল মানুষ।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সারা দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি আছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আঞ্চলিক কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সকাল সোয়া আটটার দিকে উপজেলা সদরের সাউথপাড়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় ৯৪ হাজার। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কেন্দুয়ায় মোট ১২টি ফিডার সচল রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দুয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় ৮টি এবং রামপুর কার্যালয়ের আওতায় ৪টি ফিডার রয়েছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রোববার সকালে আর্জেন্টিনা বনাম জর্ডান ফুটবল ম্যাচ চলাকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অর্ধশতাধিক যুবক কেন্দুয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে এসে জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন হইহুল্লোড় করে কার্যালয়ে ইট–পাটকেল ছুটতে থাকেন। এতে বেশ কয়েকটি জানালার কাচের গ্লাস ভেঙে যায়। এ সময় আতঙ্কে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এর কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
কেন্দুয়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. ওমর ফারুক মুঠোফোনে বলেন, রোববার সকাল আটটার দিকে উপজেলায় ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরবরাহ হয় মাত্র ৭ মেগাওয়াট। কেন্দুয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ে আটটি ফিডারের মধ্যে মাত্র দুটি চালু করা সম্ভব হয়েছিল। এ সময় খেলা দেখতে না পেরে উত্তেজিত লোকজন কার্যালয়ে এসে হামলা চালান। পরে অবশ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে টাঙ্গাইলের জামুর্কীতে পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকেরা। এতে সাবস্টেশনটির আওতাধীন দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন।
অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল, নাটিয়াপাড়া, সেহড়াতৈল, ইসলামপুর ও পড়াইখালী এবং পাশের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা, জামুর্কী ও পাকুল্লা এলাকার গ্রাহকেরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কার্যকর সমাধান না পেয়ে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হন। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। তাঁদের আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষোভকারীরা। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে গত শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীকে চিঠি দেন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা নাগরপুরে ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহকের প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ১০ মেগাওয়াট। আর দেলদুয়ারে ৯০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হচ্ছে ১৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অনেক কম সরবরাহের কারণে প্রতিদিন লোডশেডিং হচ্ছে। তিনি দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।