যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক হেলথ এসেনসিয়ালসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বা ডিজিটাল স্ক্রিন ছাড়া কাটানো সময়কে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ডাউনটাইম’ বলা হয়। ডিভাইসের বাইরে থাকলে মস্তিষ্কের ‘ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক’ (ডিএমএন) সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা মানুষের সৃজনশীলতা, স্মৃতিশক্তি এবং জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া বই পড়া বা ধাঁধা মেলানোর মতো অফলাইন কাজ মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা উন্নত করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের তথ্যানুযায়ী, শারীরিক কসরত মানসিক চাপ ও অস্থিরতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। লোডশেডিংয়ের সময় মুক্ত বাতাসে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং কিংবা যোগব্যায়াম করলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা গরম ও অন্ধকারজনিত মানসিক অবসাদ দ্রুত দূর করে।
ভার্চুয়াল মাধ্যমের বাইরে এসে মুখোমুখি সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোরও চমৎকার উপলক্ষ হতে পারে লোডশেডিং। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সামাজিক গবেষণায় বলা হয়েছে, সামনাসামনি আড্ডা একাকীত্ব দূর করে এবং সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে। বারান্দা বা ঘরে বসে পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে গল্পগুজব করলে মানসিক সহমর্মিতা ও পারিবারিক বন্ধন গভীর হয়।
মন প্রফুল্ল রাখতে সঙ্গীতের ভূমিকাও অপরিসীম। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, প্রিয় সুর বা শান্ত গান মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা গান শোনার মাধ্যমে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নিঃসরণ বাড়ে, যা প্রতিকূল পরিবেশেও মানসিক চাপ দ্রুত কমিয়ে দেয়।
তবে বিদ্যুৎহীন সময়ে বেশ কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ)। খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে লোডশেডিং চলাকালে ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা থেকে বিরত থাকা উচিত; কারণ মুখ বন্ধ থাকলে এর খাবার চার ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে। এছাড়া ঘরের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে শ্বাসকষ্ট এড়াতে কখনোই জেনারেটর বা কয়লা জাতীয় কিছু জ্বালানো যাবে না। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে মোমবাতির পরিবর্তে রিচার্জেবল লাইট বা বিকল্প নিরাপদ আলোর উৎস ব্যবহার করা জরুরি