রুশ নথিতে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোতে শুরু থেকেই রুশ হামলা হতে পারে।
কূটনৈতিক নোটে বলা হয়েছে, ন্যাটো দেশগুলো কালিনিনগ্রাদকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো চেষ্টা করলে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় রাশিয়া তার হাতে থাকা পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
জাখারোভা বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাস্তবতার মাটিতে ফিরিয়ে আনা দরকার। রাশিয়ার সতর্কবার্তা যাদের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে, তারা সেটি শুনবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রুশ বার্তার জবাবে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। তিনি রাশিয়াকে পারমাণবিক হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য একেবারেই অপ্রয়োজনীয় এবং সহায়ক নয়।
রয়টার্সের দেখা ন্যাটোর জবাবি নথিতে বলা হয়েছে, জোটের কোনো সামরিক মহড়া বা কর্মকাণ্ডই রাশিয়ার ভূখণ্ডের জন্য হুমকি তৈরি করছে না।
এতে রাশিয়াকে ইউক্রেনে উসকানিহীন পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বেপরোয়া আচরণ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক বক্তব্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ন্যাটো।
ব্রাসেলসে ইউরোনিউজ আয়োজিত একটি প্রতিরক্ষা সম্মেলনে রুটেকে প্রশ্ন করা হয়, বাল্টিক অঞ্চলে এখন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বাস্তব কি না। জবাবে তিনি বলেন, না, তা নয়। তার দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানেন যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়।
ভিয়েনাভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বিশ্লেষক ও সাবেক রুশ কূটনীতিক নিকোলাই সোকভ বলেন, মস্কোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে ইউক্রেনকে সমর্থন বাড়িয়ে যাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তার মতে, ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ, রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা, রুশ জাহাজ আটকানো, কালিনিনগ্রাদের কাছে ঘন ঘন সামরিক মহড়া এবং গোয়েন্দা বিমান পরিচালনাসহ পশ্চিমা পদক্ষেপের জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে রাশিয়ার ভেতরে কট্টরপন্থীদের প্রভাব বাড়ার ইঙ্গিত হতে পারে এই সতর্কবার্তা।
সোকভ বলেন, রাশিয়া আরও পদক্ষেপের আশঙ্কা করছে। এর মধ্যে বাল্টিক সাগরে অবরোধের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে, যা ইউরোপের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের ঠিক নিচের স্তরের কোনো পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু রাশিয়ার কাছে সেটিকে সরাসরি যুদ্ধ হিসেবেই দেখা হতে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে ভুল হিসাবের ঝুঁকি রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে সোকভ বলেন, রাশিয়া ও ইউরোপ সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। উভয় পক্ষেরই সতর্কতা ও হিসাব করে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তার মতে, এর পরিবর্তে ইউরোপ সর্বাত্মক চাপ প্রয়োগ করছে এবং রাশিয়া এর জবাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে; এমন একটি গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছে।
রাশিয়ার গোপন সতর্কবার্তার পাশাপাশি গত তিন দিনে ইউরোপের অন্তত তিনটি দেশে রুশ দূতাবাস ন্যাটোর বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছে। এসব বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামরিক মহড়া এবং কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ন্যাটো উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এসব বিবৃতিকে ইউরোপের উসকানিদাতাদের উদ্দেশে কূটনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকেই রাশিয়া ও ইউরোপের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতিশীল। চলতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন সরকার মস্কোর বিরুদ্ধে মহাদেশজুড়ে হাইব্রিড যুদ্ধ জোরদারের অভিযোগ তুলেছে। নাশকতা ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন ঘটনার পেছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে বলে তারা দাবি করছে।
তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা রাজনীতিকদের এমন বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে বলা হচ্ছে মস্কো ন্যাটোর কোনো সদস্যদেশে সম্ভাব্য সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এক ন্যাটো কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, রাশিয়ার চিঠি ইউরোপীয়দের ভয় দেখানোর আরেকটি প্রচেষ্টা মাত্র। তার মতে, ন্যাটোর জবাব দৃঢ় ও দায়িত্বশীল এবং ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে জোটের অবস্থান এতে পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের পর এই প্রথম রাশিয়া এভাবে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। তাই বিষয়টি গুরুতর।
সূত্র : রয়টার্স
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত