-শেখ হাসিনা ফিরে আসবেন, উন্নয়ন আর গণতন্ত্র দেবেন—এই স্বপ্নে বিভোর হয়ে স্বাগতম জানাচ্ছেন বিএনপিকে? কিন্তু প্রাণভয়ে না আসতে চাইলেও কেন ফিরিয়ে আনা হয়েছে তারেক জিয়াকে, সেটা ভেবে দেখেছেন?
১৫ বছর আগে পশ্চিমা ডিপ স্টেট এবং সরকারগুলোর শয়তানবাদী চক্রান্তে হত্যা করা হয় মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে। এতে সহায়তা করে লিবিয়ার ভেতরের ভুয়া হাদিসের মুসলিম শয়তানবাদীরা। গাদ্দাফিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে যারা ভেবেছিল লিবিয়ায় স্বাধীনতা এনেছে, ক্রমেই তারা লিবিয়াকে করে ফেলে জ্বলন্ত দোজখ।
বিশ্বাস হারায়নি গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি। দেশের প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলে মিলিশিয়াদের হাতে বন্দি থাকেন তিনি ছয় বছর। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়, ১৯ নভেম্বর ২০১১ তারিখে দক্ষিণ লিবিয়ায় জিনতান মিলিশিয়ারা তাকে ধরে ফেলে এবং বিমানে করে জিনতানে নিয়ে যায়।
গৃহযুদ্ধের সময় অপরাধের জন্য ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই ত্রিপোলির একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল এবং তার অনুপস্থিতিতে পরিচালিত একটি বিচারে। তখন তিনি জিনতানের কার্যত একটি স্বাধীন মিলিশিয়া কর্তৃপক্ষের হেফাজতে ছিলেন ।
২৭ জুন ২০১১ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত লিবিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ , বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, রোম আইনের ধারা ৭(১)(ক) এবং ৭(১)(জ) এর অধীনে। তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক আদালতে ভুয়া বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।
২০১৭ সালে ছয় বছর পর জিনতান মিলিশিয়ারা সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে মুক্তি দেয়। আবু বকর আল-সিদ্দিক ব্যাটালিয়নের এক বিবৃতি অনুসারে, ২০১৭ সালের ১০ জুন তাকে জিনতানের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে একই মাসে, খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন টোব্রুক-ভিত্তিক সরকার তার পূর্ণ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। সুযোগ থাকলেও তিনি বিদেশে যাননি আরাম আয়শে জীবন কাটাতে। তিনি জিনতানেই থেকে যান একটি সাধারণ বাড়িতে। ক্রমেই মানিষ বুুঝতে পারে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিই তাদের নেতা।
মব মিলিশিয়া-নিয়ন্ত্রিত বিপ্লবী শাসনের নামে ১০ বছরে অরাজকতা থাকার পর (হিসাব মেলান ইউনুসের ১০ বছর থাকতে চাওয়া) ২০২১ সালে আমেরিকা এবং পশ্চিমা ডিপ স্টেটের মনে হয়, তারা এবার লিবিয়ায় ইতিহাসের সেরা নির্বাচন করবে।
প্রার্থীদের নামের তালিকা চাওয়া হয় জনগণের কাছে থেকে। তার মধ্যে নাম আসে লিবিয়ার জাতীয়তাবাদী নেতা গাদ্দাফির ছেলে সাইফ গাদ্দাফির।
জরিপে দেখা যায়, সাইফ গাদ্দাফির জিতে আসার সম্ভাবনা প্রচুর। সত্তর ভাগ লিবিয়ার জনগণ চায় সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে তাদের রাষ্ট্রপতি হিসাবে। লিবিয়ার জনগণ ভুল বুঝতে পেরেছে এবং এখন তারা যাকে হত্যা করেছিল তার ছেলেকেই নেতা হিসেবে চায়। কারণ তারা দেখছে বাকি সবাই লম্পট, চরিত্রহীন এবং লিবিয়াকে ধ্বংসকারী যারা দেশ বিক্রি করে বিদেশে টাকা পাচার করে। মৃত্যুদন্ডের রায় মাথায় নিয়েও পালিয়ে যাননি তিনি। দেশের জনগণের সেবা করতে নিজের জীবন সমর্পন করেছেন।
১৪ নভেম্বর তিনি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এমন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধনের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়, যার ফলে তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করা হয়। যদিও কয়েক সপ্তাহ পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচনটিই স্থগিত করা হয়।
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে, সাইফ গাদ্দাফিকে তার বাড়িতে চারজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী এসে হত্যা করে যারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
বাংলাদেশের অবস্থা লিবিয়ার মতই করেছেন আপনারা। এবং বাংলাদেশ নিয়ে বাস্তব চিন্তা করছেন না আপনারা। শয়তানবাদীরা যারা পশ্চিমের কথায় দেশকে ধ্বংস করেছে, তারা কি ক্ষমা চেয়েছে? তারা কি তাদের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা করেছে? তাদের মনিবেরা কি এত সহজেই ছেড়ে দেবে?
বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের জীবনকেও সেখানে নিয়ে গেছেন আপনারা। ঈশ্বর আপনাদের মঙ্গল করুন। শান্তি ও বিশ্বাসের একটি দেশকে আপনারা দোজখে পরিণত করেছেন।
Abm Sirajul Hossain's Post