Azam Masud
ডঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্পর্কে শিষ্য আহমদ ছফার স্মৃতিচারণ।
===========================
“লেখকদের একটা মিছিল করার কথা উঠেছেল। আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। আমার তারিখটা মনে নেই; খুব সম্ভব উনিশ কিম্বা বিশ ফেব্রুয়ারী(১৯৭১) হবে। আমরা প্রস্তাব করলাম, মিছিল করবো। শহীদ মিনার থেকে তোপখানা রোডে সবাই মিছিল নিয়ে যাবো এবং লেখক সংঘ অফিসে একটা সভা করবো (আয়ুব খানের ‘রাইটার্স গিল্ডের’ পূর্বাঞ্চলীয় শাখার নাম, ‘লেখক সংঘ’, আয়ুব সরকার তোপখানায় তাদের একটা অফিস ও টেলিফোন দিয়েছিল, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন সাধারণ সম্পাদক)। সকলে রাজি হয়ে গেলেন। কিন্তু বাধ সাধলেন আমাদের ওস্তাদ ডঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি যুক্তি দিলেন আহমেদ ছফা এবং চ্যাংড়া পোলাপানরা একটা হঠকারী কাজ করতে যাচ্ছে। সুতরাং যাদের দায়িত্বজ্ঞান এবং বুদ্ধি আছে, তাদের কিছুতেই এ কাজে অংশ গ্রহণ করা উচিত নয়। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আমার শিক্ষক স্থানীয়। তাঁর কাছ থেকে আমি জীবনে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর কাছে আমার যে ঋণ তার পরিমান অল্প নয় তথাপি একটি কথা বলবো। একসঙ্গে এস্টবলিশমেন্টের সর্বশ্রেষ্ঠ আসন এবং সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী হওয়ার দুরন্ত আকাংখা তাঁর মধ্যে এত প্রবল, অদ্যাবধি এই দুই বৈশিষ্টের দোলাচলবৃত্তি পেন্ডুলামের মত তাকে চঞ্চলচিত্ত করে রেখেছে। চৌধুরী সাহেবের আপত্তির হেতুটা পরে তরফদার সাহেব (ডঃ মমতাজুর রহমান তরফদার) আমাকে জানিয়েছিলেন। ইসলামাবাদে নাকি একটা ভাষা সেমিনার(সরকারী উদ্দ্যেগে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছিল একুশ কি বাইশে ফেব্রুয়ারী (১৯৭১)তারিখে। লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ডঃ চৌধুরীর তাতে যোগদান করার কথা ছিলো। এখন কথা হলো, আমরা যদি মিছিলটা নিয়ে যাই, লেখক হিসেবে তাকে একটা কৈফিয়ত দিতে হয়। কৈফিয়তটা যদি কর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে প্লেনে চড়ে ইসলামাবাদ যাওয়াটা ভেস্তে যায়”।
"আনুপূর্বিক তসলিমা এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ"- আহমদ ছফা, পৃ-৯০
Ali Akbar Tabi's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।