শেখ হাসিনা রয়টার্সকে: “আমি ডিসেম্বরের ভিতরে দেশে চলে আসব। তারা আমাকে সবাই মিলে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করতে পারে, ফাঁসিও দিতে পারে। তারপরেও আমি ভয় পাই না। আমি চলে আসব। আমি আমার নিজের দেশে মৃত্যুবরণ করতে চাই।”
এই ঘটনার পরে বাংলাদেশে পুরো তোলপাড় হয়ে গেছে। বিএনপির একেক নেতা একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছে। তবে সব থেকে ইন্টারেস্টিং লেগেছে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য।
সকাল ৯টা: শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নাগরিক। অবশ্যই তার আসার পথে কোনো বাধা নেই। উনি চাইলে আসতে পারেন, এমনকি চাইলে আজকেও আসতে পারেন। আমাদের পক্ষ থেকে স্বাগতম।
সকাল ১০টা: উনি আসলে উনাকে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে এবং ফাঁসি দেওয়া হবে।
সকাল ১১টা: উনি এভাবে নিজে নিজে আসতে পারেন না। ওনাকে আসলে আমরা গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাব।
সকাল ১২টা: পলাতক আসামি এভাবে আসতে পারে না। এটার জন্য দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে আসতে হবে।
দুপুর ২টা: ভারত জোর করে পাঠিয়ে দিলেই হবে না। একটা নিয়ম মেনে চলতে হবে।
দুপুর ৩টা: বিমানপথ অথবা স্থলপথ—কোনোভাবেই আসতে পারবে না। আমাদের লোকজন গিয়ে গ্রেফতার করবে, তারপর আসতে হবে।
বিকেল ৪টা: বন্দী বিনিময় চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নিয়ম মেনেই তাকে আসতে হবে।
বিকেল ৫টা: ভারত চাইলেই তাকে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দিতে পারবে না। আগে আমাদের অনুমতি লাগবে।
সন্ধ্যা ৬টা: শেখ হাসিনাকে ভারত পাঠাতে হলে আগে তিন মাস আগে আমাদের জানাতে হবে।
সন্ধ্যা ৭টা: পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চাইলেই আসতে পারবে না।
রাত ৮টা: ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চাইলেই নিজে নিজে আসতে পারবে না। আমরা অনুমতি দেব কি না, সেটা নির্ভর করবে তার আসার ওপর।
রাত ৯টা: আসার আগে অবশ্যই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে ভারতকে। তারপর আমরা পর্যালোচনা করে অনুমতি দেব কি না, সেটা নির্ভর করবে।
রাত ১০টা: পালিয়ে যাওয়া ফাঁসির আসামির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই। তাকে এবং তার দলকে বাংলাদেশ থেকে নিষ্কাশন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই।
রাত ১১টা: দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একজন ফাঁসির আসামি ওখানে বসে হুমকি দিচ্ছে। আমরা ভারতের সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে তার মুখ বন্ধ রাখে।
রাত ১২টা: ফাঁসির আসামির কোনো নিউজ বা কোনো কথা কেউ যদি প্রচার করে, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে।
পরের দিন সকাল ৯টা: ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফিরে আসার কোনো ইতিহাস নেই। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অতীত। তাকে বাংলাদেশে কেউ গ্রহণ করবে না।
সকাল ১০টা: ভারত চাইলেই জোর করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। ১৮ কোটি মানুষ শেখ হাসিনাকে ত্যাগ করেছে। তার স্থান বাংলাদেশে নেই।
সকাল ১১টা: প্রতিবেশী দেশের উচিত হবে, ফাঁসির আসামির কারণে যাতে আমাদের দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর রাখা।
দুপুর ১২টা: শেখ হাসিনার ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
দুপুর ১টা: শেখ হাসিনা ফিরে আসতে হলে অবশ্যই আমাদের দেশের অনুমতি লাগবে। আমরা দেশের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা যাচাই-বাছাই করে যদি মনে করি, তাহলেই অনুমতি দেব। তবে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে।
দুপুর ২টা: পালিয়ে যাওয়া ফাঁসির আসামির এভাবে ফিরে আসার কোনো উপায় নেই। আমাদের পুলিশ গিয়ে তাকে ওখান থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসবে। তারপর সে আসতে পারবে, তবে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে।
এদিকে ভয়ে আরও তিনজন অস্থির—একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন, আরেকজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহিদ, আরেকজন শামা ওবায়েদ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহিদ বলেছে, বাংলাদেশ সীমান্তে পা রাখার এক ন্যানোসেকেন্ডের ভিতরে তাকে গ্রেফতার করতে হবে এবং ২ মিনিটের ভিতরে তাকে ফাঁসি দিতে হবে। দেশের ১৮ কোটি জনগণ সেটা চায়।
শামা ওবায়েদ: ফাঁসির আসামির বক্তব্য আমরা এত আমলে নিচ্ছি না। তবে তাকে ফিরে আসার এক সপ্তাহের ভিতর ফাঁসিতে ঝুলানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: যেকোনো ধরনের প্রবেশ আমরা ঠেকিয়ে দেব—সেটা সাধারণ জনগণ হোক অথবা ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা, কাউকেই বাংলাদেশে ঢুকতে দেব না।
এদিকে রিজভী বলেছে, শেখ হাসিনার আসল বাসা ভারতে। সে যেন ভারতে থাকে, ভারতেই মরে।
এদিকে সারজিস আলম বলেছে, শেখ হাসিনার পরিবারে কোনো মুসলমান নেই, আর এটা বাংলাদেশ—মুসলিম দেশ। এখানে শেখ হাসিনার কোনো স্থান নেই। তাকে ভারতে মরতে হবে, ভারতে চিতায় জ্বলতে হবে।
নাহিদ, হাসনাত, ফুয়াদ—এরা বলেছে, পালিয়ে যাওয়া নেতার বাংলাদেশে আসার কোনো অনুমতি নেই।
কিছুক্ষণ আগে আবার প্রসিকিউটর আমিনুল বলেছে, পালিয়ে যাওয়া ফাঁসির আসামি ফিরে আসতে চাইলে অবশ্যই তিন মাস আগে আমাদের জানাতে হবে এবং বন্দী বিনিময় চুক্তিতে যদি আমরা রাজি হই, তারপরেই তারা আসতে পারবে। তবে তাকে খুব দ্রুততম সময়ে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে।
বক্তব্যগুলো ভালোভাবে খেয়াল করুন। এরা প্রত্যেক মিনিটে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় নিজেদের বক্তব্য পরিবর্তন করছে। এগুলো করে কখন জানেন? যখন মানুষ প্রচণ্ড পরিমাণে ভয় পেয়ে যায়, তখন তার ভিতরের কনফিডেন্স হারিয়ে যায়। শেখ হাসিনা কিন্তু আর অন্য কোনো কথা বলেননি, শুধু এতটুকু বলে চুপ আছেন। বাকি বিএনপি, জামায়াত, এনসিপির পাতি নেতা থেকে শুরু করে সমন্বয়ের চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ধান্দাবাজ—সবগুলোরই ভয়ে প্যান্ট ভিজে গেছে, এজন্য উল্টাপাল্টা কথা বলছে।
তবে সব থেকে মজাদার কথা ছিল আমিনুলের। বিএনপি তাকে দিয়ে প্রত্যেক ঘণ্টায় ঘণ্টায় বক্তব্য পরিবর্তন করাচ্ছে। আবার কথা বলার সময় তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে দেখুন, গলার দিকে তাকিয়ে দেখুন—তাদের ভয়ে গলা কাঁপছে।
_____বারখার ডায়েরি (পৃষ্ঠা ৩৫৫১)
Aindrita Barkha's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন—