মহাবিশ্বের ' লজ অব ফিজিক্স " আমাকে শেখ হাসিনাকে বুঝতে শেখায়। নিউটনের "থার্ড ল" শেখ হাসিনার আগামীর রোডম্যাপ থেকে আমাকে ভাবতে শেখায়।মহাকর্ষ সূত্র ও ব্ল্যাক হোল থেকেও আমি শেখ হাসিনার আগামী দিনের পলিটিক্যাল ইউনিভার্স এর স্মার্ট বাংলাদেশ বুঝতে পারি।আমি বুঝতে পারি , বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্ট্রাকচারাল গ্রাভিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীর পড়ার অভ্যাস নেই। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এই গুরুত্ব বুঝতে অক্ষম। তাই বাংলাদেশের মানুষের সাথে বঙ্গবন্ধুর সেই সহজ ভাষায় কথা বলতে হবে। অর্থাৎ -
" আর দাবায়ে রাখতে পারবা না

"
কোন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও কাল্পনিক বিমানে শেখ হাসিনার ফেরা অসম্ভব। শেখ হাসিনাকে পদার্থবিজ্ঞানের " লার্জ মাস অবজেক্ট " এর সাবজেক্ট হয়ে ফিরতে হবে।তার গড়ে যাওয়া উন্নয়নের মহা সেতুর উপর ভর করেই তিনি ফিরতে পারেন। বাংলাদেশের একজন কানাও জানে, আজকের বাংলাদেশের এই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রূপকার শেখ হাসিনা।তাকে তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে ফিরতে হবে।এনট্রপি ও পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু আওয়ামীগকে জ্ঞান দেওয়ার আমি কেউ নই।।
গতকাল রাতে আমার লুসিড ড্রিম স্বপ্নে শেখ হাসিনা এসেছিলেন।আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
" আপার উপর রাগ করে আছিস

"
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মধ্যে উন্নয়নের একটি কসমিক শিপট তৈরি করেছেন । কিন্তু তার দলের কিছু দুশ্চরিত্র মানুষ এই কসমিক শিফট সম্পর্কে কোন ধারণা রাখে না।এরা এখনও " হেন করেঙ্গা তেন করেঙ্গা " এমন সব মান্ধাতার আমলের বিষয় নিয়ে পড়ে আছেন। এজন্য বাংলাদেশের একটি প্রচলিত প্রবাদ হচ্ছে - " যৎ কালে তত বিবেচনা ।"
শেখ হাসিনা আমার মাথায় হাত রাখতেই আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের পলিটিকাল মাল্টিভার্স দেখতে লাগলাম।আমার মনে হচ্ছিল , পাশে বসে মা আমাকে সাহস ও অনুপ্রাণিত করেছেন। "
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনটি লেয়ারের মাল্টিভার্স পলিটিক্স চলছে।এই মুহূর্তে কসমোলজিকাল বিগ ক্রাঞ্চের মতো শেখ হাসিনার উচিত তার রাজনৈতিক দল পুনর্গঠন করা। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে রাখা ।গত কয়েকদিন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন ভার্চুয়াল বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে আবার পুনরুজ্জীবিত করতে শুরু করে দিয়েছেন।নিজেকে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে প্রতিষ্ঠা করার এই চেষ্টা ভীষণ প্রশংসনীয়। এইভাবেই শেখ হাসিনা আবারও বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষকে বেঁচে থাকা ও সংগ্রাম করে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। রাজনীতির এই বিচক্ষণতায় শেখ হাসিনা সবসময় অনন্যা।
এই মুহুর্তে শেখ হাসিনার ভূ - রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যম হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে। একজন বিচক্ষণ নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা এই কাজটিই করতে শুরু করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তার অবদান এখনও আন্তর্জাতিক বিশ্ব কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করে। শেখ হাসিনার জীবনের গল্প , তার রাজনৈতিক সাহসিকতার গল্প , একটি তলাবিহীন ঝুড়ির দেশকে উন্নয়নের রূপকল্পে পরিণত করার গল্প থাকে বাংলাদেশের অন্য সব নেতা থেকে আলাদা করে বাংলাদেশের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত করেছে।তাই বাংলাদেশের ভূ - রাজনৈতিক বাস্তবতাকে ট্রাম্প কার্ড বানিয়ে সামনের দিকে সঠিক ফোকাস করতে পারলে সকল অপশক্তিকে হারিয়ে বিজয় অর্জন কেবল শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব।
আওয়ামীলীগকে বুঝতে হবে , " আমাদের এই মহাবিশ্ব কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং অনিশ্চয়তার নীতির উপর ভর করে টিকে আছে। রাজনীতিতে জনমত ও জনগণের আচরণ হচ্ছে কোয়ান্টাম কণার মতো।এটা নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব।"
শেখ হাসিনা বললেন , " তোর সাথে আমার কথা হয়নি বলে কষ্ট পেয়েছিস ? "
লুসিড ড্রিম : না। তবে আপনাকে নিয়ে আমি ভীষণ চিন্তিত।
লুসিড ড্রিম: আমাদের এই মহাবিশ্বে সেন্ট্রিফিউগাল ও সেন্ট্রিপেটাল নামে দুটো ফোর্স কাজ করে। বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এসব বিষয়ে জানা ভীষণ জরুরী।ঠিক তেমনি প্রতিটি রাজনীতিবীদের জন্য একটি রাষ্ট্রের টিকে থাকার সুত্র জানা জরুরী। রাষ্ট্র এই মহাবিশ্বের মতো দুটি বলের ভারসাম্য বজায় রেখে টিকে থাকে। আওয়ামীলীগ এই সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্সের জন্মগত উত্তারাধিকার। তাই আওয়ামীলীগের কর্মীদের বাংলাদেশের এই সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স বুঝতে হবে। বাংলাদেশের এই সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স হচ্ছে আমাদের ভাষা , সংস্কৃতি , জাতীয়তাবাদ , মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের অর্থনীতি।এই কেন্দ্রমূখী বল আওয়ামীলীগকে সবসময় বাংলাদেশের জনগণের সাথে যুক্ত করে রাখে।তাই এসবের যতবেশি প্রচার হবে আওয়ামীলীগ তত দ্রুতই সংগঠিত , সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ এক শক্তি হয়ে উঠবে। এখানেই আওয়ামীলীগের সবচেয়ে বেশি ফোকাস করা উচিত। কিন্তু রাজনীতিতে কে শোনে কার কথা

মহাবিশ্বের " দ্য সেকেন্ড ল অব থার্মোডাইনামিক্স " বাংলাদেশের সকল মুক্তিকামী মানুষকে বুঝতে হবে। আমাদের মহাবিশ্ব , পৃথিবী ও মানুষ তথা আমরা সবাই নক্ষত্রের ধূলিকণা থেকে তৈরি।এই মহাবিশ্বের প্রাকৃতিক নিয়ম হচ্ছে - " কোন পরিকল্পিত সরকার ব্যবস্থাকে এনট্রপি বা ভাঙ্গনের দিকে নিয়ে গিয়ে দূর্বল করতে হলে বাইরে থেকে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।"
আওয়ামীলীগের এই শক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে আগামীর তরুণ প্রজন্ম। তরুণ প্রজন্মকে আওয়ামীলীগের বুকে টেনে নিতে হবে। তরুণ নেতৃত্ব ও নতুন নীতি এই দুটোই পারে বর্তমান সরকারের অভ্যন্তরে তীব্র ভাঙ্গন তৈরি করে দিতে।দেশ ও দেশের বাইরে থেকে সজোরে একটা ধাক্কা দিতেই পারলেই প্রত্যাবর্তন - ২ রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে পরিণত হবে। নয়তো অবস্থা হবে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো। যতই শক্তিশালী হোন তা কোন কাজেই আসবে না ।
মনে রাখবেন , শক্তিশালী সোভিয়েত ইউনিয়ন ( USSR ) এর পতন হয়েছিল পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে না পেরে। এজন্য ভেতর থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।
গত তিন বছরে আপনি সকল বাঁধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পেরেছেন।এটাই আপনার সঠিক ন্যাচারাল সিলেকশন। কিন্তু তার সাথে আপনার দলের নেতাদের সেভাবে দক্ষ করে তুলতে হবে।দক্ষ সংগঠক ছাড়া শক্তিশালী সংগঠন তৈরি হয়না। আপনার দলের অধিকাংশ নেতাই তরুণ প্রজন্মের নিউরো - পলিটিকাল ম্যাপিং বুঝতে সম্পূর্ণ অক্ষম। তরুণ প্রজন্মের মস্তিষ্ককে সঠিকভাবে রিড করতে না পারলে কখনোই বর্তমান সরকারকে দূর্বল করা সম্ভব নয়। আপনার দলের নেতা ও কর্মীদের বাংলাদেশের নতুন জেনারেশনের ইয়ুথ ব্রেইন নিয়ে একটু পড়াশোনা করতে বলুন। আপনার কর্মীদের পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে বলুন। তরুণ প্রজন্মের অ্যালগরিদমিক ইকো চেম্বার বুঝতে হবে পড়া ও জানার কোন বিকল্প নেই। আজকের তরুণরা বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস , বিএনপি ও জামায়াতের ব্যর্থতা সহ আপনার সফলতার গল্প তেমন করে জানে না।তাই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামীলীগের এই মহুর্তে তরুণ প্রজন্মের পলিটিক্যাল ডাইনামিকস বুঝা সবচেয়ে জরুরি।
আওয়ামীলীগের কর্মীদের পরিকল্পিত ডিজিটাল অ্যাক্টিবিজম করার নির্দেশ দিন। রাজনৈতিক ইস্যু বেইসড পলিটিক্সকে কেন্দ্র করে ছোট ছোট গণ আন্দোলনে জনগণ ও তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিটি অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে এই মহুর্ত থেকে ডিসেন্ট্রালাইজড লীডারশীফ তৈরি করুন। জনসম্পৃক্ত রাজনীতি ছাড়া উত্তরণ অসম্ভব। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পূর্বাভাস বুঝে এখন থেকেই দলের মধ্যে তরুণ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব সৃষ্টি করুন। আমি বলছি - অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়।"
আমার কথাগুলো মেনে মাত্র দুইটি মাস কাজ করে দেখুন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই একটা রাজনৈতিক জাগরণ বা কসমিক শিফট দেখতে পাবেন। এটাই মহাজাগতিক ও রাজনৈতিক সকল সমীকরণ মুহুর্তেই উল্টে দিতে পারে।
শেখ হাসিনা: তোমার মতো যদি আওয়ামীলীগের প্রতিটি কর্মী নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম থেকে এইভাবে ভাবতো তবে আজ আমাদের এইদিন কোনভাবেই দেখতে হতো না। তো , ভাত খেয়েছিস ?
শেখ হাসিনা: এখনই ভাত রান্না করে খেয়ে নাও। মস্তিষ্কের বুদ্ধির সাথে শরীরের ব্যালান্স দুটোই ঠিক রাখতে হবে। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। সকল বিভেদ ভুলে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউই আমাদের হারাতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশ্যে বলবো -
" এই অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়।"
সত্য সবসময় সুন্দর।
১৯ ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩ অক্টোবর, ২০২৬
লুসিড ড্রিম's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।