প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ২:১৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১২:৪২ এ.এম
শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন,অজিত দোভালের অকস্মাৎ বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়া
·অনলাইন সোমবার,২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন, ভারতের NSA অজিত দোভালের অকস্মাৎ বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়া এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন-এর বিশেষ ব্রিফিং কী কোনও বিশেষ বার্তা দেয়? হ্যাঁ দেয়। কীভাবে? তার সুলুক সন্ধান করা যাকঃ
অজিত দোভাল গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংক্ষিপ্ত ও গোপন সফরে ঢাকায় এসেছিলেন। ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতি ও ভিত্তি তৈরি করা।
নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্যে অজিত দোভালের এই ঢাকা সফর বৈঠকেরই গ্রাউন্ডওয়ার্ক মনে করা হচ্ছে। দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠকে অন্য সব বিষয়ে সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বিষয়টি রয়েছে। অজিত দোভালের এই সফর নিয়ে বাংলাদেশ বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না।
বাংলাদেশ সরকার চায় শেখ হাসিনাকে পত্যার্পন করা হোক। যা ভারত সরকার নাকোচ করে দিয়েছে। ভারত চায় শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন। এক্ষেত্রে ভারতের বক্তব্য―যেহেতু শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমান দিল্লির অদূরে হিন্দন এয়ারবেস-এ নামিয়ে দিয়েছে, সুতরাং তিনি ‘পলাতক আসামী’ নন। তাই ২০১৩ সালে সংশোধিত প্রত্যার্পন চুক্তি শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এরই মধ্যে শেখ হাসিনা স্বয়ং চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ICT আদালত ফাঁসির সাজা দিয়েছে, তাই দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, জামিন না দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে, এই আশঙ্কায় ভারত চাইছে তাঁর পূর্ণ বৈধ আইনি সহায়তা, তাঁর নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং আইনি অধিকার যেন বাংলাদেশ সরকার নিশ্চিত করে। অজিত দোভালের অ্যাসাইনমেন্ট এটাই।
প্রশ্ন হলো, যখন পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তিন মন্ত্রীর কেউই দেশে নেই, তখন তিনি কার বা কাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন? এই জায়গাটিতেই অজিত দোভাল বাকি কর্মকর্তাদের চেয়ে আলাদা। তিনি এনএসএ হওয়ার আগে যেখানে কাজ করেছেন, সেখান থেকে শুরু করে এনএসএ হওয়ার পর কোনও কাজে হাত দিয়েছেন, আর সেটা ব্যর্থ হয়েছে, এমন রেকর্ড নেই। তাই আমরা জানি বা না-জানি তিনি যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলেন সেটা তিনি সম্পন্ন করেছেন।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে নিউ ইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন―“সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। এই বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি বড় ধরনের উত্তেজনার কারণ, তাই ওয়াশিংটন আশা করে, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাবে।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বা তার বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতিকে তারা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই মীমাংসার পক্ষে।“
এই বক্তব্যকে দুভাবে ট্যুইস্ট করা যায়। সরকার পক্ষ বলবে―মরিসনের বক্তব্যে স্পষ্ট যে আমেরিকা শেখ হাসিনাকে সমর্থন করছে না। সুতরাং তিনি দেশে আসলে গ্রেফতার, ফাঁসি দিলে আমেরিকার কোনও সমস্যা নেই।
আওয়ামী লীগ পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে; আমেরিকা ভারতের উপর দায়িত্ব দিয়েছে, মানে ভারত যা করবে তাতে আমেরিকার সমর্থন থাকবে।
এই ন্যারেটিভের বাইরে কূটনৈতিক স্পিচের আঁটি ভেঙে শাঁস বের করলে পাওয়া যায়―মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবল চাপেও ভারতকে ট্রেড ডিল স্বাক্ষর করাতে পারেনি। ট্যারিফ বাড়িয়েও শেষে কমাতে হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসে একদল ভারতীয় বংসদ্ভূত সিনেটর আছে যারা ট্রাম্পের মিডটার্ম ইলেকশনে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব কারণে শেখ হাসিনা বিষয়ে ভারত কী করবে, কীভাবে করবে সেটা পুরোপুরি ভারতের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। এর অর্থ ভারত-বাংলাদেশ আলোচনার পর তারেক রহমান সরকার শেখ হাসিনা বিষয়ে ভারতীয় শর্ত মেনে নিলে আমেরিকার কোনো সমস্যা নেই। যদিও আমেরিকা বিএনপি সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্বর্পর্ণ দৃঢ় সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়েছে। কূটনীতিতে সব কথা যেমন খুলে বলা হয় না, তেমনি যা বলার তা রূপক শব্দে ঠিকই বলে দেওয়া হয়।
অর্থাৎ আমেরিকা বিএনপি সরকারের দৃঢ় মিত্র, সেটা অটুট থাকছে, কিন্তু ভারত শেখ হাসিনা বিষয়ে যা করবে তা সমর্থন করে বোঝাচ্ছে ভারতের সিদ্ধান্তে তারা নাক গলাতে আসবে না। এখানে আরও একটি বিষয় লুকিয়ে আছে, তা হলো মার্কিন সরকারের পলিসি মেকিংয়ে একদিকে জেডি ভান্স ও মার্কো রুবিও ছড়ি ঘোরায়, অন্যদিকে ট্রাম্প তার নির্বাহী আদেশ দিয়ে ছড়ি ঘোরায়।
শেখ হাসিনা বিষয়ে মার্কিন এই আপাত নমনীয় অবস্থানের পেছনেও রয়েছে ভারতের আন্তর্জাতিক চাণক্য কূটনীতি। শুধু মার্কিন নয়, আরও কয়েকটি দেশ শেখ হাসিনা বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপকে যেন সমর্থন করে সেই গ্রাউন্ড ওয়ার্কও ভারত অনেকদিন ধরে করে আসছে। যে কারণে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক সঙ্গে থাকবেন (যদিও বাংলাদেশ ভিসা দেবে কীনা নিশ্চিত নয়) । এবার ডটগুলো মেলালে অনুমান করা যায় ৮১তম জন্মদিনটা শেখ হাসিনা নিজভূমে উদযাপন করবেন।
28th September 2026
Monjurul Haque's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত