প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৮:৪৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৫, ২০২৬, ৫:৩২ পি.এম
সাইলেন্ট ডিভোর্স !
·অনলাইন বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬,
"এক ছাদ, এক বিছানা, পাশাপাশি দুটি বালিশ
মাঝে যোজন যোজন দূরত্ব-
দূরত্বের রাশ টেনে দাঁড়িয়ে আছে আগামী প্রজন্ম।,,
এই হলো " সাইলেন্ট ডিভোর্স !
ওরা কোর্টে যায় না। ডিভোর্স পেপারে সাইন করে না। লোক জানা জানিও হয় না।
ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়ে সকালের চায়ের কাপে, রাতের খাবার টেবিলে কথা ফুরিয়ে যায়।একই ছাদের নিচে আলাদা পৃথিবী। চোখাচোখি হয়, কিন্তু দেখা হয় না। কথা হয় কিন্তু গল্প হয় না।
কাগজে-কলমে সম্পর্ক টিকে আছে, চলছে দৈনন্দিন কাজও। কিন্তু মন, অনুভূতি, সংযোগ—সবকিছু ধীরে ধীরে শেষ হয়ে গেছে।এটা যেন এক ছাদের নিচে দু’জন নিঃশব্দ রুমমেটের জীবন।
পাঁচ- ছয় বছর বয়সের বাচ্চাটিও বুঝে যায় সে এখন মধ্যমা। সে তখন হয়ে যায় ডাকপিয়ন।
বাবা ডান পাশে, মা বাম পাশে। সে মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাসে। কারণ সে জানে - তার হাসিটাই এই ভাঙা সম্পর্কের ফেবিকল ।
রাতে ঘুমের ঘোরে শুনে বালিশে মুখ গুজে মায়ের চাপা কান্না, আর ওপাশে বাবার নিঃশব্দ রাত্রি যাপন। প্রতিনিয়ত সে ভয়ে থাকে অনিশ্চয়তার।
সাইলেন্ট ডিভোর্সের প্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি পুরো পরিবার, বিশেষ করে সন্তানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দম্পতিরা নিজেদের মধ্যে একাকিত্ব এবং বিষণ্ণতা অনুভব করেন। বাবা-মায়ের এই নীরব বিচ্ছেদ দেখে সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। তারা ভুল ধারণা নিয়ে বড় হতে পারে যে, সম্পর্কে ভালোবাসা বা আবেগ প্রকাশ করা অপ্রয়োজনীয়। কখনো কখনো বড় হয়ে তারা বৈবাহিক সম্পর্কে জড়াতে ভয় পায়।
আর বাবা-মায়ের ত্যাগ, খালি চোখে সেটা কেউ দেখে না। মা তার সব স্বপ্ন পোড়ায়।নিজের পছন্দকে বলী দেয়। বাবা ঠিক যেনো কলের পুতুল, টাকা উপার্জনের মেশিন। মিথ্যা সম্পর্কে থেকে দুজন মানুষ হাসি মুখে কথা বলে শুধু সন্তান যেনো ভালো থাকে।
মা কিংবা বাবা দীবসে কার্ড না পেলেও সন্তানের জন্মদিনে আকাশের চাঁদটা নামিয়ে আনার চেষ্টা করে দুজনেই।নিজের সুখ পুড়িয়ে সন্তানের জন্য ছাতা হয়ে দাঁড়ায় বাবা, মমতার ছায়াতলে রাখে মা। নিজেদের পৃথিবী আলাদা হলেও শুধু সন্তানের জন্য এক ছাদের নীচে একসাথে থাকে
ভালোবাসা মরে গেলেও, দায়িত্বটা তো থেকেই যায় ।
সাইলেন্ট ডিভোর্সে কাগজ ছেঁড়া হয় না।
ছেঁড়া হয় দুইটা মানুষের মন । আর সেই ছেঁড়া টুকরো দিয়ে ওরা রোজ মালা গাঁথে, সন্তানের গলায় পরায়। যাতে দুনিয়ার কেউ বুঝতে না পার
Snigdha Era's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত