সংসদের একটা ভাষণ দেখতেছিলাম। বিএনপির একজন সহজ-সরল নেতা বক্তব্য দিতে গিয়া হরহর করে সব সত্য কথা বইলা দিছে।
তারপর সালাউদ্দিন আর আমির খসরু স্পিকারকে ইশারা দিছে। সাথে সাথে স্পিকার ওই নেতার মাইক বন্ধ করে দিছে।
কি বক্তব্য দিছিল সেটা আপনারা জানেন। তারপরও বলি।
ওই নেতা বক্তব্য দিচ্ছিল, "আওয়ামী লীগের আমলে আমরা এই ধরনের সন্ত্রাস দেখি নাই। জনগণ এখন বলতে শুরু করেছে, আওয়ামী লীগের আমলে এগুলো দেখি নাই।
এখানে-সেখানে চাঁদাবাজি, খুন-খারাবি, প্রতিদিন ১৮টা করে খুন হচ্ছে। এই সন্ত্রাস তো আমরা আওয়ামী লীগের আমলে দেখি নাই। দিনের পর দিন পার হয়ে যায়, তাদের গ্রেফতার করতে পারে না সরকার। আওয়ামী লীগের আমলে কোনো একটা খুন-খারাবি হলে সেটার বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। এখন সেটা হচ্ছে না।
আমি নিজেও কখনো সন্ত্রাসের এই চিত্র আওয়ামী লীগের আমলে দেখি নাই, কিন্তু এখন অহরহ দেখতেছি। এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। এমন যদি চলতে থাকে, তাহলে জনগণ আমাদেরকে ছুঁড়ে ফেলবে। চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, খুন, রাহাজানি—এগুলো বিএনপির নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে গেছে। এই ধরনের সন্ত্রাসবাদ আমরা আওয়ামী লীগের আমলে দেখি নাই।
পরের বক্তব্য বলতে যাবে, তারপরই তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হলো এবং তাকে বসিয়ে দেওয়া হলো...।
যাইহোক, এবার আসি কয়েকটা ইকুয়েশনে। বিএনপি এবং তাদের মামুদের সাজানো সংসদের বক্তব্যগুলো খেয়াল করুন:
✓ আওয়ামী লীগের থেকে বড় ফ্যাসিস্ট জামাত, বলছে বিএনপি।
✓ বিএনপির থেকে আওয়ামী লীগের আচরণ ভালো ছিল, বলছে জামায়াত।
✓ বিএনপি যেভাবে মারছে, এইভাবে আওয়ামী লীগও মারেনি, বলছে এনসিপি।
আর সাধারণ জনগণ সবাই বলছে— “আগেই ভালো ছিলাম। শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন করেছে, সেটা আগামী ৫০০ বছরেও কেউ করতে পারবে না।” যারা বিধবা ভাতা ও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ভাতা পেত, তাদের অনেকেই বলছে— “এখন আর পাচ্ছি না, আমাদের কাছে হাসিনাই সেরা।
এ তো মাত্র দুই বছর। আরও দুই-এক বছর যেতে দিন।
ঠিক এই কারণে তারা লাখ লাখ আর্মি-পুলিশ নামিয়ে রাখছে এবং তাদের সাজানো বিরোধী দল এবং তাদের টোকাই বাহিনীরদের রাস্তায় নামিয়ে রাস্তা গরম করে রাখতেছে যাতে জনগণ এগুলো বলতে না পারে। জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে।
এমনকি বিএনপি একজন রিকশাওয়ালাকে ধরে নিয়ে গেছে সে শুধু বলেছিল আমার কাছে হাসিনা ভালো ছিল। তারপর তাকে চার মাস জেলে রাখছে।
গতকালকে একজনকে দেখলাম একজন রিকশাওয়ালা বলতেছে—জুলাই আন্দোলনে আমি ছাত্রদেরকে আমার রিক্সায় করে ঘুরিয়েছি, সমর্থন দিয়েছি কিন্তু এখন বুঝলাম সবগুলো হচ্ছে চোর-বাটপার, হাসিনা সঠিক ছিল, তাদেরকে উত্তম-মধ্যম দেওয়া উচিত ছিল।
দুই বছরে দেশটাকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, রাস্তাঘাট সব নষ্ট হয়ে গেছে, কোন ধরনের কাজ করে নাই। যে রাস্তার কাজ তদারকি করতে হয় তিন-চার মাস পরপর, সেগুলা কোনো রকমের কাজ করতেছে না বলে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
যাইহোক, ওইটা তো জনগণের ভাষা। ওটাকে ইনক্যাশ করতে হলে—অর্থাৎ যারা আওয়ামী লীগ করে, তাদের এখন মূল টার্গেট হওয়া উচিত নিজেদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা। সেই সময় অনেক কিছুই ঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। তুলনা করে দেখান—২০০৬ সালে কী ছিল, আর বর্তমানে কী হয়েছে।
কি পরিমাণ উন্নয়নের কাজ হয়েছে, সেগুলা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না, সেগুলোকে তুলে ধরুন। এ ধরনের ভিডিও পেয়ে যাবেন। যে কোনো রাস্তাঘাট বা উন্নয়ন চিত্রের কেউ ভিডিও আপলোড করলে সেখানকার কমেন্টগুলা লক্ষ্য করুন, সাধারণ জনগণ কি বলতেছে।
কেউ বলে নাই যেটা ইউনুস বানিয়েছে, তারেক জিয়া বানিয়েছে; ডাইরেক্ট তারা বলে এটা হাসিনা বানিয়েছে।
এটাকে আপনাকে ইনক্যাশ করতে হবে।
যেখানে ব্যাংক ডাকাতির কথা বলা হবে, সেখানে তুলে ধরুন ওই ব্যাংকের মূলধন শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসার সময় কত ছিল। তাহলেই তাদের ভণ্ডামি ধরা পড়ে যাবে।
ধন্যবাদ সবাই, ভালো থাকবেন।
_____বার্খার ডাইরি (পৃষ্ঠা ৩৫১১)
ALY is back's Post