বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বরেণ্য চিত্রনায়িকা, পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী-র জীবন ও কর্মের আদ্যোপান্ত ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:
ব্যক্তিগত পরিচিতি ও জন্মস্থান
পূর্ণ নাম: মিনা পাল (পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে নাম রাখা হয় 'কবরী সারোয়ার' এবং জীবনের শেষভাগে সারাহ বেগম কবরী)।
ডাকনাম: মিনা।
জন্মতারিখ: ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই।
জন্মস্থান: ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) বোয়ালিয়া, চট্টগ্রাম জেলা।
পিতা-মাতা: পিতা শ্রী কৃষ্ণ দাস পাল এবং মাতা লাবণ্য প্রভা পাল।
বাসস্থান ও ঠিকানা
কবরীর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বোয়ালিয়ায়। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় (যেমন: গুলশান, উত্তরা) বসবাস করেছেন।
শিক্ষাজীবন
কবরী তার শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন চট্টগ্রামে। তিনি চট্টগ্রামের স্থানীয় বিদ্যালয় থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করেন। অত্যন্ত অল্প বয়সে চলচ্চিত্রে পা রাখায় প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি নিজের লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে একজন মননশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
কর্মজীবন (চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি)
চলচ্চিত্রের শুরু: মাত্র ১৩ বা ১৪ বছর বয়সে ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় 'সুতরাং' চলচ্চিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে তাঁর অভিষেক ঘটে। এই ছবিটি তাঁর জীবনে দারুণ সাফল্য এনে দেয়।
সুপরিচিত ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র: তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে সাত ভাই চম্পা, অরুণ বরুণ কিরণমালা, তিতাস একটি নদীর নাম, রংসুরা, সুজন সখী, নীল আকাশের নিচে, অবুঝ মন, সারেং বউ ইত্যাদি।
'মিষ্টি মেয়ে' উপাধি: বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের এই অভিনেত্রীকে দর্শকরা ভালোবেসে 'মিষ্টি মেয়ে' হিসেবে উপশোভিত করেছিলেন। তাঁর সাবলীল অভিনয় ও মিষ্টি হাসি দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছিল।
পরিচালনা: অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সফলভাবে চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন। ২০০৬ সালে তাঁর প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র 'আয়না' মুক্তি পায়।
রাজনীতি ও সমাজসেবা: ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
সাহিত্য ও পুরস্কার
লেখালেখির জগতেও তাঁর পদচারণা ছিল। তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই 'স্মৃতি টুকু থাক' বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে তিনি একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা লাভ করেন।
জীবনাবসান
২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকাময় করোনা মহামারীর সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এই বরেণ্য অভিনেত্রী মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান, কে জৈন কিংবা কে ৪২০০টি ধর্ম্বাবলম্বীর একটি - এটি আমি জানতে চাইনি, চাই না কখনো।
ধর্মান্তরিত হতে হতে পৃথিবীতে আজ ৪২০০টি ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বরেণ্য চিত্রনায়িকা, পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী
আঞ্জুমান আরা খান কলি
𝒦𝑜𝓁𝒾 | কলি
কলি বিবি's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।