প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৬, ৪:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩, ২০২৬, ৭:৫৯ পি.এম
সুবিধার দানা পেটে পড়লে মানুষ যে আত্মঘাতি হয় :Fida Hasan Rislu
সুবিধার দানা পেটে পড়লে মানুষ যে আত্মঘাতি হয়, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের ২৪-এর আগষ্ট পরবর্তির লিখনীগুলি পাঠ করলে তেমনটাই মনে হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি কেবল রাজাকারের সহযোগীতাভোগী হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করছেন না, জাতিগত গর্জনের সকল মহতি অর্জনগুলিকেও ধুলিসাৎ করতে চাইছেন। প্রথম আলো'তে আজকে তিনি আরেকটা বিকারগ্রস্ত তথ্য দিয়েছেন। তিনি লিখলেন, মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারেরা ছিলেন সমান সমান। তার ভাষ্যমতে, তালিকাভুক্ত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার অর্ধেকই যুদ্ধ করেন নি, তারা শরনার্থী শিবিরে ছিলেন। কেউ কেউ আবার বিদেশে থেকে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছিলেন, ডিসেম্বরে এসে যুদ্ধের খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন। এর বাইরে বাকি যারা ছিলেন, তারা সকলেই অমুক্তিযোদ্ধা। অন্যদিকে পাকিস্তান বাহিনীর নিবন্ধিত রাজাকারের সংখ্যা ছিল প্রায় একলক্ষ এবং তারা আবার হানাদার বাহিনীকে সহযোগীতা না করে মুক্তিযোদ্ধাদের পথ-ঘাট চিনিয়ে দিতেন। অবাক হয়ে ভাবছি, তবে কী আমরা ৫৫ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যা কিছু পড়ে এসেছি এমনকি খুব ছোট হলেও স্বাধীনতা পরবর্তিকালে বিভিন্ন রাজাকারদের হত্যা করতে কিংবা তাদের কান কেঁটে নিতে দেখেছি, সেগুলি কী ভুল দেখেছি?
অবরুদ্ধ দেশে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার দিলেন, আশ্রয় দিলেন এবং এইসব করবার কারণে পাকিস্তানী হানাদারদের গুলির মুখে জীবন দিলেন, বিধ্বস্ত বাঙলার আনাচে-কানচে নানাস্থানে গনকবরগুলিতে নিহত হলেন, জান বাঁচানোর জন্যে ওপারে আশ্রিত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় পুরাটা সহ লক্ষ লক্ষ মানুষ যে শরনার্থী শিবিরের রোগে-শোকে আর খাদ্যের অভাবে মারা গেলেন, দুই-আড়াই লক্ষ মা-বোন যে ধর্ষণের শিকার হলেন, যশোর কালিগঞ্জের যে মা তার ঘরে পালিয়ে থাকা দুই যোদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রতিবন্ধী সন্তানকে হায়েনাদের খাদ্য বানালেন, মাইকে ঘোষণা দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার প্রলোভনে সৈয়দপুরের সকল মাড়োয়ারীদের ট্রেনে তুলে দিয়ে কিছুক্ষণ পরে তাদেরকে নামিয়ে এনে বিহারীরা যে শত শত মানুষকে হত্যা করলেন, বিদেশে স্কলারশিপ পেয়েও সেখানে না গিয়ে শফি ইমাম রুমি যে যুদ্ধে গেলেন এবং রুমির মতন অসংখ্য শিক্ষিত ছাত্রদের বাইরেও আরো অজস্র যেসব কৃষক-শ্রমিকেরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন, বগুড়ার প্রতিরোধযুদ্ধের প্রথম প্রহরে দশম শ্রেনির ছাত্র শহীদ টিটুর লাশ আনার পরে গোটা মালতিনগর এবং তার আশ-পাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ হানাদারদের ঘৃণার ক্রোধে যেভাবে বুকে চাপড়িয়ে মাতম করলেন এবং এরকমের সহস্র ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থেকে জীবন দিয়ে ৩০ লক্ষের তালিকায় নিজেদের রক্ত লিখালেন, তারাও কি তবে মহিউদ্দিনের ভাষ্যমতে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাকিস্তান সরকারের নিবন্ধিত এক লাখ রাজাকারের সমান অনুপাতে বিবেচিত হবেন? তার আরো মতে, সেইসব রাজাকারদের অনেকে আবার মুক্তিযোদ্ধাদের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, পুল কালভার্ট চিনিয়ে দিয়েছেন এবং এসবের সাক্ষ্য হিসেবে নিজেকেও তিনি যেভাবে রাজাকারের সহযোগিতাভোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাতে করে তার প্রায় খুলে পড়া মুখোশ এবার একেবারেই খ'সে পড়েছে।
হায় সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ! তার চেয়েও বিচিত্র মুক্তিযোদ্ধা নামধারী মহিউদ্দিনের মতো তথাকথিত কিছু সুবিধাভোগী লেখক কিংবা গবেষক! সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধ-কে নিয়ে ব্যবসা করেছেন বলে অনেকে অভিযোগ করেন। মহিউদ্দিন আহমদকে তো দেখছি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ফান্ডের নগদ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মুল্যবোধটাকেই গায়েব করে দিতে চাইছেন।
উনি উনার মতো করে যেবক্তব্য তথ্য দিয়েছেন সেসব তর্কের নয় সেলফ ফরমায়েসী ঘরানার। তুমি তোমার জানা পরা শোনা থেকে যা বলছো সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিক সমৃদ্ধ।
কিন্তুু মুক্তি যুদ্ধ আর যোদ্ধা বিষয়ে এখনো জাতি অনেক সত্য আর ঘটে যাওয়া ইতিহাস সঠিক ভাবে জানতে পারেনি। জানতে দেওয়া হযনি সঠিক খবর যাদের কাছে যারা তা ধারন করেন তারা তা অপ্রকাশিত রেখেছে বা লুলা খোড়া ভাবে কিছু বই কিছু বক্তব্য পরিবেশনের মদ্ধে নান ভাবে বিতর্কিত। আলোচনার শুরু আর কারন ঐ একই ধারায়। মক্তি যোদ্ধা দের সরাসরি এফ এফ আর নানা ধরনের কাজে নিবেদিত হওয়ার খোঁজ নিয়ে সঠিক তালিকা আজো আমাদের দেশে তা সমাপন করতে ব্যর্থহয়েছে। সহযোগী হিসেবে নকল আসল সব নিয়ে আজো নানা প্রশ্ন রয়েছে। তালিকায় ভুয় যেমন রয়েছে তেমনি যুদ্ধে অস্ত্র হাতে বিষয় পর্যুন্ত ছিলেন এমন অনেকের নাম তালিকা ভুক্ত হয়নি। অনেকে মৃত্যু বরন করেছে মানবেতর জীবনযাপন করে সব ইতিহাস। যাতুলে ধরতে অনেক কাজ আমাদের বাকি। তোমাকে ধন্যবাদ বিষয়টি ইতিবাচক পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য । লেখার যুদ্ধের ময়দানে লোকের সংকট। লোভ ভয় আর বিবেককে তালামাড়া সমাজে কষ্টের মানুষ লাগে সত্য আর মূলধারায় রাখতে দেশ কে সমাজকে মানুষকে । লেখা চালিয়ে যাও।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত