প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ৬:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৩০, ২০২৬, ১১:৫৩ পি.এম
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ
অনলাইন রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সাবেক ভিপি। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরে একেকটি পদ একেকটি ইতিহাস, যা স্পর্শ করার স্বপ্ন দেখে না এমন রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে একজনও নেই।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘসময় লোকটা দলীয় রাজনীতিতে সুবিধা করতে পারে নি। এ নিয়ে নানা রকম আলোচনা আছে, সে বিষয়ে আগাবো না। দলীয় রাজনীতিতে সুবিধা করতে না পেরে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি ড. কামাল হোসেন ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে নির্বাচনী জোট গঠন করেন, যে জোটের প্রধান দল ছিলো বিএনপি। ওই জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে ২০১৮ এর নির্বাচনে জয়ীও হন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।
নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিএনপি যখন সংসদে যেতে টালবাহানা করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর তখন দৃঢ় চিত্তে ঘোষণা করেন, তিনি সংসদে যোগ দেবেন। ওই সময় এই ঘোষণা ছিলো বিএনপির মুখে চপেটাঘাতের মতো। আরেকটি বিষয় হলো, ধানের শীষ থেকে জয়ী হলেও তিনি বিএনপি বা অন্য কোনো দলে যোগ দেন নি। তিনি বরাবরই নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বলে দাবী করেছেন এবং নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ দাবী করেছেন।
ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করলেও একদিনের জন্যও গা থেকে মুজিব কোট খোলেন নি। এই সময় যেমন কিছু লোক আওয়ামী লীগ পিটিয়ে আলোচনায় আসার চেষ্টা করে ওই সময়ও এ রকম একটি শ্রেণি ছিলো। আমি এদের আদর্শজীবী বলি। হাটে বাজারে মুড়ি মুড়কির দামে যারা আদর্শ বিক্রি করে তারা আদর্শজীবী। এ রকম এক আদর্শজীবী ঘোষণা করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে মুজিব কোট পরতে দেবে না। এরপরও তিনি মুজিব কোট পরা বন্ধ করেন নি। এর কিছুদিন পর সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মুজিব কোট পরে সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত করতে গেলে আলী হাসান নামে ওখানকার এক ছাত্রলীগ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে লাঞ্ছিত করেন ও তার মুজিব কোট খুলে নেন।
আওয়ামী লীগের সময়ে গায়ে একটু বৃষ্টির পানি পড়লেও ৫ আগস্টের পর সে বিশাল নির্যাতিত সেজেছে। জিকে শামীম, রিজেন্ট শাহেদের মতো বাটপার নিজেদের নির্যাতিত দাবী করে। সেখানে ১৫ বছর আওয়ামী লীগে চরম উপেক্ষিত থেকে ও কোনো দলীয় দায়িত্বে না থেকেও নির্যাতিত সাজতে যায় নি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। তার যে ব্যাকগ্রাউন্ড, তাতে তিনি যে কোনো দলে যেতে চাইলে তাকে লুফে নিতো। বিশেষত বিএনপির মতো দল, যেখানে আওয়ামী লীগ থেকে বাদ পড়া সবার স্থান হয়, সেখানেও যায় নি।
জুলাই-আগস্টে তিনি দেশে ছিলেন না। কানাডায় ছিলেন। ৫ আগস্টের পর যখন তিনি কানাডা থেকে দেশে ফেরেন এয়ারপোর্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ২ বছর ধরে তিনি জেল খাটছেন।
আমরা মুখে মুখে বলি, বঙ্গবন্ধু সার্বজনীন, বঙ্গবন্ধু সবার। অথচ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অস্ত্র হাতে নেওয়া যোদ্ধা, যিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, তার গা থেকে মুজিব কোট খুলে নিয়ে আমরা কি অর্জন করেছি? এটা কি ভালো কাজ ছিলো? সব বাদ দিলেও, তিনি এই দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, একেবারে আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ, তার সাথে এ রকম আচরণ কি আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে ছিলো? আদর্শ রক্ষার কথা বলে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের গা থেকে মুজিব খুলে নিয়েছিলো, আদর্শ কতটুকু রক্ষা করতে পেরেছি?
এই সময় এবি জুবায়ের, ইউরেশিয়াম মোসাদ্দেক যা করছে ওই সময় সিলেটের আলী হাসান, মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের আমিনুল ইসলাম বুলবুল একই কাজ করেছে। এতে আওয়ামী লীগের কি উপকার হয়েছে?\
Md Jane Alom's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত