প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ১১:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ৭, ২০২৬, ১২:০২ এ.এম
১৮৫১ প্রতিষ্ঠিত রয়টার্স নাকি শেখ হাসিনার দালাল হয়ে গেছে ?
অনলাইন বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
জুলির মনে ভীষণ কষ্ট। সে তার নিজের প্রোফাইলেই স্ট্যাটাস দিয়েছে—রয়টার্স নাকি সাংবাদিকতা ভুলে গেছে। তারা নাকি সাংবাদিকতা ভুলে শেখ হাসিনার দালাল হয়ে গেছে। তার দাবি, একজন ফাঁসির আসামি, কনভিক্টেড গণহত্যাকারীর ভিডিও কেন তাদের সংবাদমাধ্যমে লাইভ প্রচার করা হলো? এটা নাকি সাংবাদিকতার কোনো নীতির মধ্যেই পড়ে না!
দেখো, জুলি এখন রয়টার্সকে সাংবাদিকতা শেখাচ্ছে।
সে উদাহরণ দিয়েছে, তারেক রহমান যখন দীর্ঘদিন লন্ডনে পালিয়ে ছিলেন, তখন কি রয়টার্স তার কোনো ভিডিও এভাবে লাইভ প্রচার করেছিল?
আমার প্রশ্ন হলো—দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় তারেক রহমান কি কখনো বলেছেন, “আমি এই দিনে দেশে ফিরব। জেল হোক, ফাঁসি হোক—কোনো ব্যাপার না, তারপরও আমি ফিরব”?
এমনকি তার নামে তো কখনো ফাঁসির মামলা ছিল না। শেখ হাসিনার সরকারও তার নামে নতুন কোনো মামলা দেয়নি; যেসব মামলা ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের। সেসব মামলার কয়েকটিতে বিচার হয়েছে, কিন্তু তিনি কখনো ফাঁসির আসামি ছিলেন না। তাহলে ১৭ বছরে তিনি কি একবারও বলেছেন, “আমি দেশে ফিরব”? যদি না বলে থাকেন, তাহলে তার সঙ্গে আরেকজনের তুলনা করছেন কেন?
এমনকি হাসিনা পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার পরেও দুই বছরের ভেতরে সে আসতে পারে নাই এমনকি মায়ের মৃত্যু হয়ে গেছে তখনও আসতে পারে নাই মানুষ জিজ্ঞাসা করছে তখন উনি বলেছে যে আমার আশা না আসা আমার উপরে নির্ভর করতেছে না। একজনের আশা নির্ভর করতেছে অন্যজনের উপরে আরেকজন এসে বলতেছে আমার ফাঁসি হোক আমাকে মেরে ফেলুক তাও কোন সমস্যা নাই তারপরেও আমি যাব। সুতরাং দুইজনার তুলনা করারতে বোকামি।
আপনারা যাকে সাজানো আদালতে একের পর এক ফাঁসির আসামি বানিয়েছেন, তিনি তো তারপরও বলছেন, “আমি আসব।” অথচ আপনারাই তাকে বাধা দিতে চাইছেন। তাহলে কার সঙ্গে কার তুলনা করছেন?
হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনার সরকার তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে বাধা দিয়েছিল—এটা ঠিক। কিন্তু সেটা মূলত প্রচলিত মিডিয়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তো আমরা সব সময়ই তার বক্তব্য শুনেছি। সেখান থেকে বসেই তিনি মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও রাজাকারদের বিচার নিয়ে নানান বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তখন তো কেউ তাকে থামাতে পারেনি। কেউ তো বলেনি, “লন্ডনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” কেউ তো বারবার ব্রিটিশ হাইকমিশনকে ডেকে তার মুখ বন্ধ করার দাবি জানায়নি। তাহলে এটার সঙ্গে ওটার তুলনা কীভাবে হয়?
আপনাদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা যদি অপরাধীই হন, তাহলে তো তিনি দেশে ফিরতে চাইলে আপনাদের খুশি হওয়ার কথা। বরং আপনারাই তার ভিসা-পাসপোর্টসহ সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা ছিল, যাতে দেশে ফিরেই তাকে বিচারের মুখোমুখি করা যায়। কিন্তু বাস্তবে দেখছি, আপনারাই ভয় পেয়ে বলছেন—তিনি আসতে পারবেন না। আবার সেখান থেকে তিনি বক্তব্য দিলেই আপনাদের চেয়ার নড়ে যায়!
অথচ একই সঙ্গে আবার বলেন, আওয়ামী লীগের নাকি সব শেষ, দেশের মানুষ তাদের ভুলে গেছে, তাদের রাজনীতি আর চলবে না। যদি সত্যিই একটি দল শেষ হয়ে যায়, যদি দেশের মানুষ তাদের আর মনে না রাখে, তাহলে এত ভয় কিসের?
একেক সময় একেক রকম কথা বলে আপনারা যে নিজেদের অবস্থানের অসংগতি বারবার প্রকাশ করছেন, সেটা কি খেয়াল করেছেন?
এই জ্ঞান নিয়ে আবার জুলি রয়টার্সকে সাংবাদিকতার পাঠ দিচ্ছেন!
বাহ রে বক্সোড!
Shakhawat Hossain's Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : এম জি কিবরিয়া চৌধুরী
দৈনিক বাংলাদেশ অর্থনীতি ৮৫, নয়াপল্টন (৪র্থ তলা) ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ। মোবাইল: ০১৭১২-৭১৪৪৯৩, ০১৫৩৪-৬৪৬১৪১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত